বাংলা ১ম পত্র • লাইব্রেরি

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

শিমুলতলী গ্রামের ফজলু মিয়ার কাছে প্রয়াত গায়ক শিল্পীদের পুরোনো গানের শত শত ক্যাসেট ও সিডি আছে। সে সেগুলো যত্ন করে সংরক্ষণ করেছে। কোনো সন্ধ্যায় সেই গান বাজালে বহু বছর আগের সুর আবার শোনা যায়। অন্যদিকে তার প্রতিবেশী ছাত্র নাঈম সেই গ্রামেরই পাঠাগারে বসে একই যুগের গীতিকবিদের কবিতার বই পড়ে। সে মনে করে, বইয়ের পাতায় কবির কণ্ঠ, আবেগ ও ভাবনা যেন জীবন্ত হয়ে আছে।

  1. ক)

    ‘শঙ্খ’ শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    “বিদ্যুৎকে মানুষ লোহার তার দিয়া বাঁধিয়াছে, কিন্তু কে জানিত মানুষ শব্দকে নিঃশব্দের মধ্যে বাঁধিতে পারিবে।”—কথাটি বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ফজলু মিয়ার সংরক্ষণ-পদ্ধতির সঙ্গে ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধে বর্ণিত সংরক্ষণের কী মিল ও অমিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “ফজলু মিয়ার ক্যাসেটের চেয়ে নাঈমের বইপাঠ ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের আদর্শের অধিক নিকটবর্তী”—মন্তব্যটি প্রবন্ধের আলোকে মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘শঙ্খ’ শব্দের অর্থ শামুক জাতীয় সামুদ্রিক প্রাণী।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বিদ্যুৎ একটি অদৃশ্য শক্তি, যা মানুষ তামা বা লোহার তারের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখেছে। কিন্তু শব্দ বা মানুষের কণ্ঠস্বরকে বাঁধা আরও বিস্ময়কর। মানুষ শব্দকে লিখিত অক্ষরে রূপ দিয়ে বইয়ের নিস্তব্ধতায় ধরে রেখেছে। লেখক এখানে মানুষের এই অসাধারণ কীর্তি এবং বইয়ের মাধ্যমে ধ্বনি সংরক্ষণের বিস্ময়কর ক্ষমতার কথা বুঝিয়েছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মিল: উদ্দীপকের ফজলু মিয়া ক্যাসেট ও সিডিতে অতীতের শিল্পীদের কণ্ঠ ধরে রেখেছে, যা বাজালে বহু বছর আগের সুর শোনা যায়। ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধেও মানুষ অতীতের কণ্ঠকে বর্তমানে বন্দি করেছে এবং অতীতের মানবকণ্ঠ লাইব্রেরিতে ধরা আছে। দুটিতেই সময়ের ব্যবধান অতিক্রম করে অতীতকে বর্তমানে পাওয়া যায়। অমিল: ফজলু মিয়া ধ্বনিকে ধ্বনি হিসেবেই ধরে রেখেছে। কিন্তু প্রবন্ধে শব্দ, সংগীত, হৃদয়ের আশা ও মানবাত্মার আনন্দ কালো অক্ষরে কাগজের মধ্যে নিঃশব্দে বাঁধা পড়েছে। এ ছাড়া প্রবন্ধের লাইব্রেরিতে শুধু সংগীত নয়, জ্ঞান, বাদ-প্রতিবাদ ও মহাপুরুষদের বাণীর মতো বহুমাত্রিক বিষয় সংরক্ষিত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যুক্তিসংগত। ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের কেন্দ্রে রয়েছে বই ও লাইব্রেরির মাধ্যমে মানবহৃদয় ও জ্ঞানের সংরক্ষণ। ১. মাধ্যমের পার্থক্য: প্রবন্ধে শব্দকে কাগজের অক্ষরে বাঁধা এবং বইকে কালসমুদ্রের সাঁকো বলা হয়েছে। নাঈম বইয়ের মাধ্যমে কবির ভাবনা ও আবেগ পায়, যা প্রবন্ধের ধারণার সরাসরি অনুসারী। ফজলু মিয়ার সংরক্ষণ কেবল শ্রবণযোগ্য, পাঠযোগ্য নয়। ২. হৃদয়ের স্পন্দন: লেখক লাইব্রেরিতে হৃদয়ের উত্থান-পতনের শব্দ শোনার কথা বলেছেন। নাঈমও বইয়ের পাতায় কবির কণ্ঠ ও আবেগ জীবন্ত দেখে। ৩. বহুমাত্রিকতা: লাইব্রেরিতে সকল পথ ও মতের সম্মেলন ঘটে। ফজলু মিয়ার সংগ্রহ কেবল গানে সীমাবদ্ধ, যেখানে প্রবন্ধের লাইব্রেরি বহু বিষয়ের আধার। ৪. সীমাবদ্ধতা: তবে ফজলু মিয়ার সংগ্রহও অতীতকে বর্তমানে ধরে রাখার মূল ভাবনাকে ধারণ করে; এটি সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক নয়। কিন্তু ব্যাপকতা, গভীরতা ও জ্ঞানচর্চার বিচারে নাঈমের বইপাঠই প্রবন্ধের আদর্শের অধিক নিকটবর্তী।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও