ভূগোল ১ম পত্র • জীবমণ্ডল
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
সোহেল সাহেবের গ্রামে একটি বড় ও গভীর জলাশয় আছে। জলাশয়ের কিনারার উষ্ণ অংশে শৈবাল, কলমি ও শাপলা জন্মে এবং সেখানে ব্যাঙ, কচ্ছপ ও শামুক থাকে। মাঝের ওপরের আলোকিত অংশে ভাসমান অতি ক্ষুদ্র উদ্ভিদ ও প্রাণী এবং ছোট মাছ বাস করে। তলদেশের অংশে আলো খুব ক্ষীণ, পানি ঠান্ডা ও ঘন এবং সেখানকার প্রাণীরা মৃতদেহ খেয়ে বাঁচে। গ্রীষ্মকালে জলাশয়ের উপরিভাগের তাপমাত্রা ২২° সে. হলেও তলদেশে তা ৪° সে.।
- ক)(1)
থার্মোক্লাইন কী?
- খ)(2)
হ্রদ ও পুকুরের জীববৈচিত্র্য সীমিত কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত জলাশয়ের অঞ্চলগুলো ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের জলাশয়ের মাঝের আলোকিত অঞ্চলটি ধ্বংস হয়ে গেলে সম্পূর্ণ জলাশয়ের ইকোসিস্টেমে কী প্রভাব পড়বে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর হ্রদ বা পুকুরের উপরিভাগ ও তলদেশের মাঝে অবস্থিত যে স্তরে তাপমাত্রা দ্রুত পরিবর্তিত হয়, তাকে থার্মোক্লাইন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর হ্রদ ও পুকুর অন্যান্য জলাশয় থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে। ফলে অন্য জলাশয় থেকে নতুন প্রজাতির জীবের আগমন সীমিত হয়। এছাড়া এদের আয়তন ও গভীরতা কম-বেশি হয়ে থাকে এবং অনেক পুকুর বর্ষাকালে শুকিয়েও যায়। এসব কারণে হ্রদ ও পুকুরে সীমিত সংখ্যক প্রজাতির জীব বাস করতে পারে, তাই এদের জীববৈচিত্র্য সীমিত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের জলাশয়টি হ্রদ বা গভীর পুকুরের বায়োম, যেখানে আনুভূমিকভাবে তিনটি অঞ্চল দেখা যায়:
১. লিটোরাল অঞ্চল: জলাশয়ের কিনারার উষ্ণ অঞ্চল এটি। এখানে বিভিন্ন শৈবাল, মূলাবদ্ধ ও ভাসমান উদ্ভিদ জন্মে। প্রাণীদের মধ্যে ক্ল্যাম, ক্রাস্টেশিয়ান, মাছ ও উভচর এবং পতঙ্গের মধ্যে ড্রাগন ফ্লাই ও মিজেস বাস করে। এখানকার উদ্ভিদ ও প্রাণী ডাহুক, সাপ ও কচ্ছপের খাদ্য।
২. লিমনেটিক অঞ্চল: হ্রদের উপরের মুক্ত অঞ্চল এটি। অঞ্চলটি আলোকিত। এখানে প্রধানত ফাইটোপ্লাঙ্কটন ও জুপ্লাঙ্কটন এবং কিছু ক্ষুদ্রাকার মাছ থাকে। প্লাঙ্কটনের কারণে এ অঞ্চল খাদ্যশৃঙ্খলে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
৩. প্রোফান্ড অঞ্চল: হ্রদের নিচের ক্ষীণ আলোকিত অঞ্চল এটি। এখানকার পানি ঠান্ডা ও বেশি ঘন। এখানকার প্রাণীগুলো পরভোজী প্রকৃতির এবং মৃতদেহ ভক্ষণ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের মাঝের আলোকিত অঞ্চলটি হলো লিমনেটিক অঞ্চল। এখানে ফাইটোপ্লাঙ্কটন ও জুপ্লাঙ্কটন থাকে এবং এ অঞ্চল জলাশয়ের খাদ্যশৃঙ্খলে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এ অঞ্চল ধ্বংস হলে জলাশয়ের ইকোসিস্টেমে নিম্নরূপ প্রভাব পড়বে:
১. উৎপাদকের অভাব: ফাইটোপ্লাঙ্কটন জলাশয়ের প্রধান উৎপাদক। এরা নষ্ট হলে খাদ্যশৃঙ্খলের প্রথম ধাপটিই ভেঙে পড়বে এবং জুপ্লাঙ্কটন ও ক্ষুদ্র মাছ খাদ্য হারাবে।
২. কিনারার অঞ্চলে প্রভাব: লিটোরাল অঞ্চলের মাছ, উভচর ও ক্রাস্টেশিয়ান প্রাণীর খাদ্যশৃঙ্খলও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে ডাহুক, সাপ ও কচ্ছপের মতো পরবর্তী খাদকদের সংখ্যা কমে যেতে পারে।
৩. তলদেশের অঞ্চলে প্রভাব: প্রোফান্ড অঞ্চলের প্রাণীরা মৃতদেহ খেয়ে বাঁচে। ওপরের অঞ্চলে জীবের সংখ্যা কমলে মৃত জীবদেহের সরবরাহ কমে যাবে, ফলে তলদেশের প্রাণীরাও খাদ্য সংকটে পড়বে।
৪. সামগ্রিক ভারসাম্য নষ্ট: তিনটি অঞ্চল পরস্পর খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে সম্পর্কিত। তাই একটি অঞ্চলের ধ্বংসে পুরো ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং জীববৈচিত্র্য আরও কমে যাবে।
অতএব, লিমনেটিক অঞ্চল ধ্বংস হলে সম্পূর্ণ জলাশয়ের জীবসম্প্রদায় মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও