সহপাঠ • টীকা ও চরিত্র-পরিচিতি
সহপাঠ প্রশ্ন
শান্তিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল করিম নির্বাচিত হয়ে দেখেন এলাকা চোরাকারবারিদের উৎপাতে অতিষ্ঠ। তিনি আলোচনার নামে দলের প্রধান নেতাদের ডেকে এনে কৌশলে আটক করেন এবং এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনেন। ইউনিয়নে একটি বিদেশি কোম্পানির কারখানা থাকায় স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছিল। তাই তিনি কারখানাটি বন্ধ না করে আইনের কড়া নজরদারিতে রাখেন। ইউনিয়ন পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তিনি সব সম্প্রদায়ের যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেন।
- ক)(1)
আলিবর্দি খাঁ কত সালে বাংলার নবাব হন?
- খ)(2)
আলিবর্দি খাঁ ইউরোপীয় বণিকদের উচ্ছেদ করেননি কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের চেয়ারম্যান আব্দুল করিমের কাজের কোন দিকটি আলিবর্দি খাঁর শাসননীতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের চেয়ারম্যান আব্দুল করিম ও নবাব আলিবর্দি খাঁর কৌশলে সাদৃশ্য থাকলেও পার্থক্যও রয়েছে।”— উদ্দীপক ও টীকা-অংশের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আলিবর্দি খাঁ ১৭৪০ সালে গিরিয়ার যুদ্ধে সরফরাজ খাঁকে পরাজিত করে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব হন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আলিবর্দি খাঁ ছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণ শাসক। তিনি বুঝেছিলেন ইউরোপীয় বণিকদের ব্যবসা-বাণিজ্য দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। তাই অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে তিনি তাদের উচ্ছেদ করেননি। বরং কৌশলে তাদের দমিয়ে রেখেছিলেন, যাতে তারা রাজনৈতিকভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের চেয়ারম্যান আব্দুল করিমের কাজের কৌশলী ও বিচক্ষণ শাসননীতির দিকটি আলিবর্দি খাঁর শাসননীতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। আলিবর্দি খাঁ বর্গিদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ দেশে কৌশলে বর্গি প্রধান ভাস্কর পণ্ডিতসহ তেইশজন নেতাকে হত্যা করেন এবং বর্গিদের সঙ্গে সন্ধি স্থাপন করে শান্তি ফিরিয়ে আনেন। উদ্দীপকেও চেয়ারম্যান করিম আলোচনার নামে চোরাকারবারিদের নেতাদের কৌশলে আটক করে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনেন। আবার আলিবর্দি অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা ভেবে ইউরোপীয় বণিকদের উচ্ছেদ না করে দমিয়ে রেখেছিলেন; তেমনি করিমও কর্মসংস্থানের কথা ভেবে বিদেশি কারখানা বন্ধ না করে নজরদারিতে রাখেন। সুতরাং কৌশল ও দূরদর্শিতার দিক থেকে করিমের সঙ্গে আলিবর্দির সাদৃশ্য রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের চেয়ারম্যান আব্দুল করিম ও নবাব আলিবর্দি খাঁর কৌশলে সাদৃশ্য থাকলেও পার্থক্যও রয়েছে—মন্তব্যটি যথার্থ।
সাদৃশ্য: আলিবর্দি খাঁ ছিলেন সুদক্ষ শাসক। বর্গিদের উৎপাত দমনে তিনি কৌশলের আশ্রয় নেন এবং সন্ধি স্থাপন করে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনেন। অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় তিনি ইউরোপীয় বণিকদের উচ্ছেদ না করে দমিয়ে রাখেন এবং শাসন শক্তিশালী করতে হিন্দু সম্প্রদায়ের যোগ্য ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসান। উদ্দীপকের করিমও চোরাকারবারিদের নেতাদের কৌশলে আটক করেছেন, বিদেশি কারখানা বন্ধ না করে নজরদারিতে রেখেছেন এবং সব সম্প্রদায়ের যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিয়েছেন। এ দিকগুলোতে দুজনের মিল স্পষ্ট।
পার্থক্য: আলিবর্দি খাঁ ছিলেন তিন প্রদেশের নবাব; তাঁর শাসনের পরিধি, ক্ষমতা ও সমস্যার জটিলতা ছিল বিশাল। তিনি বর্গি নেতাদের হত্যা করে বর্গিদের সঙ্গে সন্ধি করেছিলেন। অন্যদিকে করিম একটি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি; তাঁর কাজ আইনের কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং তিনি নেতাদের শুধু আটক করেছেন, হত্যা করেননি। আলিবর্দির ক্ষেত্রে ইউরোপীয় বণিকদের দমিয়ে রাখার নীতি ছিল দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে জড়িত, উদ্দীপকে তা কেবল কর্মসংস্থান ও স্থানীয় সুবিধার মধ্যে সীমিত।
সুতরাং কৌশল ও দূরদর্শিতার দিক থেকে মিল থাকলেও ক্ষমতার পরিসর ও প্রয়োগের ধরনে দুজনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও