ভূগোল ১ম পত্র • জীবমণ্ডল
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
একটি শিল্পাঞ্চলে দুটি কারখানা আছে। 'ক' কারখানায় রেফ্রিজারেটর ও এয়ারকন্ডিশনার তৈরি হয়, যেখান থেকে একটি উড্ডয়ী যৌগ বাতাসে মিশছে। 'খ' কারখানা একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, যার চিমনি থেকে নির্গত সালফার ডাই-অক্সাইড গ্যাসের সাথে সীসা, তামা, জিংকের মতো ভারি ধাতু, হাইড্রোজেন সালফাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড ও হাইড্রোকার্বন মিশে আকাশে ধোঁয়া সৃষ্টি করছে।
- ক)(1)
ক্লোরো-ফ্লুরোকার্বন (CFC) কী?
- খ)(2)
১ অণু CFC গ্যাস কীভাবে বায়ুমণ্ডলের জন্য ক্ষতিকর? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'ক' কারখানা থেকে নির্গত যৌগটির উৎস ও পরিবেশে এর প্রভাব ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ' কারখানা থেকে সৃষ্ট বায়ুদূষণের উপাদান ও তা প্রতিরোধের উপায়ের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর CFC হলো কার্বন, ফ্লোরিন ও ক্লোরিনের একটি উড্ডয়ী (Volatile) যৌগ, যা ওজোন স্তরকে ধ্বংস করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর CFC গ্যাস ওজোন স্তরকে ধ্বংস করে। ১ অণু CFC গ্যাস তাপমাত্রাভেদে প্রায় ২০০০ ওজোন অণুকে ধ্বংস করতে পারে। ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীকে রক্ষা করে। তাই CFC-র ক্ষুদ্র পরিমাণও বায়ুমণ্ডলের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের 'ক' কারখানা থেকে নির্গত উড্ডয়ী যৌগটি হলো ক্লোরো-ফ্লুরোকার্বন (CFC)। উৎস: CFC রেফ্রিজারেটর, এয়ারকন্ডিশনার এবং প্লাস্টিক ও রং তৈরির কারখানা থেকে নির্গত হয়। উদ্দীপকের কারখানাটি রেফ্রিজারেটর ও এসি তৈরি করে বলে সেখান থেকে এ গ্যাস বাতাসে মিশছে। প্রভাব: এ গ্যাস বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তরকে ধ্বংস করে। ১ অণু CFC প্রায় ২০০০ ওজোন অণু ধ্বংস করতে পারে। ফলে ওজোন স্তর পাতলা হয়ে ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি পৃথিবীতে পৌঁছে, যা জীবজগৎ ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। তাই CFC বায়ুদূষণের একটি গুরুতর কারণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের 'ক' কারখানা থেকে CFC এবং 'খ' কারখানা থেকে সালফার ডাই-অক্সাইড (SO₂)-সহ ধোঁয়া নির্গত হচ্ছে। উপাদানের তুলনা: ১. 'ক'-এর CFC একটি একক উড্ডয়ী যৌগ, কিন্তু 'খ'-এর ধোঁয়ায় SO₂-এর সাথে ভারি ধাতু (সীসা, তামা, জিংক), হাইড্রোজেন সালফাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, হাইড্রোকার্বন ও ৩, ৪ বেনজোপাইরিন একসাথে মিশে থাকে। ২. ক্ষতির ধরন: CFC প্রধানত ওজোন স্তর ধ্বংস করে; আর 'খ'-এর ধোঁয়া সরাসরি বাতাস ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। প্রতিরোধের উপায়ের তুলনা: ৩. 'ক'-এর ক্ষেত্রে CFC ব্যবহার কমিয়ে যন্ত্রাংশে বিকল্প হিসেবে তরল পেট্রোলিয়াম ব্যবহার করা উচিত। ৪. 'খ'-এর ক্ষেত্রে কারখানাটি লোকালয় থেকে দূরে স্থাপন, ধোঁয়ার পরিশোধন এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার করা যায়। ৫. উভয় ক্ষেত্রে গণসচেতনতা সৃষ্টি ও পর্যাপ্ত বৃক্ষরোপণ করা প্রয়োজন, কারণ গাছ বাতাস পরিশুদ্ধ করে। সুতরাং উৎস ও ক্ষতির ধরন ভিন্ন হলেও উভয় কারখানার বায়ুদূষণ প্রতিরোধে উপযুক্ত প্রযুক্তি ও সচেতনতা সমানভাবে জরুরি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও