বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

দশম শ্রেণির ছাত্র কামরুল তার দাদার মুখে শুনেছে, ত্রিশ বছর আগে তাদের পরিবারের ১০০ বিঘা জমি ছিল, এখন ভাগ হতে হতে তা ১০ বিঘায় নেমেছে। গ্রামে এখন অনেক আবাদি জমিতে ঘর উঠছে এবং খাল-বিল ভরাট করে নতুন বসতি গড়া হচ্ছে। কামরুল পত্রিকায় পড়েছে, ১৯৭৪ সালে দেশে মাথাপিছু জমি ছিল ০.২৮ একর, যা এখন ০.২৫ একরে নেমেছে।

  1. ক)

    ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে মাথাপিছু জমির পরিমাণ কত ছিল?

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশে কৃষিজমি খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যাচ্ছে কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে পরিবারের জমি কমে যাওয়ার কারণগুলো ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ‘এভাবে চলতে থাকলে একসময় প্রাকৃতিক বিপর্যয় অনিবার্য হয়ে উঠবে’- উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে মাথাপিছু জমির পরিমাণ ছিল ০.২৮ একর।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশে জনসংখ্যা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। কৃষিজমি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টিত হতে হতে ছোটো ছোটো টুকরায় পরিণত হচ্ছে। তাছাড়া বাড়িঘর নির্মাণের জন্য আবাদি জমি ব্যবহৃত হওয়ায় চাষযোগ্য জমি আরও কমছে। এভাবে কৃষিজমি খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যাচ্ছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে দেখা যায়, ত্রিশ বছরে একটি পরিবারের জমি ১০০ বিঘা থেকে ১০ বিঘায় নেমেছে। এর কারণগুলো হলো-

    প্রথমত, জনসংখ্যা বৃদ্ধি: বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ এবং জনসংখ্যা ক্রমবর্ধমান। ফলে জনবসতি বাড়ছে এবং বাড়িঘর নির্মাণের জন্য উপযুক্ত জমির ওপর চাপ পড়ছে।

    দ্বিতীয়ত, জমির বণ্টন: কৃষিজমি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টিত হতে হতে খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যাচ্ছে। ফলে পরিবারপ্রতি জমির পরিমাণ কমছে।

    তৃতীয়ত, আবাদি জমিতে বসতি স্থাপন: বসতি বিস্তারের প্রয়োজনে বহু আবাদি জমিতে ঘরবাড়ি বানানো হচ্ছে, ফলে চাষযোগ্য জমি আরও কমে যাচ্ছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে জমি কমে যাওয়া, আবাদি জমিতে ঘর তোলা এবং খাল-বিল ভরাট করে বসতি গড়ার চিত্র ফুটে উঠেছে। উক্তিটি যথার্থ।

    জনসংখ্যার আধিক্য ও বসতি বিস্তারের প্রয়োজনে মানুষ ভূমির স্বাভাবিক প্রকৃতি ও ব্যবহার বদলে দিচ্ছে। খাল-বিল ভরাট করায় পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হচ্ছে। বনজঙ্গল কাটায় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। উদ্দীপকে মাথাপিছু জমি ০.২৮ একর থেকে ০.২৫ একরে নেমেছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও কমবে। চাষযোগ্য জমি কমে গেলে এবং খণ্ডিত জমিতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ না হলে খাদ্য উৎপাদনও ব্যাহত হবে। অন্যদিকে গ্রাম ও শহরে বাসস্থানের সংকট ইতোমধ্যে দেখা দিয়েছে।

    এভাবে ভূমির ওপর অব্যাহত চাপ বাড়তে থাকলে এবং প্রকৃতিকে অবহেলা করে বসতি গড়া চলতে থাকলে একসময় প্রাকৃতিক বিপর্যয় অনিবার্য হয়ে উঠবে। তাই উক্তিটি যথার্থ এবং এ অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে পরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার ও সচেতনতা জরুরি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও