জীববিজ্ঞান • সমন্বয় (co-ordination)

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

কলেজপড়ুয়া বড় ভাইয়ের বন্ধুদের সাথে মিশে নবম শ্রেণির ছাত্র সাব্বির কৌতূহলবশত ধূমপান শুরু করে। কিছুদিন পর সে লক্ষ করে তার হাত কাঁপছে, সুঁইয়ের ছিদ্রে সুতা ঢোকাতে পারছে না এবং পড়ায় মনোযোগ থাকছে না। সময়মতো ধূমপান না করলে তার খুব অস্থির লাগে। তার মা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।

  1. ক)

    কোন সালে বাংলাদেশ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    মানুষ কেন মাদকাসক্ত হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে সাব্বিরের হাত কাঁপার কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সাব্বিরকে এ অবস্থা থেকে ফিরিয়ে আনতে পরিবার ও সমাজের কী কী ভূমিকা থাকা উচিত? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মাদকাসক্তির বহু কারণ আছে। মাদকের প্রতি কৌতূহল, বন্ধুবান্ধব ও সঙ্গীদের প্রভাব, নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের আগ্রহ এবং সহজ আনন্দ লাভের চেষ্টা থেকে মানুষ মাদক গ্রহণ শুরু করে। পারিবারিক কলহ, বেকারত্ব, হতাশা ও অভাব-অনটনও কারণ। মাদকের কুফল সম্পর্কে অজ্ঞতাও এর পেছনে ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক গবেষণায় স্বাভাবিক সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কের ঘাটতিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক ধরা হচ্ছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সাব্বির ধূমপান করায় তার রক্তে নিকোটিনের মাত্রা বেড়ে গেছে। নিকোটিন প্রাথমিকভাবে স্নায়ুকোষকে উদ্দীপিত করে, পরে দেহে এর চাহিদা আরও বেড়ে যায় এবং মানুষ আসক্ত হয়ে পড়ে। নিকোটিন গ্রহণের ফলে ধীরে ধীরে স্নায়ুকোষের কার্যকারিতা নষ্ট হতে থাকে। এর ফলে হাত, পা কিংবা মাথা অনৈচ্ছিকভাবে কাঁপতে থাকে। তাই সাব্বির সুঁইয়ের ছিদ্রে সুতা ঢোকানো, সোজা দাগ টানা বা লেখালেখির মতো সূক্ষ্ম কাজে ব্যর্থ হচ্ছে। অর্থাৎ নিকোটিনের প্রভাবে স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াই তার হাত কাঁপার কারণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সাব্বির তামাকের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। মাদকাসক্তদের ঘৃণা বা অবহেলা না করে সহানুভূতি ও ধৈর্যের সাথে সমাজে পুনর্বাসন করা উচিত। পরিবার ও সমাজের ভূমিকা: ১. পরিবার: মা-বাবাকে সহানুভূতি ও সহযোগিতা নিয়ে পাশে থাকতে হবে। পরিবারে স্বাস্থ্যকর সম্পর্কের পরিবেশ বজায় রাখতে হবে, কারণ সম্পর্কের ঘাটতি আসক্তির বড় নিয়ামক। ২. নিরাময় কেন্দ্র: মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের সাহায্যে নেশা ছাড়ানো সম্ভব, তাই সাব্বিরকে সেখানে নিয়ে যাওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত। ৩. বন্ধুবান্ধব: অসৎ বন্ধুদের থেকে দূরে রাখতে হবে এবং কুফল সম্পর্কে তাকে অবহিত করতে হবে। ৪. শিক্ষা ও সচেতনতা: নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রম প্রসার ও জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। ৫. আইন ও সংস্থা: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আইন প্রয়োগ, নিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে কাজ করে। এসব ভূমিকা একত্রে পালিত হলে সাব্বির নেশা মুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও