সহপাঠ • ১৯৭১

সহপাঠ প্রশ্ন

এলাকার ত্রাস জামাল মাস্তান বাজারের এক দোকানিকে কয়েকজন বাচ্চাসহ সবার সামনে অপমান ও নির্যাতন করে। তার এক সঙ্গী আপত্তি করলে জামাল বলে, 'এর দরকার আছে। এরপর আমার নাম শুনলেই সবাই ভয়ে কাঁপবে, যা বলব তাই শুনবে।' তারপর সে গ্রামের মাতব্বর দুজনকে নির্যাতনের জায়গার একেবারে কাছে বসিয়ে দেয় যেন তারা পুরো ঘটনাটি দেখতে পায়।

  1. ক)

    মনা কৈবর্তের ছোট ভাইয়ের নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    'আমি নিষ্ঠুরতার একটা নমুনা দেখাতে চাই'- মেজর সাহেব কেন একথা বলেছেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের জামাল মাস্তান যে কারণে মাতব্বর দুজনকে ঘটনাস্থলের কাছে বসিয়েছে, 'জঙ্গল মাঠের খবর ও নিপীড়নের চিত্র' অংশ অবলম্বনে সেই কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'নিষ্ঠুরতার মাধ্যমে ভয় সৃষ্টি করে মেজর এজাজ তার উদ্দেশ্য সফল করতে পারবেন না'- উদ্দীপক ও উপন্যাসাংশের আলোকে মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মনা কৈবর্তের ছোট ভাইয়ের নাম বিরু।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মেজর সাহেব চান গ্রামবাসীর মনে মিলিটারির নামে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করতে। রফিক যখন মনার ছোট ভাইকে শাস্তির আওতায় আনার প্রয়োজন নেই বলে আপত্তি করে, তখন তিনি এ কথা বলেন। তাঁর ধারণা, এমন নিষ্ঠুর দৃশ্য দেখলে মানুষ মিলিটারির নাম শুনেই ভয় পাবে। ভয় পেলে তারা তাঁর সব কথা মেনে চলবে। এই কারণেই তিনি নিষ্ঠুরতার নমুনা দেখাতে চেয়েছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জামাল মাস্তান মাতব্বর দুজনকে ঘটনাস্থলের কাছে বসিয়েছে যাতে তারা নির্যাতনের দৃশ্য ভালোভাবে দেখে ভয় পায় এবং পরে তার আদেশ মেনে চলে। উপন্যাসে মেজর সাহেবও একই উদ্দেশ্যে আজিজ মাস্টার ও ইমাম সাহেবকে মনা ও বিরুর শাস্তির জায়গার খুব কাছাকাছি বসানোর নির্দেশ দেন। তাঁর বক্তব্য, দৃশ্যটি দেখার পর এরা হাঁটতে বললে হাঁটবে, দৌড়াতে বললে দৌড়াবে, লাফাতে বললে লাফাবে। অর্থাৎ ভয়ের মাধ্যমে পূর্ণ আনুগত্য আদায়ই এর উদ্দেশ্য। উদ্দীপকের জামালেরও উদ্দেশ্য একই।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মেজর এজাজ মনে করেন নিষ্ঠুরতা দেখালেই মানুষ ভয়ে বশ মানবে এবং ইতিহাস তাঁকে ভুলে যাবে। উদ্দীপকের জামালও একই বিশ্বাস করে। আমার মতে এই ধারণা ভ্রান্ত এবং মন্তব্যটি যথার্থ। ১. সাময়িক ভয়: উপন্যাসে মনাকে শাস্তি দেওয়ার আগেই গ্রামবাসী আতঙ্কে দিশেহারা; আজিজ মাস্টার ভয়ে প্রস্রাব করে ফেলেন, ইমাম সাহেব খুঁড়িয়ে হাঁটেন। এই ভয় সাময়িকভাবে কার্যকর হলেও মানুষের ভেতরে ঘৃণাও জমা হয়। ২. নৈতিক ব্যর্থতা: রফিকের মতো তাঁর নিজের লোকই শিশু বিরুকে শাস্তি দেওয়ার বিরোধিতা করে, অর্থাৎ নিষ্ঠুরতা তাঁর সহযোগীদের কাছেও অসংগত মনে হয়েছে। ৩. ইতিহাসের বিচার: মেজর আলেকজান্ডারের উদাহরণ দিয়ে বলেন অত্যাচারীরা ইতিহাসে সম্মানিত হন। কিন্তু উপন্যাসে নিরপরাধ মানুষের ওপর এই নৃশংসতা পাঠকের মনে ঘৃণাই সৃষ্টি করে। ৪. উদ্দীপকের অবস্থা: জামালের মতো মাস্তানের ভয়ও স্থায়ী শ্রদ্ধা আনে না; মানুষ সুযোগ পেলেই তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়। সুতরাং নিষ্ঠুরতা দিয়ে স্থায়ী আনুগত্য বা সম্মান আদায় করা যায় না; মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও