সাহিত্য পাঠ • সুখ
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী নাফিসা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ‘ফলোয়ার’ বাড়ানোর জন্য সবসময় দামি ব্র্যান্ডের ফোন ও পোশাক কেনার চেষ্টা করে। প্রতিবার নতুন কিছু কেনার পর কয়েকদিন আনন্দ পেলেও খুব শীঘ্রই তার মনে শূন্যতা ফিরে আসে। সে ভাবে, আরেকটু দামি জিনিস হাতে এলেই হয়তো সে সুখী হবে। অথচ তার প্রতিবেশী বৃদ্ধা সালেহা খাতুনের কাজে প্রতিদিন সাহায্য করে এক ছোট্ট ছেলে, আর তাতেই ছেলেটি খুশিতে ভরে ওঠে।
- ক)(1)
কায়কোবাদ রচিত মহাকাব্যটির নাম কী?
- খ)(2)
“এ বিশ্ব যে মরুভূমি”—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
নাফিসার কর্মকাণ্ড ‘সুখ’ কবিতার কোন প্রতীকী ভাবনাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
‘সুখ’ কবিতার কবির পরামর্শের আলোকে নাফিসার জন্য করণীয় কী হতে পারে, তা যুক্তিসহ আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কায়কোবাদ রচিত মহাকাব্যটির নাম ‘মহাশ্মশান’।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মরুভূমি জল, উদ্ভিদ ও প্রাণহীন বিস্তীর্ণ বালুকাময় স্থান। কবি এখানে বিশ্বকে মরুভূমির সঙ্গে তুলনা করেছেন। অর্থ-বিত্ত ও ধন-সম্পদের অধিকারী মানুষ বাইরে ঐশ্বর্য পেলেও তার হৃদয় প্রকৃত সুখ থেকে বঞ্চিত থাকে। বাহ্যিক উপকরণে ভরা এই পৃথিবীতে আত্মিক শান্তি পাওয়া কঠিন বলেই কবি একে মরুভূমি বলেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর নাফিসার কর্মকাণ্ড ‘সুখ’ কবিতার ‘মরীচিকা’ প্রতীকী ভাবনাকে নির্দেশ করে। কবিতায় মরুভূমিতে পথিক জলের আশায় ছুটে বেড়ায়, কিন্তু সেখানে জল মেলে না, বরং মরীচিকা তাকে ছলনা করে। কবি এর মাধ্যমে বুঝিয়েছেন, ধন-রত্ন ও ঐশ্বর্যের পেছনে ছুটলে সুখ পাওয়া যায় না, তা শুধু মোহ সৃষ্টি করে। উদ্দীপকে নাফিসা দামি ফোন ও পোশাকের পেছনে ছুটছে, ভাবছে আরেকটু দামি জিনিস পেলেই সে সুখী হবে। প্রতিবার কেনার পর ক্ষণিক আনন্দের পরই শূন্যতা ফিরে আসা মরীচিকার ছলনারই প্রতিরূপ। অর্থাৎ নাফিসার সুখ খোঁজার এই পদ্ধতি পথিকের মরীচিকার পেছনে ছোটার মতোই বৃথা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘সুখ’ কবিতায় কবি কায়কোবাদ বলেছেন, ধন-রত্ন ও সুখৈশ্বর্যে সুখ নেই, প্রকৃত সুখ পর-উপকারে নিহিত। তাঁর এই পরামর্শের আলোকে নাফিসার জন্য করণীয় নির্ধারণ করা যায়। প্রথমত, নাফিসাকে বুঝতে হবে যে দামি জিনিস কিনে সুখ খোঁজা মরীচিকার পেছনে ছোটারই শামিল। এই বোধ না এলে তার শূন্যতা কখনো কাটবে না। দ্বিতীয়ত, কবির মতে ‘আমিত্ব’কে বলি দিয়ে স্বার্থ ত্যাগ করতে হবে। নাফিসা নিজেকে অন্যের সামনে বড় করে দেখানোর যে প্রবণতা পোষণ করে, তা ত্যাগ করে তাকে অন্যের কল্যাণে মনোযোগ দিতে হবে। তৃতীয়ত, উদ্দীপকে বৃদ্ধা সালেহা খাতুনকে সাহায্য করে ছোট্ট ছেলেটি যে খুশি পায়, নাফিসাও সেই পথ অনুসরণ করতে পারে। অসহায়দের পাশে দাঁড়ালে, পরের অশ্রু মুছালে সে কবির ভাষায় ‘আত্মার ভিতরে’ সুখ খুঁজে পাবে। এভাবে ভোগের বদলে ত্যাগ ও সেবার পথে গেলেই নাফিসার অতৃপ্তি দূর হবে এবং সে প্রকৃত সুখের সন্ধান পাবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও