সাহিত্য পাঠ • একটি তুলসী গাছের কাহিনি

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

নদীভাঙনের শিকার আলমগীর সাহেব পরিবারসহ শহরের একটি সরকারি খাসজমিতে ঘর তুলেছেন। সম্প্রতি সিটি করপোরেশন থেকে নোটিশ আসে, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে জায়গা ছেড়ে দিতে হবে।’ বাসিন্দারা প্রথমে ক্ষোভে ফেটে পড়ে, কিন্তু পরে সবাই চুপসে যায়। রাস্তার ওপারে ভিড় করে কিছু লোক তামাশা দেখছিল। কর্তৃপক্ষ পরে বাসিন্দাদের জন্য সাময়িক আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা করে।

  1. ক)

    পুলিশ দলের নেতা দখলকারীদের কত ঘণ্টার মধ্যে বাড়ি ছাড়তে বলেছিল?

    (1)
  2. খ)

    ‘অন্যের অপমান দেখার নেশা বড় নেশা।’—কথাটি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ঘটনাটি ‘একটি তুলসী গাছের কাহিনি’ গল্পের কোন অংশের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ‘উদ্দীপকের বাসিন্দারা উচ্ছেদের পরও আশ্রয় পেয়েছে, কিন্তু গল্পের চরিত্রদের সামনে সেই নিশ্চয়তা ছিল না; ফলে তাদের মনে নেমেছে গভীর ছায়া।’—বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পুলিশ দলের নেতা দখলকারীদের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে বাড়ি ছাড়তে বলেছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পুলিশ যখন বাড়ি দখলকারীদের উচ্ছেদের নির্দেশ দিচ্ছিল, তখন রাস্তায় কিছু লোক জড়ো হয়ে সেই দৃশ্য দেখছিল। অন্যের লাঞ্ছনা ও দুর্দশা দেখে এক ধরনের আনন্দ পাওয়া মানুষের মনের হীন প্রবৃত্তি। লেখক একে নেশার সঙ্গে তুলনা করেছেন, কারণ নেশার মতোই এটি মানুষকে টেনে রাখে। এর মাধ্যমে মানুষের পরশ্রীকাতরতা, হুজুগপ্রিয়তা ও সহমর্মিতার অভাব প্রকাশ পেয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ঘটনাটি গল্পের পুলিশ কর্তৃক দখলকারীদের উচ্ছেদ করার অংশের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। উদ্দীপকে আলমগীর সাহেব সরকারি খাসজমিতে ঘর তুলেছেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জায়গা ছাড়ার নোটিশ পেয়েছেন। গল্পেও মতিনরা পরিত্যক্ত বাড়ি দখল করে বাস করছিল। হঠাৎ পুলিশ এসে জানায়, সরকার বাড়িটি রিকুইজিশন করেছে, তাই চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে বাড়ি ছাড়তে হবে। উভয় ক্ষেত্রেই বাসিন্দারা প্রথমে ক্ষুব্ধ হয়, বিদ্রোহী কথা বলে, পরে নিরুপায় হয়ে নীরব হয়ে যায়। রাস্তার ওপারে তামাশা দেখা লোকজনও গল্পের রাস্তায় জড়ো হওয়া লোকের মতো।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে উচ্ছেদ নোটিশ পেলেও কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের জন্য সাময়িক আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা করেছে। তাই তাদের সামনে একটি বিকল্প আছে এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা তুলনামূলক কম। গল্পের চরিত্রদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। তারা ছিল দেশভাগের ফলে কলকাতা থেকে আসা উদ্বাস্তু কেরানি। ম্যাকলিওড স্ট্রিট বা কমর খানসামা লেনের মতো ঘিঞ্জি পাড়ায় ফিরে যাওয়া তাদের কাছে ছিল কঠিন। উচ্ছেদের কথা শুনে প্রথমে তাদের মাথায় খুন চড়ে এবং তারা বলে, তারা কোথাও যাবে না, ঘরের খুঁটি ধরে পড়ে থাকবে। কিন্তু মাথা ঠান্ডা হওয়ার পর প্রকাণ্ড বাড়িতে অপর্যাপ্ত আলো-বাতাস থাকা সত্ত্বেও একটি গভীর ছায়া নেমে আসে, কারণ প্রশ্ন ওঠে, ‘কোথায় যাবে তারা?’ পরদিন মেয়াদ সাত দিন হওয়ায় তারা সাময়িক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও সেই ঘন ছায়া নিবিড় হয়েই থেকে যায়। দশম দিনে তারা ঝড়ের মতোই বাড়ি ছেড়ে চলে যায়, পিছনে পড়ে থাকে কেবল ছেঁড়া কাগজ ও জুতোর গোড়ালি। অর্থাৎ আশ্রয়ের নিশ্চয়তার অভাবই গল্পের চরিত্রদের হতাশা ও আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ কারণে মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও