জীববিজ্ঞান • জীবনীশক্তি

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

দশম শ্রেণির ছাত্রী রিনা টবে লাগানো একটি সবুজ গাছকে 48 ঘণ্টা অন্ধকার ঘরে রাখল। এরপর সে একটি পাতার মাঝের অংশ উভয় দিক থেকে কালো কাগজ দিয়ে ঢেকে ক্লিপ আটকে গাছটিকে রোদে রাখল। 6-7 ঘণ্টা পর পাতাটি তুলে পানিতে সিদ্ধ করল, তারপর টেস্ট টিউবে অ্যালকোহল নিয়ে বিকারের পানিতে রেখে তাপ দিয়ে পাতাটিকে বিবর্ণ করল। শেষে পাতাটি আয়োডিন দ্রবণে ডোবাল।

  1. ক)

    পরীক্ষায় ব্যবহৃত আয়োডিন দ্রবণের ঘনমাত্রা কত?

    (1)
  2. খ)

    পরীক্ষার শুরুতে গাছটিকে 48 ঘণ্টা অন্ধকারে রাখা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে পাতাটি প্রথমে পানিতে এবং পরে অ্যালকোহলে সিদ্ধ করা হয় কেন এবং অ্যালকোহল পরোক্ষভাবে গরম করা হয় কেন, ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের পরীক্ষার ফলাফল অনুমান কর এবং এর ভিত্তিতে পরীক্ষাটির সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পরীক্ষায় 1% আয়োডিন দ্রবণ ব্যবহার করা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর গাছটিকে 48 ঘণ্টা অন্ধকারে রাখলে আলোর অভাবে সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ থাকে। এ সময়ে পাতায় আগে থেকে জমে থাকা শ্বেতসার গাছ শ্বসনে ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করে ফেলে। ফলে পাতাগুলো শ্বেতসারবিহীন হয়ে যায়। এতে পরে পাতায় শ্বেতসার পাওয়া গেলে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তা পরীক্ষার সময় আলোতে তৈরি হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ১. পানিতে সিদ্ধ করার কারণ: পাতাটি কয়েক মিনিট পানিতে সিদ্ধ করলে কোষ মারা যায় ও কোষপর্দা ভেদ্য হয়ে পড়ে। ফলে পরে অ্যালকোহল ও আয়োডিন সহজে কোষের ভেতরে ঢুকতে পারে।
    ২. অ্যালকোহলে সিদ্ধ করার কারণ: 95% ইথাইল অ্যালকোহলে সিদ্ধ করলে পাতার ক্লোরোফিল দ্রবীভূত হয়ে বেরিয়ে আসে এবং পাতা বিবর্ণ হয়। ক্লোরোফিলের সবুজ রং থাকলে আয়োডিনের রং পরিবর্তন স্পষ্ট দেখা যেত না।
    ৩. পরোক্ষ তাপের কারণ: অ্যালকোহল দাহ্য পদার্থ, সরাসরি আগুনে ধরলে আগুন ধরে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই অ্যালকোহল ও পাতা টেস্ট টিউবে নিয়ে টেস্ট টিউবটি পানিভর্তি বিকারে রেখে তাপ দেওয়া হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ফলাফল: আয়োডিন দ্রবণে ডোবানোর পর পাতার যে অংশ কালো কাগজে ঢাকা ছিল সেখানে নীল-কালো রং দেখা যাবে না, সেটি আয়োডিনের বাদামি বা হলদেটে রংই থাকবে। যে অংশ খোলা ছিল সেখানে নীল-কালো রং দেখা যাবে।
    বিশ্লেষণ:
    ১. শ্বেতসার আয়োডিনের সাথে নীল-কালো রং দেয়। খোলা অংশে নীল-কালো রং হওয়ায় বোঝা যায় সেখানে শ্বেতসার তৈরি হয়েছে, অর্থাৎ সালোকসংশ্লেষণ হয়েছে।
    ২. ঢাকা অংশে আলো পৌঁছায়নি এবং সেখানে নীল-কালো রং হয়নি। অর্থাৎ শ্বেতসার তৈরি হয়নি, সালোকসংশ্লেষণ হয়নি।
    ৩. একই পাতার দুই অংশে ক্লোরোফিল, CO₂, পানি ও তাপমাত্রা সমান ছিল; পার্থক্য ছিল কেবল আলোর। তাই ফলের পার্থক্যের কারণ আলো।
    সিদ্ধান্ত: সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় আলো অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও