সাহিত্য পাঠ • কারবালা-প্রান্তর
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
প্রিয় শিক্ষক আলতাফ স্যারের জানাজায় একাদশ শ্রেণির ছাত্র নাঈম অবাক হয়ে দেখল, ভর দুপুরেও চারপাশ থমথমে নীরব। স্যারের প্রিয় ঘোড়াটি মাঠের এক কোণে দাঁড়িয়ে নিঃশব্দে চোখের জল ফেলছে। হঠাৎ জানাজা শেষে হাজারো মানুষের কণ্ঠে একসঙ্গে ধ্বনি উঠল, “হায় স্যার! হায় স্যার!” তা দূরের গাছপালা ও মাঠে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল।
- ক)(1)
হোসেন কার বক্ষ দেখে দুই হাতে চক্ষু আবরণ করলেন?
- খ)(2)
“জগৎ দেখুক, আমি কী অবস্থায় চলিলাম!” — হোসেন কেন এ কথা বলেছিলেন? বুঝিয়ে লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘোড়াটির আচরণ ও চারপাশের ধ্বনি ‘কারবালা-প্রান্তর’ গদ্যাংশের কোন কোন ঘটনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের সম্মিলিত শোক যেমন একজন শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধার প্রকাশ, তেমনি ইমাম হোসেনের মৃত্যু কেবল একজন বীরের পরাজয় ছিল না, তা ছিল আদর্শের এক অমর প্রতিষ্ঠা।” — ‘কারবালা-প্রান্তর’ গদ্যাংশের আলোকে মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর হোসেন সীমারের বক্ষের প্রতি দৃষ্টিপাত করে দুই হাতে চক্ষু আবরণ করলেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সীমার হোসেনের পিঠের ওপর বসলে তাঁর হাত দুই দিকে ছড়িয়ে পড়ল। তখন তিনি অনুভব করলেন, তিনি নবির দৌহিত্র, মদিনার রাজা ও মহাবীর আলীর পুত্র হয়েও শূন্যহস্তে অস্ত্রাঘাতে প্রাণ হারাচ্ছেন। নিজের এই করুণ অবস্থা পৃথিবীর মানুষ যেন প্রত্যক্ষ করে, সেই বেদনা ও অভিমান থেকে তিনি ওই কথা বলেন। এতে তাঁর গভীর শোক ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব প্রতিবাদ প্রকাশ পেয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে শিক্ষকের প্রিয় ঘোড়ার নিঃশব্দে চোখের জল ফেলা এবং হাজারো মানুষের একযোগে ‘হায় স্যার’ ধ্বনির প্রতিধ্বনি ‘কারবালা-প্রান্তর’ গদ্যাংশের শেষাংশের দুটি ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রথমত, গদ্যাংশে হোসেনের অশ্ব প্রভুকে অস্ত্র ও শিরস্ত্রাণহীন দেখে মহাকষ্টে দুই চক্ষু থেকে অনবরত বাষ্পজল নির্গত করেছিল। উদ্দীপকের ঘোড়ার অশ্রু এর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। দ্বিতীয়ত, হোসেনের শাহাদাতের পর আকাশ, পাতাল, অন্তরীক্ষ, অরণ্য, সাগর, পর্বত ও বায়ু ভেদ করে চতুর্দিক থেকে ‘হায় হোসেন! হায় হোসেন!!’ রব উঠেছিল। উদ্দীপকে ‘হায় স্যার’ ধ্বনির প্রতিধ্বনি এর অনুরূপ। তাই এ দুটি ঘটনায় প্রিয়জনের বিয়োগে পশু ও প্রকৃতিরও শোকবিহ্বলতা ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকে শিক্ষকের মৃত্যুতে হাজারো মানুষের একযোগে শোকধ্বনি প্রমাণ করে, মানুষের হৃদয়ে তাঁর আদর্শ ও ব্যক্তিত্বের স্থান কত গভীর। ইমাম হোসেনের ক্ষেত্রেও একই সত্য প্রযোজ্য। বাহ্যত তাঁর মৃত্যু ছিল পরাজয়ের মতো, কারণ তিনি স্বজনহারা, তৃষ্ণার্ত ও নিরস্ত্র অবস্থায় এজিদ-বাহিনীর বিষাক্ত তিরে আহত হয়ে সীমারের হাতে শহিদ হন। কিন্তু গদ্যাংশে তাঁর পরাজয় নয়, বরং নৈতিক বিজয়ই বড় হয়ে উঠেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি আবদুর রহমানের মতো শ্রেষ্ঠ যোদ্ধাকে পরাস্ত করেছেন, পুরো এজিদ-বাহিনীকে ছত্রভঙ্গ করে ফোরাতকূল মুক্ত করেছেন। জয়ের পরও তিনি নিজে জল পান না করে স্বজনদের কষ্টের কথা স্মরণ করে জল ত্যাগ করেন, যা অসামান্য আত্মত্যাগ। মৃত্যুর মুখে তিনি সীমারকে স্বর্গে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং ঈশ্বরের ওপর ভরসা রাখেন। অন্যদিকে এজিদ নিজে যুদ্ধক্ষেত্রে আসেনি, তার সৈন্যরা ভয়ে লুকিয়েছে এবং শেষে পেছন থেকে আঘাত হেনেছে; এতে তাদের নৈতিক পরাজয় স্পষ্ট। হোসেনের মৃত্যুতে আকাশ-পাতাল, অরণ্য, সাগর, পর্বত থেকে ‘হায় হোসেন’ রব ওঠা প্রমাণ করে, তাঁর আদর্শ বিশ্বব্যাপী শোক ও শ্রদ্ধায় অমর হয়ে আছে। তাই তাঁর মৃত্যু কেবল ব্যক্তিগত পরাজয় নয়, বরং সত্য, ত্যাগ ও মানবিকতার অনন্ত প্রতিষ্ঠা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও