সাহিত্য পাঠ • মৌসুম
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
তরুণ কৃষক বাবুলের দাদা একসময় গ্রামের জোতদারের কথা না শোনায় সবার সামনে অপমানিত হয়েছিলেন। সেই অপমানের কথা বাবুল কখনো ভোলেনি। আজ জোতদার চরম সংকটে তাঁর কাছে লোক পাঠিয়ে বলেন, ‘বাবুল যেন একবার দেখা করে।’ বাবুল সাফ জানিয়ে দেয়, ‘আমি যেতে পারব না।’ সংকটে কৃষকদের পাশে না দাঁড়ানোর কথা মনে করিয়ে সে আরও বলে, ‘দায় পড়েছে বলেই আজ ডাকছেন।’
- ক)(1)
‘মৌসুম’ গল্পটি কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
- খ)(2)
“সেই অপমান ভুলতে না পাইরাই তো আপনাগো ওপর অত ঘেন্না।”—সখানাথ একথা কেন বলেছিল?
- গ)(3)
রমানাথ দ্বারিকানাথের আহ্বান কেন প্রত্যাখ্যান করেছে? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“গল্পের কৃষকদের মধ্যে অধিকারবোধ ও সচেতনতা সৃষ্টির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে।”—উদ্দীপক ও ‘মৌসুম’ গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘মৌসুম’ গল্পটি শামসুদ্দীন আবুল কালামের ‘অনেক দিনের আশা’ (১৯৫২) গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর দ্বারিকানাথ সখানাথকে স্মরণ করিয়ে দেন যে অতীতে জমিদারের কথা না মানায় রমানাথের ঠাকুরদাকে অপমানিত হতে হয়েছিল। এই কথা শুনে সখানাথ বুঝে যায় যে জমিদারের অহংকার ও শাসনের ভঙ্গি আগের মতোই আছে। তার পরিবার বংশপরম্পরায় জমিদারের হাতে অপমান সয়েছে, যা তারা ভোলেনি। তাই বিদ্রূপের সঙ্গে সে জানায়, সেই অপমান ভুলতে না পারার কারণেই জমিদারদের প্রতি তাদের ঘৃণা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর রমানাথ দ্বারিকানাথের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে কারণ জমিদারের প্রতি তার জমে থাকা ঘৃণা, অতীতের অপমানের স্মৃতি এবং জমিদারের স্বার্থপরতা সম্পর্কে তার স্পষ্ট ধারণা।
উদ্দীপকে বাবুলের দাদা জোতদারের কাছে অপমানিত হয়েছিলেন। সেই অপমান বাবুল ভোলেনি বলেই জোতদারের ডাকে সে ‘যেতে পারব না’ বলে সাফ জবাব দেয়। এছাড়া কৃষকের সংকটে জোতদার পাশে দাঁড়াননি বলে ‘দায় পড়েছে’ বলেই এখন ডাকছেন—এ কথাও সে বুঝিয়ে দেয়। গল্পে রমানাথও জানে যে আকালের সময় দ্বারিকানাথ এখানকার চাল শহরে নিয়ে ব্যবসা করেছেন, প্রজাদের অবস্থা চোখে দেখতেও আসেননি; তাঁদের পূর্বপুরুষদের অপমানের ইতিহাসও সে জানে। জমিদার এখন মেয়ের বিয়ের জন্য লোকজন দরকার বলে ডাকছেন। এই স্বার্থপর, শোষক ও অপমানকারী জমিদারের কথা মানার কোনো কারণ নেই বলেই রমানাথ ‘আমি যাইতে পারমু না’ বলে সংক্ষিপ্ত ও দৃঢ় জবাব দেয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘মৌসুম’ গল্পের কৃষকদের মধ্যে যে প্রতিবাদী মনোভাব ও অধিকারবোধ জেগে উঠেছে, তা একটি কারণে নয়; অতীত অভিজ্ঞতা, বর্তমান নিপীড়ন ও সংগঠকদের প্রভাব—সব মিলিয়েই এর সৃষ্টি।
প্রথমত, অতীতের অপমান ও শোষণের স্মৃতি। উদ্দীপকে বাবুল দাদার অপমান ভোলেনি, ফলে জোতদারের প্রতি তার অবিশ্বাস ও প্রতিবাদী মনোভাব জন্মেছে। গল্পেও জমিদারের হাতে অপমানের কথা সখানাথ-রমানাথের মনে রয়ে গেছে।
দ্বিতীয়ত, দুর্ভিক্ষের অভিজ্ঞতা। ১৯৪৩-এর আকালে মানুষ না খেয়ে মরেছে, আর জমিদার তখন চাল শহরে নিয়ে ব্যবসা করেছেন। এতে কৃষকরা বুঝেছে জমিদার প্রজাপালক নন, শোষক। উদ্দীপকের বাবুলও সংকটে জোতদারের পাশে না থাকার কথা মনে রেখেছে।
তৃতীয়ত, সংগঠকদের প্রভাব। জমিদারের ভাষ্য অনুযায়ী গেল মাঘে কমিউনিস্টরা এসে সখানাথের কানে মন্ত্রণা দিয়ে গেছে। নায়েবও বলেছেন, পেছনে স্বদেশিওয়ালারা দল পাকিয়েছে। এঁরা কৃষকদের শোষণের স্বরূপ চিনতে এবং ঐক্যবদ্ধ হতে শিখিয়েছে। উদ্দীপকে এই বাইরের প্রভাবের উল্লেখ নেই; সেখানে ব্যক্তিগত স্মৃতি ও অভিজ্ঞতাই মূল কারণ।
সুতরাং উদ্দীপকে শুধু ব্যক্তিগত অপমানের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা থেকে সচেতনতা এসেছে, কিন্তু গল্পে অতীতের স্মৃতি, দুর্ভিক্ষের নিষ্ঠুর অভিজ্ঞতা এবং সমাজরূপান্তরকামী সংগঠকদের প্রভাব একত্রে কৃষকদের জাগিয়ে তুলেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও