কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • কৃষি জলবায়ু

কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

সাবিনা নিজেদের কৃষি খামারে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি ফসল লাগায়। ‘ক’ ফসলটি সে মাঘ মাসে বপন করে। তখন দিনের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১০.৫ ঘণ্টা এবং ফসলটিতে সময়মতো ফুল এসেছে। ‘খ’ ফসলটি সে আষাঢ় মাসে বপন করে, তখন দিনের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১৩.৫ ঘণ্টা এবং এতেও ফুল এসেছে। পরবর্তী বছর সে ‘খ’ ফসলটি শীতকালে বপন করে, কিন্তু গাছগুলো কেবল বাড়তেই থাকল, ফুল এলো না।

  1. ক)

    দিবা দৈর্ঘ্য কী?

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশে দিবা দৈর্ঘ্যের তারতম্য হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ‘ক’ ও ‘খ’ ফসল দুটি দিবা দৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে কোন শ্রেণির উদ্ভিদ? উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    শীতকালে ‘খ’ ফসলে ফুল না আসার কারণ বিশ্লেষণ করো এবং সাবিনার জন্য ‘খ’ ফসল চাষের উপযুক্ত সময় সম্পর্কে মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সূর্য উদয় থেকে অস্ত যাওয়া পর্যন্ত সময়কে দিবা দৈর্ঘ্য বা দিনের দৈর্ঘ্য বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ৬৬.৫ ডিগ্রি কোণে হেলে ভ্রমণ করে এবং প্রতি মুহূর্তে স্থান পরিবর্তন করছে। ফলে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের স্থান ঠিক থাকে না। এর কারণে ভূপৃষ্ঠের সর্বত্র দিনের দৈর্ঘ্যের তারতম্য হয়। বাংলাদেশে তাই শীতকালে দিন ছোট (প্রায় ১০.২ ঘণ্টা) এবং গ্রীষ্মকালে দিন বড় (প্রায় ১৩.৮ ঘণ্টা) হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ‘ক’ ফসলটি স্বল্প দিবা বা ছোট দিনের উদ্ভিদ এবং ‘খ’ ফসলটি দীর্ঘ দিবা বা বড় দিনের উদ্ভিদ।

    ‘ক’ ফসলটি ১০.৫ ঘণ্টা অর্থাৎ ১২ ঘণ্টার কম দিনে ফুল দিয়েছে। যেসব উদ্ভিদের ফুল-ফল উৎপাদনের জন্য ১২ ঘণ্টার কম দিনের দৈর্ঘ্য প্রয়োজন, সেগুলো স্বল্প দিবা উদ্ভিদ। যেমন— গম, সরিষা, আমন ধান, পুঁইশাক।

    ‘খ’ ফসলটি ১৩.৫ ঘণ্টা অর্থাৎ ১২ ঘণ্টার বেশি দিনে ফুল দিয়েছে। যেসব উদ্ভিদের ফুল-ফল উৎপাদনের জন্য ১২ ঘণ্টার বেশি দিনের দৈর্ঘ্য প্রয়োজন, সেগুলো দীর্ঘ দিবা উদ্ভিদ। যেমন— আউশ ধান, পাট, চালকুমড়া, চিচিঙ্গা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘খ’ ফসলটি দীর্ঘ দিবা উদ্ভিদ, যার ফুল-ফল উৎপাদনের জন্য ১২ ঘণ্টার বেশি দিনের দৈর্ঘ্য প্রয়োজন।

    বাংলাদেশে শীতকালে দিনের দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, প্রায় ১০ থেকে ১০.২ ঘণ্টা। এই সময়ে ‘খ’ ফসল প্রয়োজনীয় দীর্ঘ আলোকক্ষণ পায়নি। ফলে এর ফুল ধারণের শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। তবে সালোকসংশ্লেষণ চালু থাকায় গাছ কেবল অঙ্গজ বৃদ্ধি অর্থাৎ পাতা ও কাণ্ডের বৃদ্ধি ঘটিয়েছে। ফুল না আসায় ফল বা বীজ উৎপাদন হয়নি এবং অর্থনৈতিকভাবে ফসলটি ব্যর্থ হয়েছে।

    আষাঢ় মাসে (বর্ষাকালে) দিন বড় হয়, বাংলাদেশে বৃহত্তম দিন প্রায় ১৩.৮ ঘণ্টা। ঐ সময়ে ‘খ’ ফসলে ফুল এসেছিল। তাই সাবিনাকে পরামর্শ দেওয়া যায় যে সে যেন ‘খ’ ফসল বর্ষা বা গ্রীষ্মকালের দীর্ঘ দিনের সময়ে (খরিফ মৌসুমে) চাষ করে এবং শীতকালে ‘ক’ জাতীয় স্বল্প দিবা ফসল চাষ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও