সাহিত্য পাঠ • সৌদামিনী মালো

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

পিয়ন হাশেম আলি অফিসের বড় কর্তাদের তোষামোদ করে বখশিস পেয়ে বেশ জমিজমা করেছেন। কিন্তু তাঁর কোনো সন্তান নেই। তাই বংশ রক্ষার জন্য তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করবেন বলে মনস্থির করলেন। স্ত্রী রহিমা সতীন মেনে নিতে পারেননি। বিয়ের কথাবার্তার মধ্যেই হঠাৎ হাশেম আলি মারা গেলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর রহিমা জমিজমা বিক্রি করে ভাইয়ের বাড়িতে চলে যান।

  1. ক)

    জগদীশ মালোর পেশা কী ছিল?

    (1)
  2. খ)

    “দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল”—প্রবাদটি সোদামিনীর ক্ষেত্রে কীভাবে প্রযোজ্য, ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের হাশেম আলির সঙ্গে ‘সোদামিনী মালো’ গল্পের জগদীশ মালোর সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “স্বামীর মৃত্যুর পর রহিমা ও সোদামিনীর সিদ্ধান্ত এক নয়।”—‘সোদামিনী মালো’ গল্পের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জগদীশ মালোর পেশা ছিল আরদালি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রবাদটির অর্থ হলো খারাপ জিনিস থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো। জগদীশের মৃত্যুর পর গ্রামে রটে, সোদামিনীই তাকে বিষ খাইয়েছে। এ প্রসঙ্গে নাসির মোল্লা অনুমান করেন, সতীন বা সতীনের ছেলে আসবে—তা সোদামিনী মন থেকে মেনে নিতে পারেনি। তাই তার কাছে দ্বিতীয় বিয়ে করা স্বামীর চেয়ে স্বামীহীন জীবন ভালো মনে হয়েছিল। প্রবাদটি দিয়ে সোদামিনীর এই মনোভাবই বোঝানো হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের হাশেম আলির সঙ্গে জগদীশ মালোর পেশা, ধনসঞ্চয়ের পথ, সন্তানহীনতা ও আকস্মিক মৃত্যুতে অনেক সাদৃশ্য আছে। জগদীশ ছিল আরদালি এবং প্রভুর মন জুগিয়ে চলার শিল্পে দক্ষ। ফলে বখশিস ও উপরি আয়ে সে দু-চার বিঘা জমি-জিরেত করেছিল। সন্তান না থাকায় তার দুঃখ ছিল এবং বংশ রক্ষার জন্য সে দ্বিতীয় বিয়ে করতে চেয়েছিল। কিন্তু বর সাজার আগেই সে হঠাৎ মারা যায়। উদ্দীপকের হাশেম আলিও পিয়ন; তিনি তোষামোদ করে বখশিস পেয়ে জমিজমা করেন, সন্তান না থাকায় দ্বিতীয় বিয়ে স্থির করেন এবং বিয়ের কথাবার্তার মধ্যেই মারা যান। তাই দুজনের জীবনের ছক প্রায় এক।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর স্বামীর মৃত্যুর পর রহিমা ও সোদামিনীর সিদ্ধান্ত এক নয়—উক্তিটি যথার্থ। উদ্দীপকে রহিমা স্বামীর মৃত্যুর পর জমিজমা বিক্রি করে ভাইয়ের বাড়িতে চলে যান, অর্থাৎ নিজের সংসার ও সম্পত্তি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয় বেছে নেন। অন্যদিকে গল্পে জগদীশের মৃত্যুর পর সোদামিনী একা হয়েও সম্পত্তি ছাড়েনি। সে হুঁশিয়ার মেয়ে ছিল এবং তেজ ছিল তার প্রবল। গ্রামের কয়েকজন পুরুষ কুদৃষ্টি দিলেও সে গোপনেও জগদীশের বউ হয়েই থাকল, কেউ তাকে অপবাদ দিতে পারেনি। জ্ঞাতি দেবর মনোরঞ্জনের নানা কৌশল ও হুমকির মুখেও সে বন্দুক ও অনুগত চাষিদের সহায়তায় নিজের বাড়ি আগলে রাখে। এমনকি পরে সে পোষ্যপুত্র এনে সংসার সাজিয়ে তোলে। ফলে সোদামিনী আত্মরক্ষা ও আত্মনির্ভরতার পথ বেছে নিয়েছিল, আর রহিমা বেছে নিয়েছেন পলায়নের পথ। সুতরাং দুজনের সিদ্ধান্ত ও চরিত্রের পার্থক্য স্পষ্ট।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও