সাহিত্য পাঠ • সোনার তরী

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

ভাদ্র মাসের এক বিকেলে আরিফ মিয়া নদীর চরে তার তিন বিঘা জমির পাকা আউশ ধান কেটে স্তূপ করেছে। উজান থেকে ঢল নামায় চারদিকে পানি বাড়ছে, আশপাশে কেউ সাহায্য করতে আসেনি। হঠাৎ দূরে এক মহাজনের নৌকা দেখে সে হাত নেড়ে নৌকাটি থামাতে বলে। মহাজন তার সব ধান নৌকায় তুলে নেয়, কিন্তু আরিফের জন্য জায়গা না থাকায় তাকে চরেই ফেলে চলে যায়।

  1. ক)

    ‘সোনার তরী’ কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?

    (1)
  2. খ)

    “ভরা নদী ক্ষুরধারা খরপরশা”— বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আরিফ মিয়ার সাথে ‘সোনার তরী’ কবিতার কৃষকের সাদৃশ্য নিরূপণ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকে ‘সোনার তরী’ কবিতার ভাব আংশিকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে”— মন্তব্যটি যুক্তিসহ বিচার করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘সোনার তরী’ কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আলোচ্য চরণে বর্ষায় ভরা নদীর প্রবল ও বিপজ্জনক স্রোতের কথা বলা হয়েছে। ‘ক্ষুরধারা’ অর্থ ক্ষুরের মতো ধারালো স্রোত এবং ‘খরপরশা’ অর্থ ধারালো বর্শার মতো। অর্থাৎ নদীর স্রোত এতই তীব্র ও ধারালো যে তা কূলের ছোট খেতটুকুকে যেকোনো মুহূর্তে গ্রাস করতে পারে। এর মাধ্যমে কৃষকের আশঙ্কা ও পরিস্থিতির ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের আরিফ মিয়া ও ‘সোনার তরী’ কবিতার কৃষকের মধ্যে পরিস্থিতিগত ও মানসিক বহু সাদৃশ্য রয়েছে। কবিতায় কৃষক বর্ষার ভরা নদীর মাঝে ছোট খেতে একা বসে ফসল কেটে স্তূপ করেছে এবং ঢলের আশঙ্কায় উৎকণ্ঠিত। উদ্দীপকেও আরিফ বাড়ন্ত পানির মাঝে নদীর চরে একা ধান কেটে স্তূপ করেছে। কবিতার কৃষক যেমন নৌকা দেখে তা কূলে ভেড়াতে অনুনয় করে, আরিফও তেমনি মহাজনের নৌকা থামাতে হাত নাড়ে। দুজনের সব ফসলই নৌকায় তুলে নেওয়া হয়, অথচ দুজনেই নৌকায় স্থান না পেয়ে নদীর তীরে পড়ে থাকে। এই একাকিত্ব, আশঙ্কা ও পরিণতিতে উদ্দীপক ও কবিতা সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। ‘সোনার তরী’ কবিতায় বাহ্য ঘটনার আড়ালে রয়েছে গভীর জীবনদর্শন। কবিতায় ছোট খেত মানুষের সীমিত জীবনপরিধির প্রতীক, ‘সোনার ধান’ শিল্পস্রষ্টার সৃষ্টিসম্ভার, ‘বাঁকা জল’ অনন্ত কালস্রোত এবং নৌকার মাঝি নির্মম মহাকালের প্রতীক। কবিতার মূল বক্তব্য হলো, মহাকালের স্রোতে স্রষ্টার ব্যক্তিসত্তা ও শারীরিক অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়, কিন্তু তাঁর সৃষ্টি চিরায়ত শিল্পলোকে ঠাঁই পায় এবং বেঁচে থাকে। উদ্দীপকে আরিফ মিয়ার ঘটনা বাহ্য চিত্রে কবিতার সাথে মিলে যায়। সেখানেও একা কৃষক, ঢলের আশঙ্কা, নৌকায় ধান তুলে দেওয়া এবং নিজে বাদ পড়ার ঘটনা আছে। কিন্তু উদ্দীপকের মহাজন কেবল একজন সাধারণ মানুষ, সে মহাকালের প্রতীক নয়। আরিফের ধান সাধারণ ফসল, তা শিল্পসৃষ্টির প্রতীক নয়, আর তার ঘটনায় সৃষ্টির অমরতা ও স্রষ্টার বিস্মৃতির দার্শনিক ব্যঞ্জনাও নেই। তাই উদ্দীপকে কবিতার কেবল কাহিনিগত ও বাহ্য দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে, গভীর প্রতীকী ও জীবনদার্শনিক ভাবটি অনুপস্থিত। সুতরাং মন্তব্যটি যুক্তিসংগত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও