জীববিজ্ঞান • খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিপাক
জীববিজ্ঞান প্রশ্ন
নবম শ্রেণির ছাত্রী রিনা ছাদবাগানে দুটি টবে টমেটো গাছ লাগিয়েছে। কিছুদিন পর সে লক্ষ করল, প্রথম টবের গাছের পাতার সবুজ রং ধীরে ধীরে হালকা হয়ে হলুদ হয়ে যাচ্ছে এবং গাছের বৃদ্ধি কমে গেছে। তার বাবা টবে ইউরিয়া সার দেওয়ার পর গাছটি আবার সতেজ হয়ে ওঠে। অন্যদিকে দ্বিতীয় টবের গাছের পাতা বেগুনি রং ধারণ করেছে, পাতায় মৃত অঞ্চল দেখা দিয়েছে এবং গাছটি খর্বাকার হয়ে আছে।
- ক)(1)
ক্লোরোসিস কী?
- খ)(2)
ম্যাগনেসিয়ামের অভাব হলে সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রথম টবের গাছে কোন খনিজ উপাদানের অভাব দেখা দিয়েছিল? লক্ষণের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের দ্বিতীয় টবের গাছটির অবস্থার জন্য দায়ী উপাদানটির ভূমিকা ও এর অভাবের ফলে উদ্ভিদের ক্ষতি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্ভিদের পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ক্লোরোসিস (chlorosis) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ গাঠনিক উপাদান। ম্যাগনেসিয়ামের অভাব হলে উদ্ভিদে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হতে পারে না। ফলে পাতার সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং পাতার শিরার মধ্যবর্তী স্থানে ক্লোরোসিস দেখা দেয়। ক্লোরোফিল কমে গেলে আলোকশক্তি শোষণ ব্যাহত হয়, তাই সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের প্রথম টবের গাছে নাইট্রোজেন (N)-এর অভাব দেখা দিয়েছিল।
ব্যাখ্যা: নাইট্রোজেন ক্লোরোফিল, প্রোটিন ও নিউক্লিক অ্যাসিডের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। এর অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়, কারণ তখন অন্যান্য বর্ণকণা মিলিতভাবে হলুদ দেখায়; একে ক্লোরোসিস বলে। ক্লোরোসিসে কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন কমে যায়, ফলে গাছের বৃদ্ধিও কমে যায়। উদ্দীপকের গাছটির পাতা হলুদ হওয়া ও বৃদ্ধি কমে যাওয়া এই লক্ষণের সাথে মিলে যায়। তাছাড়া নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ ইউরিয়া সার দেওয়ার পর গাছটি সতেজ হয়েছে, যা নাইট্রোজেনের অভাবের বিষয়টিকেই নিশ্চিত করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের দ্বিতীয় টবের গাছের পাতা বেগুনি হয়ে যাওয়া, পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হওয়া এবং গাছ খর্বাকার হওয়া ফসফরাস (P)-এর অভাবজনিত লক্ষণ।
ফসফরাসের ভূমিকা:
১. ফসফরাস জীবকোষের DNA, RNA, NADP ও ATP-এর গাঠনিক উপাদান। তাই এটি ছাড়া উদ্ভিদের পুষ্টি সম্ভব নয়।
২. মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
অভাবের ফলে ক্ষতি:
১. পাতা বেগুনি হয়ে যায় এবং পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়।
২. পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে।
৩. উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় ও উদ্ভিদ খর্বাকার হয়।
৪. খালি চোখে ফসফরাসের ঘাটতি সহজে বোঝা যায় না; লক্ষণ দৃশ্যমান হওয়ার সময় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আর তেমন কিছু করার থাকে না।
অতএব, ফসফরাস উদ্ভিদের বৃদ্ধি, মূল গঠন ও শক্তি বিনিময়ে অপরিহার্য; এর অভাবে উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ফলন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও