সাহিত্য পাঠ • কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রফিক সাহেব একসময় গ্রামের জমি-জমা বিরোধের সালিশে সবার আস্থাভাজন ছিলেন। এখন পারিবারিক জমি বিক্রির আলোচনায় তিনি কিছু বলতে গেলে ছেলে বিরক্ত হয়ে বলে, ‘আব্বা, এসব আপনি বুঝবেন না, আপনি যান।’ রফিক সাহেব মাথা নিচু করে নিজের ঘরে ফিরে যান এবং আর কখনও এ বিষয়ে মুখ খোলেন না।
- ক)(1)
কপিলদাসের ছেলের নাম কী?
- খ)(2)
“কপিলদাস বুড়ো এবার সত্যিই দমে যায়।”—কেন?
- গ)(3)
কপিলদাসের প্রতি অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গি উদ্দীপকের রফিক সাহেবের প্রতি তাঁর ছেলের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে কতটা সংগতিপূর্ণ? আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের রফিক সাহেব ও কপিলদাস উভয়েই পরিবারে অবহেলিত, তবু তাদের পরিণতি আলাদা—এই বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কপিলদাসের ছেলের নাম মহিন্দর।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কপিলদাস যখন সমাবেশের কাছে গিয়ে ব্যাপারটা জানতে চায়, তখন তার নিজের ছেলে মহিন্দর বিরক্ত হয়ে বলে, ‘তুই এখন যা তো বাবা, বুড়া মানুষ তুই এসবের কী বুঝিস!’ যে ছেলেকে সে জন্ম দিয়েছে, তার কাছ থেকেই এমন অবজ্ঞা পেয়ে কপিলদাস গভীর আঘাত পায়। বার্ধক্যের অক্ষমতা তাকে আবার মনে করিয়ে দেওয়া হয়। তাই সে দমে যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কপিলদাসের প্রতি অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গি রফিক সাহেবের প্রতি তাঁর ছেলের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে প্রায় পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ। উদ্দীপকে ছেলে বাবাকে বলে, ‘আপনি বুঝবেন না, যান’, অর্থাৎ বয়সের কারণে তাঁর মতামতের মূল্য নেই। গল্পেও কপিলদাসকে বারবার শুনতে হয়, ‘তুই বুড়া মানুষ হে মড়ল, তোর কিছু করার নাই।’ বিচার সভায় সে কথা বলতে গেলে মহিন্দর ধমকে ওঠে, ‘তোর কথার কুনো ঠিক নাই।’ সমাবেশেও ছেলে তাকে সরিয়ে দেয়। এভাবে উভয় ক্ষেত্রেই বার্ধক্যকে অক্ষমতা ও অপ্রয়োজনীয়তার সমার্থক ভাবা হয়েছে এবং প্রবীণের অভিজ্ঞতা ও মর্যাদা উপেক্ষিত হয়েছে। তাই দুই ক্ষেত্রের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে গভীর মিল আছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রফিক সাহেব ও গল্পের কপিলদাস উভয়েই সন্তান ও সমাজের কাছে বার্ধক্যের কারণে উপেক্ষিত। কিন্তু তাদের পরিণতিতে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। রফিক সাহেব ছেলের তিরস্কার মাথা পেতে নেন, মাথা নিচু করে ঘরে ফিরে যান এবং আর মুখ খোলেন না। তাঁর পরিণতি নীরব আত্মসমর্পণ ও নিষ্ক্রিয়তা। অন্যদিকে কপিলদাস প্রথমে মহিন্দরের ধমকে দমে গিয়ে ‘যথাস্থানে ফিরে যায়’, বারবার নিজেকে শোনায় সে কিছু করতে পারে না। কিন্তু তার ভেতরের সুপ্ত সত্তা শিশুদের উৎসাহে জেগে ওঠে। সে বাঁশি বাজায়, গান গায়, ধনুকে ছিলা পরায় এবং তির ছোড়ে। সবার নিষেধ ও দীনদাসের ‘ধর বুঢ়াটাকে’ চিৎকার উপেক্ষা করে সে অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যায় এবং তৃতীয় তির ছোড়ার জন্য প্রস্তুত হয়। এভাবে সে অবহেলিত নিষ্ক্রিয়তা থেকে আপসহীন প্রতিরোধে উত্তীর্ণ হয়। এই পার্থক্যের মূলে আছে কপিলদাসের সংগ্রামী সত্তা ও অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদ, যা রফিক সাহেবের ক্ষেত্রে অনুপস্থিত। ফলে অবহেলার অভিজ্ঞতা এক হলেও পরিণতিতে একজন নীরব আর অন্যজন প্রতিবাদী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও