পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • জনমত ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
রাজশাহীর একটি উপজেলায় সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা যায়, বেশিরভাগ মানুষ মনে করে সরকারি কর্মকর্তাদের একাংশ ঘুষ ছাড়া কাজ করে না। তবুও তারা বিশ্বাস করে, নির্দিষ্ট সময় পরপর নির্বাচন হওয়া উচিত এবং জনগণের ভোটে বিজয়ী দলেরই ক্ষমতায় যাওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমান শাসনব্যবস্থার প্রতি তাদের মনোভাব খুবই নেতিবাচক; অনেকেই বলে, 'এই ব্যবস্থার প্রতি আমাদের কোনো আস্থা নেই।'
- ক)(1)
রোজেনবাম কয় ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা বলেছেন?
- খ)(2)
মূল্যবোধের অগ্রাধিকার বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে রাজনৈতিক সংস্কৃতির কোন কোন উপাদান প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'রাজনৈতিক সংস্কৃতির উপাদানগুলোর মধ্যে অসংগতি বিদ্যমান'—উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর রোজেনবাম (Walter A. Rosen Baum) দুই ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা বলেছেন। এগুলো হলো খণ্ডিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও অখণ্ড রাজনৈতিক সংস্কৃতি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মূল্যবোধের অগ্রাধিকার হলো কতকগুলো বিশ্বাস ও অনুভূতির সমষ্টি, যা সরকারি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং ব্যক্তিগত ধ্যানধারণা সম্পর্কিত। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে জনগণের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ও সরকারের কর্মকাণ্ডের সমন্বয়ে এক ধরনের আস্থা ও বিশ্বাস জন্ম নেয়। যেমন- নির্দিষ্ট সময় অন্তর নির্বাচন হবে এবং জনগণের রায়ে বিজয়ী দল ক্ষমতায় যাবে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে রাজনৈতিক সংস্কৃতির তিনটি মৌলিক উপাদানই প্রতিফলিত হয়েছে। ১. অভিজ্ঞতাবাদ বিশ্বাস: রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মানুষের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই বিশ্বাস গড়ে ওঠে। উদ্দীপকে সরকারি কর্মকর্তাদের একাংশ ঘুষ ছাড়া কাজ করে না বলে মানুষের যে ধারণা, তা অভিজ্ঞতাবাদ বিশ্বাসের প্রকাশ। ২. মূল্যবোধের অগ্রাধিকার: নির্দিষ্ট সময় পরপর নির্বাচন হওয়া এবং জনগণের ভোটে বিজয়ী দলের ক্ষমতায় যাওয়ার বিশ্বাস মূল্যবোধের অগ্রাধিকারকে নির্দেশ করে। ৩. সংবেদনশীল অনুভূতি: বিদ্যমান ব্যবস্থার প্রতি জনগণের অনুকূল বা প্রতিকূল মনোভাবকে সংবেদনশীল অনুভূতি বলে। উদ্দীপকে ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা এই প্রতিকূল অনুভূতিরই প্রকাশ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর রাজনৈতিক সংস্কৃতি অভিজ্ঞতাবাদ বিশ্বাস, মূল্যবোধের অগ্রাধিকার ও সংবেদনশীল অনুভূতি—এই তিন উপাদানের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। কিন্তু বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ তিন উপাদানের মধ্যে প্রায়ই সংগতি থাকে না। উদ্দীপকে এই অসংগতিই ফুটে উঠেছে। ১. অভিজ্ঞতা ও মূল্যবোধের অমিল: মানুষ অভিজ্ঞতা থেকে মনে করে প্রশাসনের একাংশ দুর্নীতিগ্রস্ত, অথচ মূল্যবোধের ক্ষেত্রে তারা নিয়মিত নির্বাচন ও জনরায়ের প্রতি আস্থাশীল। অর্থাৎ বাস্তব অভিজ্ঞতা ও আদর্শিক বিশ্বাস একই দিকে নেই। ২. মূল্যবোধ ও অনুভূতির অমিল: জনগণ গণতান্ত্রিক নীতি তথা নির্বাচন ও জনরায়কে সমর্থন করে, কিন্তু বিদ্যমান ব্যবস্থার প্রতি তাদের অনুভূতি নেতিবাচক। ৩. অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির সম্পর্ক: দুর্নীতি-সংক্রান্ত তিক্ত অভিজ্ঞতা বর্তমান ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতার জন্ম দিয়েছে, ফলে ব্যবস্থার প্রতি আনুগত্য দুর্বল হয়েছে, যদিও মূল্যবোধ গণতান্ত্রিক। এভাবে উদ্দীপকে দেখা যায়, তিনটি উপাদান পরস্পরের সঙ্গে পূর্ণ সংগতিপূর্ণ নয়। সুতরাং প্রত্যেক জাতির রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কিছু অসংগতি থাকে—এ বক্তব্য যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও