ভূগোল ২য় পত্র • পরিবহন ও যোগাযোগ

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

ইমরান সাহেব বগুড়ার একজন রপ্তানিকারক। তিনি তাঁর কৃষিজাত পণ্য বিদেশে পাঠানোর জন্য খুলনা শহর থেকে ৪৮ কিলোমিটার দূরে পশুর নদীর তীরে অবস্থিত একটি সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করেন। বন্দরটি ১৯৫০ সালের ডিসেম্বর মাসে জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। তিনি জানেন, দেশের মোট রপ্তানি বাণিজ্যের একটি অংশ এই বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়।

  1. ক)

    মংলা সমুদ্রবন্দর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?

    (1)
  2. খ)

    চট্টগ্রাম বন্দরের সম্প্রসারণ ও জেটি নির্মাণ কষ্টসাধ্য কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বন্দরটি গড়ে ওঠার কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    চট্টগ্রাম বন্দর থাকা সত্ত্বেও উদ্দীপকের বন্দরটি দেশের জন্য প্রয়োজনীয়- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মংলা সমুদ্রবন্দর পশুর নদীর তীরে অবস্থিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর চট্টগ্রাম বন্দর কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার অভ্যন্তরে অবস্থিত। দেশের অধিকাংশ আমদানি-রপ্তানি এই একটি বন্দরের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বন্দরে চাপ অনেক বেশি। নতুন জেটি নির্মাণ ও বন্দর সম্প্রসারণের জন্য প্রচুর অর্থ ও উপযুক্ত স্থানের প্রয়োজন হয়, যা সংগ্রহ করা কঠিন। তাই চট্টগ্রাম বন্দরের সম্প্রসারণ ও জেটি নির্মাণ ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত বন্দরটি হলো বাংলাদেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মংলা বন্দর, যা খুলনা শহর থেকে ৪৮ কিলোমিটার দূরে পশুর নদীর তীরে অবস্থিত। বন্দরটি গড়ে ওঠার কারণগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো।
    ১. আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ বৃদ্ধি: দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ক্রমাগত বাড়তে থাকায় একটি বন্দরের পক্ষে সব চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই অতিরিক্ত একটি সমুদ্রবন্দরের প্রয়োজন দেখা দেয়।
    ২. উত্তরবঙ্গ থেকে চট্টগ্রামে পণ্য পরিবহনের কষ্ট: উদ্দীপকের ইমরান সাহেবের মতো উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ীদের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য পরিবহন কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে মংলা বন্দর হওয়ায় এই অঞ্চলের পণ্য সহজে পাঠানো যায়।
    ৩. চট্টগ্রাম বন্দরের সম্প্রসারণের অসুবিধা: চট্টগ্রাম বন্দরের সম্প্রসারণ ও জেটি নির্মাণ ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য বলে বিকল্প বন্দর হিসেবে মংলা গড়ে ওঠে।
    এসব কারণেই মংলা সমুদ্রবন্দর গড়ে উঠেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের বন্দরটি মংলা সমুদ্রবন্দর। চট্টগ্রাম দেশের প্রধান বন্দর হলেও মংলা বন্দরের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না, যা নিচের আলোচনায় স্পষ্ট হবে।
    ১. রপ্তানি বাণিজ্যে অবদান: বাংলাদেশের মোট রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৩% এই বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এর ফলে ইমরান সাহেবের মতো ব্যবসায়ীরা সহজে রপ্তানিযোগ্য পণ্য সমুদ্রপথে বিদেশে পাঠাতে পারেন এবং চট্টগ্রামের ওপর চাপ কমে।
    ২. কৃষি ও শিল্পের উন্নয়ন: এ বন্দরের মাধ্যমে কৃষিজাত দ্রব্য বিদেশে রপ্তানি করা হয় বলে এটি কৃষির উন্নতিতে সহায়ক। আবার শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও খাদ্যশস্য এই বন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়।
    ৩. স্বল্প ব্যয়ে পণ্য পরিবহন: অভ্যন্তরীণ নদী বন্দরসহ এ বন্দরের মাধ্যমে স্বল্প মূল্যে পণ্য আনা এবং আমদানিকৃত পণ্য দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
    ৪. কর্মসংস্থান: বন্দরকে কেন্দ্র করে বহু মানুষ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে।
    সুতরাং দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের বাণিজ্য সহজ করা, চট্টগ্রামের চাপ কমানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মংলা বন্দর অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও