‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • জনমত ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

নাটোরের একটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র তানভীর তার বন্ধুদের সাথে আলোচনা করছিল। সে বলল, 'আমার বড় ভাই গত নির্বাচনে প্রথমবার ভোট দিয়েছে। আমাদের গ্রামের দিনমজুর, কৃষক, নারী সবাই ভোট দিয়েছে। আমি মনে করি ধনী-গরিব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে সবার ভোটাধিকার থাকা উচিত।' তার বন্ধু রিপন বলল, 'অশিক্ষিত মানুষ প্রার্থীর যোগ্যতা বিচার না করে আবেগের বশে ভোট দেয়, ফলে অযোগ্যরা নির্বাচিত হয়।'

  1. ক)

    সর্বজনীন ভোটাধিকার কী?

    (1)
  2. খ)

    ভোটাধিকারকে নাগরিকের শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক অধিকার বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে রিপনের বক্তব্যে সর্বজনীন ভোটাধিকারের বিপক্ষে কোন যুক্তিটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তানভীরের মতামতের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে সর্বজনীন ভোটাধিকারের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে নীতিতে রাষ্ট্রের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নর-নারী জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও সম্পদ নির্বিশেষে ভোটাধিকার লাভ করে, তাকে সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আধুনিক রাষ্ট্রে জনগণ সরাসরি শাসনকার্যে অংশ নিতে পারে না। ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে তারা প্রতিনিধি নির্বাচন করে, যারা তাদের পক্ষে শাসনকার্য পরিচালনা করে। এই অধিকারের মাধ্যমেই নাগরিক সরকার গঠন ও পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে এবং জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রকাশ পায়। তাই ভোটাধিকারকে নাগরিকের শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক অধিকার বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে রিপনের বক্তব্যে সর্বজনীন ভোটাধিকারের বিপক্ষে 'মূর্খ বা অযোগ্যদের শাসন প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা' এবং 'শিক্ষাগত যোগ্যতা' সংক্রান্ত যুক্তি প্রকাশ পেয়েছে। এ যুক্তির সমর্থকদের মতে, সর্বজনীন ভোটাধিকার দিলে অশিক্ষিত ও অসচেতন ভোটাররা প্রার্থীদের যোগ্যতা বিচার না করে আবেগের তাড়নায় অযোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচিত করবে। জন স্টুয়ার্ট মিলও বলেছেন, সর্বজনীন ভোটাধিকারের আগে সর্বজনীন শিক্ষা প্রয়োজন, কারণ শিক্ষা ছাড়া জনগণ রাষ্ট্রের জটিল সমস্যা বুঝতে পারে না। রিপনও একই কথা বলেছে যে অশিক্ষিতরা আবেগের বশে ভোট দেয় ও অযোগ্যরা নির্বাচিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর তানভীর ধনী-গরিব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে সবার ভোটাধিকারের পক্ষে মত দিয়েছে, যা সর্বজনীন ভোটাধিকারের নীতির সাথে সংগতিপূর্ণ। এ নীতির পক্ষে প্রধান যুক্তিসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো। ১. গণ-সার্বভৌমত্বের বাস্তবায়ন: গণতন্ত্রে জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের মাধ্যমেই এই সার্বভৌমত্ব বাস্তবায়িত হয়। ২. সমানাধিকারের নিশ্চয়তা: এ নীতিতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করে, কারও জন্য বিশেষ সুবিধা থাকে না। উদ্দীপকে দিনমজুর, কৃষক ও নারী সবার ভোট দেওয়া এর প্রমাণ। ৩. সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা রোধ: সবার ভোটাধিকার থাকলে সরকার জনস্বার্থবিরোধী নীতি নিলে জনগণ পরবর্তী নির্বাচনে তাদের প্রত্যাখ্যান করতে পারে। ৪. রাজনৈতিক শিক্ষার বিস্তার: নির্বাচনে দলগুলোর কর্মসূচি জেনে সর্বস্তরের মানুষ রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয়। ৫. শান্তি-শৃঙ্খলা: কোনো শ্রেণিকে বঞ্চিত করা হলে অসন্তোষ ও বিদ্রোহের আশঙ্কা থাকে, যা এ নীতিতে কমে। উপসংহার: রিপনের আশঙ্কা থাকলেও শিক্ষার প্রসার ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তা কমানো সম্ভব। তাই গণতন্ত্রের বিকাশ ও জনগণের অধিকার রক্ষায় তানভীরের মত যুক্তিসংগত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও