বাংলা ১ম পত্র • ছায়াবাজি
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
শিল্পী মজিদ গ্রামের মেলায় বসে ছবি আঁকেন—ভোরের কুয়াশা, কড়া রোদে জ্বলা মাঠের ছায়া, ঝড়ের আগে মেঘের রং। পথচলতি লোকেরা বলে, “এসব এঁকে কি পেট ভরে?” মজিদ কারও কথায় কান দেন না, কেবল রং আর তুলি নিয়ে মগ্ন থাকেন। তাঁর মৃত্যুর অনেক বছর পর সেই ছবিগুলো জাদুঘরে স্থান পায় এবং দর্শকেরা মুগ্ধ হয়ে দেখে।
- ক)(1)
সুকুমার রায় কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
- খ)(2)
“গাছের ছায়া ছটফটিয়ে এদিক ওদিক চায়”—চরণটি বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
“এসব এঁকে কি পেট ভরে?”—লোকেদের এ মনোভাবের সঙ্গে ‘ছায়াবাজি’ কবিতার কোন বক্তব্যের সংযোগ রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“ছায়া এখানে শিল্পের অমরাত্মা হিসেবে বিবেচিত”—উক্তিটির আলোকে শিল্পী মজিদের জীবনকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সুকুমার রায় ময়মনসিংহ জেলার মশুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কবি কল্পনা করেছেন, গাছের ছায়া শান্ত হয়ে মাটিতে শুয়ে থাকে না। ছায়া ছটফট করে এবং কাউকে কাছে না পেয়ে এদিক-ওদিক তাকায়। এখানে ছায়াকে প্রাণীর মতো জীবন্ত ও অস্থির করে দেখানো হয়েছে। এতে কবিতার আজগুবি ও কৌতুকপূর্ণ কল্পনার পরিচয় পাওয়া যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর লোকেদের এ মনোভাবের সঙ্গে ‘ছায়াবাজি’ কবিতার “কেউ জানে না এসব কথা কেউ বোঝে না কিছু” বক্তব্যের সংযোগ রয়েছে। কবিতায় কবি ছায়া ধরার ব্যবসা করেন, কিন্তু সাধারণ মানুষ এর গুণ বা মূল্য বোঝে না। কেউ তাঁর মতো ছায়ার পিছু পিছু ঘোরে না। উদ্দীপকে শিল্পী মজিদ ভোরের কুয়াশা, মাঠের ছায়া ও মেঘের রং আঁকেন। পথচলতি মানুষ এই শিল্পকর্মের মূল্য না বুঝে কেবল পেট ভরার হিসাব করে। দুই ক্ষেত্রেই শিল্পসাধকের কাজকে সাধারণ মানুষ গুরুত্ব দেয় না। এটাই দুইয়ের সংযোগ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘ছায়াবাজি’ কবিতাটি রূপক। এখানে ক্ষণস্থায়ী ও অধরা ছায়া শিল্পের অমরাত্মার প্রতীক, যা মানুষের চোখে মূল্যহীন মনে হলেও আসলে মহামূল্যবান। ১. অধরাকে ধরার সাধনা: কবি যেমন ছায়ার পিছু পিছু ঘুরে ছায়া ধরেন, মজিদও কুয়াশা, মাঠের ছায়া ও মেঘের রংয়ের মতো ক্ষণস্থায়ী দৃশ্যকে ছবিতে ধরে রাখেন। ২. সমাজের উপেক্ষা: কবিতায় কেউ কবির কথা বোঝে না। উদ্দীপকেও মানুষ মজিদের কাজকে অকেজো ভাবে। ৩. অমরত্ব: শিল্পীর মৃত্যুর পরও তাঁর ছবি জাদুঘরে টিকে থাকে এবং মানুষকে মুগ্ধ করে। কবিতায় ছায়া যেভাবে যত্নে তুলে রাখা হয়, মজিদের ছবিও তেমনি যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকে। ৪. চটুল ভাবের ভেতরে গভীর সত্য: মজিদের কাজ সাধারণ চোখে তুচ্ছ মনে হলেও তার ভেতরে গভীর সৌন্দর্য ও সত্য আছে। সুতরাং মজিদের জীবন ‘ছায়াবাজি’র রূপক অর্থে শিল্পের অমরত্বকেই প্রতিফলিত করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও