সহপাঠ • ১৯৭১
সহপাঠ প্রশ্ন
স্থানীয় থানার নতুন অফিসার এলাকা পরিদর্শনে এলে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবুল সাহেব ভয়ে ভয়ে ছয়জন লোক নিয়ে ফুলের মালা ও পতাকা হাতে 'জিন্দাবাদ' ধ্বনি দিলেন। রোদে ঘামতে ঘামতে সবার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল, অথচ অফিসার তাদের দিকে ফিরেও তাকালেন না। কিছুক্ষণ পর অফিসার শুধু আবুল সাহেবকে থাকতে বলে বাকিদের চলে যেতে বললেন। অন্যরা হাঁপ ছাড়লেও কেউ ঘরে ফিরল না, দূরে দাঁড়িয়ে উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করতে লাগল।
- ক)(1)
আজিজ মাস্টারের নেতৃত্বে স্কুলঘরের দিকে যাওয়া দলটি কয়জনের ছিল?
- খ)(2)
'এরা বাঘও না, ভল্লুকও না'- জয়নাল মিয়া কেন একথা বলেছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আবুল সাহেবদের আচরণ উপন্যাসাংশের কোন ঘটনাকে মনে করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'জিন্দাবাদ ধ্বনি দেওয়ার মধ্যে নীলগঞ্জের মানুষের আন্তরিক আনুগত্য ছিল না'- উপন্যাসাংশের আলোকে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আজিজ মাস্টারের নেতৃত্বে স্কুলঘরের দিকে যাওয়া দলটি ছয়জনের ছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মিলিটারির ডাক শুনে আজিজ মাস্টার ভয়ে একা যেতে রাজি হচ্ছিল না। তাকে সাহস দেওয়ার জন্য এবং সম্ভবত নিজের ভয় ঢাকার জন্য জয়নাল মিয়া কথাটি বলেছিল। সে বোঝাতে চেয়েছিল, মিলিটারিও মানুষ, তারা বন্য পশুর মতো ভয়ংকর নয়। কিন্তু আসলে মিলিটারি সম্পর্কে তাদের কারও স্পষ্ট ধারণা ছিল না। এই কথায় গ্রামবাসীর ভয় ও দিশেহারা অবস্থা ফুটে উঠেছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের আবুল সাহেবদের আচরণ উপন্যাসাংশের পাকিস্তানি পতাকা হাতে 'পাকিস্তান জিন্দাবাদ' ধ্বনি দিয়ে স্কুলঘরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে মনে করিয়ে দেয়। উপন্যাসে জয়নাল মিয়ার পরামর্শে আজিজ মাস্টার, মতি মিয়াসহ ছয়জন পতাকা নিয়ে গিয়ে কায়েদে আযম, লিয়াকত আলী খান ও ইকবালের নামে জিন্দাবাদ ধ্বনি দেয়। রোদে দাঁড়িয়ে তাদের মুখ রক্তশূন্য হয়ে যায় এবং বুকে কাঁপুনি ওঠে। উদ্দীপকেও ক্ষমতাধর অফিসারের সামনে ভয়ে ভয়ে জিন্দাবাদ ধ্বনি দেওয়া হয়েছে এবং সবার মুখ ফ্যাকাশে হয়েছে। দুটি ক্ষেত্রেই শুধু একজনকে রেখে বাকিদের চলে যেতে বলা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আমি মনে করি মন্তব্যটি সঠিক; এই ধ্বনি আন্তরিক আনুগত্য থেকে নয়, ভয় থেকে দেওয়া হয়েছিল। ১. ভয়ের চিহ্ন: দলটি আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে ধ্বনি দিলেও রোদে দাঁড়িয়ে তাদের মুখ রক্তশূন্য ছিল এবং বুকে কাঁপুনি ছিল। তারা মিলিটারির দিকে সরাসরি তাকাতে পর্যন্ত সাহস পায়নি। ২. বাধ্য হয়ে পতাকা তোলা: মতি মিয়ার হাত ব্যথা হয়ে গেলেও পতাকা নামানোর সাহস হয়নি। জয়নাল মিয়া নিজেই পতাকা হাতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল নিজেদের নিরাপদ রাখতে। ৩. যেতে অনিচ্ছা: আজিজ মাস্টার একা যেতে রাজি হয়নি, ভয়ে তার হাঁপানির টান উঠে গিয়েছিল; সে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল। এতে বোঝা যায় যাওয়াটা স্বেচ্ছায় নয়, আতঙ্কের চাপে ঘটেছে। ৪. অন্তরের সম্পর্কহীনতা: স্লোগানে উচ্চারিত নেতাদের সঙ্গে গ্রামবাসীর কোনো আত্মিক যোগ ছিল না; এমনকি আজিজ মাস্টার মাঝে মাঝে স্বাধীন বাংলা বেতার শোনে এবং তার কথায় বিশ্বাসও করে। সুতরাং ভয়ে আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবেই এই ধ্বনি দেওয়া হয়েছিল, আন্তরিক আনুগত্য থেকে নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও