বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

শিউলি একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তাঁর পুরুষ সহকর্মীরা একই কাজ করে বেশি মজুরি পান, কিন্তু শিউলি কম পান। তাঁর ছোট বোন পনেরো বছর বয়সে বিয়ের চাপের মুখে পড়েছে এবং পরিবার তাকে বিদ্যালয়ে পাঠাতে চাইছে না। শিউলি এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগঠিত হতে চান। তিনি জানেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নারীর অধিকার রক্ষায় একটি সনদ আছে, যা বাংলাদেশও সমর্থন করেছে।

  1. ক)

    সিডও সনদ কোন সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়?

    (1)
  2. খ)

    সিডও সনদকে নারীর অধিকারের পূর্ণাঙ্গ দলিল বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে শিউলি ও তাঁর বোনের প্রতি যেসব বৈষম্য দেখা যায়, তা দূর করতে জাতিসংঘ কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের বৈষম্যগুলো মোকাবিলায় সিডও সনদের আলোকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও সনদটির কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সিডও সনদ ১৯৭৯ সালের ডিসেম্বর মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সিডও সনদ নারী ও পুরুষের সমতার নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এতে নারীর মানবাধিকারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে নারীর প্রতি বৈষম্য নিরসনে গৃহীত বিভিন্ন ইস্যুকে এটি সমন্বিত করেছে। সনদের ৩০টি ধারার প্রথম ১৬টিতে বৈষম্যের ধরন বিশ্লেষণ এবং পরের ১৪টিতে বৈষম্য বিলোপের উপায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এ কারণে একে নারীর অধিকারের পূর্ণাঙ্গ দলিল বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে শিউলি ও তাঁর বোন মজুরি বৈষম্য, বাল্যবিবাহ এবং শিক্ষায় বৈষম্যের শিকার। এসব দূর করতে জাতিসংঘ ও তার সহযোগী সংস্থা নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নিয়েছে:
    ১. সমান মজুরি: ১৯৫১ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) একই ধরনের কাজের জন্য নারী ও পুরুষ শ্রমিকের একই বেতন প্রদানের নীতি নির্ধারণ করে। এছাড়া ১৯৬০ সালে কর্মসংস্থান ও পেশাক্ষেত্রে বৈষম্য বিলোপ সনদ অনুমোদিত হয়।
    ২. বাল্যবিবাহ রোধ: ১৯৬২ সালে বিয়ের ন্যূনতম বয়স ও রেজিস্ট্রেশন সনদ অনুমোদিত হয়।
    ৩. শিক্ষায় সমান অধিকার: ১৯৬২ সালে বালিকা ও নারীদের শিক্ষাক্ষেত্রে সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হয়।
    ৪. সমন্বিত সনদ: ১৯৭৯ সালে সিডও সনদ গৃহীত হয়, যা ১৯৮১ সালে কার্যকর হয়।

    এসব পদক্ষেপ শিউলিদের বৈষম্য দূর করার আন্তর্জাতিক ভিত্তি তৈরি করেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে শিউলির সমস্যাগুলো সিডও সনদে স্বীকৃত বৈষম্যের উদাহরণ। এই সনদ নারী ও পুরুষের সমতার নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত।

    রাষ্ট্রের দায়িত্ব: বাংলাদেশ ১৯৮৪ সালে সনদটি স্বাক্ষর ও সমর্থন করেছে। আইনগতভাবে ম্যান্ডেটভুক্ত হওয়ায় সমর্থনকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এটি মেনে চলতে বাধ্য। সনদটি নারীর প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিশ্চিত করে। তাই রাষ্ট্রকে সমান মজুরি নিশ্চিত করা, বাল্যবিবাহ রোধ করা এবং বালিকাদের শিক্ষায় সমান সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে।

    কার্যকারিতা:
    ১. এই সনদে স্বীকার করা হয়েছে, আইনগত অধিকার থাকলেও অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে নারীর প্রবেশাধিকার খর্ব করে বৈষম্য করা হয়। উদ্দীপকে ঠিক তাই ঘটেছে।
    ২. ১৮৯টি দেশ সনদটি সমর্থন করায় এর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বেশি।
    ৩. পরের ১৪টি ধারায় বৈষম্য বিলোপের উপায় বলা হয়েছে, ফলে শিউলি এগুলো আইনি ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

    সুতরাং, সনদটি রাষ্ট্রের জন্য বাধ্যবাধকতা তৈরি করে এবং শিউলির মতো নারীদের অধিকার আদায়ে শক্ত ভিত্তি দেয়, যদিও বাস্তবায়নে রাষ্ট্র ও সমাজের সদিচ্ছা প্রয়োজন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও