সহপাঠ • ১৯৭১

সহপাঠ প্রশ্ন

রহমত আলী গ্রামের অত্যাচারী জমিদার সোলায়মান চৌধুরীর লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্য। প্রথমদিকে সে মনিবের আদেশ মেনে চললেও নিরীহ প্রজাদের ঘরবাড়ি জ্বালানো ও নির্যাতন দেখে তার মনে অনাস্থা জন্মায়। একদিন সে সবার সামনে জমিদারকে বলে, 'এ অন্যায়ের অংশীদার আমি আর হব না।' তার সাহস দেখে ভীত প্রজারা মাথা তুলে দাঁড়ায়।

  1. ক)

    রফিক কার সহযোগী হিসেবে নীলগঞ্জ গ্রামে প্রবেশ করেছিল?

    (1)
  2. খ)

    রফিককে প্রতীকী চরিত্র বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    রহমত আলীর মানসিক পরিবর্তনের ধাপগুলো রফিকের রূপান্তরের ধাপের সঙ্গে মিলিয়ে ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'রহমত আলীর প্রতিবাদে কেবল একজন ব্যক্তির পরিবর্তন প্রকাশ পেয়েছে, কিন্তু রফিকের প্রতিবাদ একটি জাতির রূপান্তরের প্রতীক।'- মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রফিক মেজর এজাজ আহমেদের সহযোগী হিসেবে নীলগঞ্জ গ্রামে প্রবেশ করেছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রফিক কখনো নীলগঞ্জে আসেনি, অথচ সে গ্রামের রাস্তাঘাট, মানুষ ও প্রকৃতিকে এমনভাবে চেনে যেন সে এখানকারই লোক। ইমাম তার এলাকা জানতে চাইলে সে জবাব দেয়নি, আর 'আমরা' বলে বাংলাদেশের মানুষের প্রতিনিধি হয়ে কথা বলেছে। এভাবে সে বাংলাদেশের যেকোনো গ্রামের যেকোনো রফিকে পরিণত হয়েছে। তাই তাকে প্রতীকী চরিত্র বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রথম ধাপ: রহমত আলী প্রথমে জমিদারের আদেশ মেনে লাঠিয়াল হিসেবে কাজ করে। তেমনি রফিক মেজর এজাজের সহযোগী হিসেবে নীলগঞ্জে প্রবেশ করে।

    দ্বিতীয় ধাপ: নিরীহ প্রজাদের ওপর নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগ দেখে রহমতের অনাস্থা জন্মায়। রফিকও শুরু থেকেই অন্যায় নিপীড়নের ব্যাপারে নিজের অনাস্থা জানিয়ে এসেছে, কারণ সে যুদ্ধ করতে চেয়েছিল, নিরীহ মানুষের ওপর অত্যাচার নয়।

    তৃতীয় ধাপ: রহমত আলী প্রকাশ্যে জমিদারের মুখের ওপর বলে দেয়, সে আর অন্যায়ের অংশীদার হবে না। রফিকও যখন নিশ্চিত হয় এটা যুদ্ধ নয়, অন্যায় যুদ্ধ, তখন ভয়হীন হয়ে মেজর এজাজের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানায়।

    শেষ ধাপ: রহমতের সাহস দেখে প্রজারা মাথা তুলে দাঁড়ায়। রফিকের বিলের পানিতে নেমে যাওয়ার দৃশ্যের মধ্য দিয়ে এক নতুন বাংলাদেশের জন্ম হতে থাকে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকের রহমত আলী অন্যায় দেখে বদলে যায়, প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করে এবং তার সাহসে প্রজারা জেগে ওঠে। তবে সে একটি নির্দিষ্ট জমিদার ও গ্রামের পরিস্থিতিতে একজন বাস্তব ব্যক্তি হিসেবেই চিত্রিত।

    '১৯৭১' উপন্যাসের রফিক ব্যক্তির চেয়ে বেশি প্রতীক। সে কখনো নীলগঞ্জে আসেনি, তবু গ্রামকে চেনে এবং 'আমরা' বলে বাংলাদেশের মানুষের হয়ে কথা বলে। মেজর এজাজ ও তার দোসরদের বহুমাত্রিক নিপীড়ন, অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ড দেখতে দেখতে সে বদলে যায়। কৈবর্তপাড়ায় রাজাকারদের জ্বালানো আগুনের আলো তার মুখে পড়ে, আর সে নির্ভয়ে বিলের পানিতে নামতে থাকে। তখন সে মেজর এজাজের কাছেও অচেনা হয়ে ওঠে। রফিক তার প্রতিবাদ করে জীবন দিয়ে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ যখন বুঝতে শুরু করে যে তাদের সামষ্টিক বেঁচে থাকা ব্যক্তিগত জীবনদানের মধ্য দিয়েই সম্ভব, তখনই যুদ্ধ রূপান্তরিত হয় সর্বব্যাপী মুক্তিযুদ্ধে। এভাবে রফিক বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিশেষ ধরনের প্রতীক হয়ে ওঠে।

    সুতরাং রহমত আলীর পরিবর্তন ব্যক্তিগত ও স্থানীয় স্তরে সীমাবদ্ধ, আর রফিকের রূপান্তর একটি জাতির জেগে ওঠার প্রতীক। মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও