রসায়ন ১ম পত্র • ল্যাবরেটরির নিরাপদ ব্যবহার
রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন
সাদিয়া ব্যবহারিক ক্লাসে একটি টেস্টটিউবে অল্প তরল নিয়ে বুনসেন বার্নারে উত্তপ্ত করছিল। বার্নারের বায়ু নিয়ন্ত্রক বন্ধ থাকায় শিখাটি হলুদ ও উজ্জ্বল ছিল এবং সে একটানা তাপ দিল। ফলে টেস্টটিউবের গায়ে কালো দাগ পড়ল। কাজ শেষে গরম টেস্টটিউবটি সে সঙ্গে সঙ্গে ট্যাপের পানির নিচে ধরলে সেটি ফেটে গেল। এরপর তার বন্ধু একটি প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার ময়লা টেস্টটিউব পরিষ্কার করতে চাইল।
- ক)(1)
বুনসেন বার্নারের জারণ শিখার অপর নাম কী?
- খ)(2)
উত্তপ্ত টেস্টটিউবকে ট্যাপের পানির নিচে আনা যায় না কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
সাদিয়ার টেস্টটিউবে কালো দাগ পড়ল কেন? কোন শিখা ব্যবহার করলে এটি এড়ানো যেত এবং কেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সাদিয়ার বন্ধুর প্যাথলজিক্যাল টেস্টটিউবটি পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার ধাপগুলো ক্রমানুসারে লেখো এবং ধাপগুলোর যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বুনসেন বার্নারের জারণ শিখার অপর নাম অনুজ্জ্বল শিখা (নীলাভ শিখা)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উত্তপ্ত টেস্টটিউব কাচের তৈরি। হঠাৎ ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে এলে কাচের বাইরের অংশ দ্রুত সংকুচিত হয়, কিন্তু ভেতরের অংশ তখনো গরম থাকে। এই অসম সংকোচনের ফলে কাচে চাপ পড়ে এবং টেস্টটিউব ফেটে যেতে পারে। ফলে এর ভেতরের পদার্থ ছিটকে পড়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই টেস্টটিউব ঠান্ডা হওয়ার পরই ধুতে হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বার্নারের বায়ু নিয়ন্ত্রক বন্ধ থাকায় জ্বালানি গ্যাসের দহনের জন্য পর্যাপ্ত বায়ু (অক্সিজেন) প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে গ্যাসের অসম্পূর্ণ দহন ঘটে এবং শিখা হলুদ ও উজ্জ্বল হয়। অসম্পূর্ণ দহনে অদগ্ধ কার্বন কণা উৎপন্ন হয়, যা টেস্টটিউবের গায়ে জমে কালো দাগ সৃষ্টি করে।
বায়ু নিয়ন্ত্রক ঘুরিয়ে বায়ু প্রবেশের পথ আংশিক বা সম্পূর্ণ খুলে দিলে গ্যাস নীলাভ জারণ শিখা বা অনুজ্জ্বল শিখায় জ্বলে। এই শিখায় পর্যাপ্ত বায়ু থাকে বলে জ্বালানি গ্যাসের সম্পূর্ণ দহন ঘটে এবং কোনো কার্বন কণা অবশিষ্ট থাকে না। ফলে টেস্টটিউব, বিকার বা ফ্লাস্কের গায়ে কালির দাগ পড়ে না। এজন্য তাপ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রায় সব সময় জারণ শিখা ব্যবহার করা হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষায় ব্যবহৃত টেস্টটিউব পরিষ্কার করার ধাপসমূহ:
১. প্রথমে ওয়াশিং পাউডার বা তরল ডিটারজেন্ট ও ব্রাশ দিয়ে ঘষে ধোয়া হয় এবং শীতল পানিতে ধুয়ে নেওয়া হয়। ময়লা ও জৈব অবশিষ্টাংশ দূর করাই এর উদ্দেশ্য।
২. এরপর গরম পানিতে ফুটিয়ে ব্রাশ দিয়ে আবার পরিষ্কার করা হয়। উষ্ণ পানি গ্রিজ ও জীবাণু অপসারণে কার্যকর।
৩. পরে ক্রোমিক এসিড দিয়ে ধৌত করা হয়, যাতে অবশিষ্ট জৈব পদার্থ জারিত হয়ে সম্পূর্ণ দূর হয়।
৪. তারপর ডিস্টিল ওয়াটার দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলা হয়, যাতে ট্যাপের পানির আয়ন বা এসিডের চিহ্ন না থাকে।
৫. টেস্টটিউব স্ট্যান্ডে উপুড় করে রেখে পানি ঝরানো হয়।
৬. সবশেষে ওভেনে রেখে শুষ্ক করা হয়। একে স্টেরিলাইজ বলা হয়। এতে জীবাণুমুক্ত ও সম্পূর্ণ শুষ্ক টেস্টটিউব পাওয়া যায়।
গরম অবস্থায় টেস্টটিউব ধরতে হোল্ডার ব্যবহার করতে হয়। এই ধাপগুলো অনুসরণ করলে পরীক্ষার ফলাফল দূষণমুক্ত ও নির্ভরযোগ্য হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও