সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্মের সাথে জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা এবং পেশার সম্পর্ক
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
একটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে ডা. তানভীর মনোবিজ্ঞানী হিসেবে এবং শিলা সমাজকর্মী হিসেবে কাজ করেন। কেন্দ্রে আসা রোগীদের আচরণ দেখে ডা. তানভীর তাদের মানসিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে মনোচিকিৎসা দেন। অন্যদিকে শিলা রোগীর পরিবার ও সমাজে তার ভূমিকা, সম্পর্ক এবং সমষ্টির সম্পদ ব্যবহারের প্রতি গুরুত্ব দেন। শিলা রোগীদের সাথে কথা বলার সময় নিজের আবেগ ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে পেশাগত সম্পর্ক বজায় রাখেন।
- ক)(1)
মনোবিজ্ঞানকে আচরণের বিজ্ঞান হিসেবে প্রথম কে আখ্যায়িত করেন?
- খ)(2)
মনোবিজ্ঞান মানুষের বাহ্যিক আচরণ বিশ্লেষণ করে কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ডা. তানভীর ও শিলার পেশাগত ভূমিকার পার্থক্য পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
শিলার আবেগ ও আচরণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সমাজকর্ম অনুশীলনে মনোবিজ্ঞানের জ্ঞানের গুরুত্ব নির্দেশ করে— বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আমেরিকার আচরণবাদী বিজ্ঞানী জন বি ওয়াটসন (John B. Watson) মনোবিজ্ঞানকে আচরণের বিজ্ঞান হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মনোবিজ্ঞান বাহ্যিক আচরণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে মনোজগৎ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। মানুষ বিশেষ পরিস্থিতিতে কেন বিশেষ আচরণ করে, এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজা এর লক্ষ্য। বাহ্যিক আচরণের পেছনে প্রত্যক্ষণ, প্রেষণা, শিখন, আবেগ, চিন্তন, বুদ্ধি ও ব্যক্তিত্ব প্রভৃতি অভ্যন্তরীণ চালনাশক্তি কাজ করে। এগুলো আবিষ্কার করাই মনোবিজ্ঞানের মূল উদ্দেশ্য, তাই বাহ্যিক আচরণ বিশ্লেষণ করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে মনোবিজ্ঞানী ও সমাজকর্মী একই পেশাগত দলের সদস্য হিসেবে পরস্পরের সহায়ক ও পরিপূরক ভূমিকা পালন করেন। তবে তাঁদের ভূমিকায় পার্থক্য রয়েছে।
ডা. তানভীর মনোবিজ্ঞানী হিসেবে মনোচিকিৎসকের ভূমিকা পালন করেন। উদ্দীপকে তিনি রোগীদের আচরণ দেখে মানসিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে মনোচিকিৎসা দেন।
অন্যদিকে সমাজকর্মী শিলা সেবাগ্রহীতার সামাজিক ভূমিকা, সামাজিক সম্পর্ক এবং সমষ্টি সম্পদ ব্যবহারের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। উদ্দীপকে শিলা রোগীর পরিবার ও সমাজে তার ভূমিকা ও সম্পর্কের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন।
অর্থাৎ মনোবিজ্ঞানী ব্যক্তির মানসিক দিকে মনোযোগী, আর সমাজকর্মী ব্যক্তির সামাজিক ভূমিকা ও পরিবেশের দিকে মনোযোগী। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে শিলা রোগীদের সাথে কথা বলার সময় নিজের আবেগ ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে পেশাগত সম্পর্ক বজায় রাখেন। সমাজকর্ম অনুশীলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো আবেগ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়ায় সমাজকর্মীর অংশগ্রহণ। এ ক্ষমতা অর্জনে মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান অপরিহার্য। সমাজকর্ম অনুশীলনে মনোবিজ্ঞানের গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. নিজের আচরণ সম্পর্কে সচেতনতা: মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান থেকে সমাজকর্মী নিজের আবেগ, অনুভূতি ও আচরণ সম্বন্ধে জানতে পারেন এবং তা সঠিকভাবে পরিচালনা করেন।
২. সেবাগ্রহীতাকে বোঝা: এ জ্ঞান সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির আচরণ সম্বন্ধে অবগত হতে সাহায্য করে, ফলে তার সাথে উপযুক্ত আচরণ ও পেশাগত সম্পর্ক বজায় রাখা যায়। শিলা মাদকাসক্ত রোগীদের আচরণ বুঝেই ধৈর্যের সাথে কাজ করেছেন।
৩. পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন: মনোবিজ্ঞানের পরীক্ষালব্ধ জ্ঞান কল্যাণমূলক পরিকল্পনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সহায়তা করে।
৪. বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োগ: শিশুকল্যাণ, চিকিৎসা, অপরাধ সংশোধন, প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন প্রভৃতি ক্ষেত্রে ব্যক্তিত্বের তত্ত্ব, শিখন তত্ত্ব, প্রেষণা ও প্রত্যক্ষণ সংক্রান্ত জ্ঞান প্রয়োগ করা হয়।
অতএব মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান সমাজকর্মীকে দক্ষ ও কার্যকর সেবা প্রদানে সক্ষম করে, যা সমাজকর্ম অনুশীলনে এর অপরিহার্যতা প্রমাণ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও