সাহিত্য পাঠ • পদ্মা

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

জেলে আব্দুল জব্বার তিন যুগ ধরে নদী ও সাগরে মাছ ধরেন। অসংখ্য ঝড়-তুফান তিনি পার করেছেন। একদিন লঞ্চে চড়ে নদী পার হওয়ার সময় হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় উঠলে শহর থেকে আসা পর্যটক জামিল ভয়ে ফ্যাকাশে হয়ে যায়। অথচ জব্বার অবিচল থেকে যাত্রীদের সাহস জোগান। ঝড় থেমে গেলে তিনি আবার জাল গুছিয়ে নৌকা ভাসান।

  1. ক)

    ‘হার্মাদ’ শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    “তোমার তরঙ্গভঙ্গে বর্ণ তার হয়েছে পাণ্ডুর”—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের জামিলের ভয়ের সাথে ‘পদ্মা’ কবিতার জলদস্যুদের ভয়ের মিল কোথায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “জব্বারের মনোভাব ‘পদ্মা’ কবিতার সংগ্রামী মানুষের মনোভাবেরই প্রতিধ্বনি।”—মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘হার্মাদ’ শব্দের অর্থ পর্তুগিজ জলদস্যু। এটি স্প্যানিশ শব্দ (Armada) থেকে এসেছে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পদ্মার ঢেউয়ের আবর্তন দেখে জলদস্যুর মুখ ভয়ে ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়াকে বোঝানো হয়েছে। ‘তরঙ্গভঙ্গে’ অর্থ ঢেউয়ের আবর্তনে এবং ‘পাণ্ডুর’ অর্থ ফ্যাকাশে হলুদ বর্ণবিশিষ্ট। যে জলদস্যু বহু সমুদ্র ঘুরে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, সে-ও পদ্মার উত্তাল রূপ দেখে আতঙ্কিত হয়। এর মাধ্যমে পদ্মার ভয়ংকর শক্তির প্রকাশ ঘটেছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের জামিল ও কবিতার জলদস্যু উভয়েই প্রকৃতির ভয়ংকর রূপের সামনে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে—এখানেই তাদের ভয়ের মিল। ‘পদ্মা’ কবিতায় বলা হয়েছে, অনেক ঘূর্ণিতে ঘুরে এবং ঢের সমুদ্রের স্বাদ পেয়েও দুরন্ত হার্মাদ বা জলদস্যু পদ্মাকে দেখে কেঁপে উঠেছে, তার মুখের বর্ণ পাণ্ডুর হয়েছে। উদ্দীপকে কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডব দেখে জামিলও ভয়ে ফ্যাকাশে হয়ে যায়। দুজনের ভয়ের কারণ নদীর উত্তাল ও অপ্রতিরোধ্য শক্তি। তবে পার্থক্য হলো, জলদস্যু অভিজ্ঞ হয়েও ভীত হয়েছে, আর জামিল অনভিজ্ঞ শহুরে মানুষ হিসেবে ভীত হয়েছে। তবু প্রকৃতির প্রবল রূপের সামনে মানুষের অসহায়তার দিকটিতে উভয়ের মিল স্পষ্ট।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যথার্থ। ‘পদ্মা’ কবিতায় কবি পদ্মার ভয়ংকর রূপের পাশাপাশি দুই তীরের সংগ্রামী মানুষের অদম্য মনোভাব তুলে ধরেছেন। জলদস্যু যেখানে পদ্মাকে দেখে কেঁপে ওঠে, সেখানে সংগ্রামী মানুষ দুই তীরে লাঙল চালায়, কঠিন শ্রমের ফল হিসেবে প্রচুর শস্য পায়। তারা ‘জীবন-মৃত্যুর দ্বন্দ্বে নিঃসংশয়’ এবং ‘নির্ভীক জোয়ান’। বর্ষায় সবকিছু ভেসে গেলেও তারা হাল ছাড়ে না, বরং নতুন করে জীবন শুরু করে। উদ্দীপকে জব্বার দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় ঝড়-তুফানকে ভয় পান না। পর্যটক যখন ভীত, তখন তিনি অবিচল থেকে যাত্রীদের সাহস জোগান এবং ঝড় থামলে আবার নৌকা ভাসান। বিপদ কেটে গেলে আবার কর্মে ফিরে যাওয়ার এই মনোভাব কবিতার নির্ভীক ও সংগ্রামী মানুষের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। দুজনেই প্রকৃতির রুদ্ররূপের মুখোমুখি হয়েও জীবনের লড়াই চালিয়ে যায়। অতএব জব্বারের মনোভাব কবিতার সংগ্রামী মানুষের মনোভাবেরই প্রতিধ্বনি—উক্তিটি যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও