পদার্থ বিজ্ঞান • কাজ, ক্ষমতা ও শক্তি

পদার্থ বিজ্ঞান প্রশ্ন

একটি দেশে চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে: (১) কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র 800 MW, (২) বায়ু টারবাইন খামার 100 MW, (৩) নদীতে বাঁধ দিয়ে তৈরি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র 250 MW এবং (৪) নিউক্লিয়ার কেন্দ্র 1000 MW। বাঁধ দেওয়ার পর জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উজানে বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে গেছে এবং ভাটির কয়েকটি জেলায় শুষ্ক মৌসুমে তীব্র খরা দেখা দিয়েছে। দেশটির সরকার বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতে কয়লা কেন্দ্রের জায়গায় নিউক্লিয়ার কেন্দ্রের উপর নির্ভরতা আরও বাড়াতে চায়।

  1. ক)

    বৈশ্বিক উষ্ণতা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাঁধ কীভাবে পরিবেশের ক্ষতি করে? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের কেন্দ্রগুলোর মধ্যে নবায়নযোগ্য ও অনবায়নযোগ্য উৎসের মোট ক্ষমতা কত এবং মোট ক্ষমতার কত শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসে?

    (3)
  4. ঘ)

    সরকারের সিদ্ধান্তটি কতটা যুক্তিসঙ্গত? বৈশ্বিক উষ্ণতা ও বাংলাদেশের মতো দেশের উপর এর প্রভাব এবং নিউক্লিয়ার কেন্দ্রের ঝুঁকি বিবেচনা করে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো গ্রিনহাউস গ্যাস পৃথিবীর তাপ ধরে রাখার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বেড়ে যাওয়াকে বৈশ্বিক উষ্ণতা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জলবিদ্যুতের জন্য নদীতে বাঁধ দিলে বাঁধের উজানে বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়ে ভূমি, বন ও জনবসতির ক্ষতি হয়। অন্যদিকে বাঁধের কারণে ভাটির দিকে পানির প্রবাহ কমে যায়। ফলে বাঁধের পরবর্তী এলাকায় তীব্র খরা সৃষ্টি হতে পারে এবং কৃষি ও জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর নবায়নযোগ্য উৎস: বায়ু (100 MW) ও জলবিদ্যুৎ (250 MW)
    নবায়নযোগ্য উৎসের মোট ক্ষমতা =100+250=350 MW= 100 + 250 = 350\ \mathrm{MW}
    অনবায়নযোগ্য উৎস: কয়লা (800 MW) ও নিউক্লিয়ার (1000 MW)
    অনবায়নযোগ্য উৎসের মোট ক্ষমতা =800+1000=1800 MW= 800 + 1000 = 1800\ \mathrm{MW}
    মোট ক্ষমতা =350+1800=2150 MW= 350 + 1800 = 2150\ \mathrm{MW}
    নবায়নযোগ্য উৎসের অংশ =3502150×100%≈16.3%= \frac{350}{2150} \times 100\% \approx 16.3\%
    অতএব, নবায়নযোগ্য উৎস থেকে মোট ক্ষমতার প্রায় 16.3%16.3\% আসে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কয়লা একটি ফসিল জ্বালানি। এতে কার্বন বেশি থাকায় পোড়ালে প্রচুর কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়, যা গ্রিনহাউস গ্যাস। এটি তাপ ধরে রাখে বলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ে, মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ে। এতে বাংলাদেশের মতো নিম্নাঞ্চলের দেশে প্লাবন হয় এবং কৃষিজমি লবণাক্ত হয়। সুতরাং কয়লার ব্যবহার কমানোর সিদ্ধান্ত পরিবেশের জন্য ইতিবাচক।

    নিউক্লিয়ার কেন্দ্রে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হয় না এবং একটি কেন্দ্র থেকেই (এখানে 1000 MW) বিপুল বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। তাই বৈশ্বিক উষ্ণতার দিক থেকে এটি কয়লার চেয়ে ভালো বিকল্প।

    তবে নিউক্লিয়ার কেন্দ্রের বর্জ্য অত্যন্ত তেজস্ক্রিয়। নিরাপদ মাত্রায় আসতে লক্ষ লক্ষ বছর সংরক্ষণ করতে হয়। মানুষের ভুল বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে চেরনোবিল ও ফুকুশিমার মতো বড় দুর্ঘটনা ঘটে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটাতে পারে। অনবায়নযোগ্য হওয়ায় ইউরেনিয়ামও একসময় ফুরাবে।

    উদ্দীপকে নবায়নযোগ্য উৎসের অংশ মাত্র প্রায় 16.3%16.3\%। বায়ু শক্তি পরিবেশের ক্ষতি করে না, জায়গাও নষ্ট করে না। তাই শুধু নিউক্লিয়ার নির্ভরতা বাড়ানো নয়, বায়ুসহ অন্য নবায়নযোগ্য শক্তির অংশ বাড়ানো এবং জলবিদ্যুৎ বাঁধের ক্ষতি কমানোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

    সিদ্ধান্ত: কয়লা কমানোর সিদ্ধান্ত আংশিক যুক্তিসঙ্গত, কিন্তু নিউক্লিয়ারের ঝুঁকি মোকাবিলার উপযুক্ত নিরাপত্তা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য শক্তির সম্প্রসারণসহ একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও