সাহিত্য পাঠ • বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
একাদশ শ্রেণির ছাত্র তানভীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত গল্প লেখে। বেশি লাইক ও শেয়ার পাওয়ার আশায় সে চটুল ও চমকপ্রদ কথা জুড়ে দেয়। পেজ জনপ্রিয় হলে বিজ্ঞাপন থেকে আয় হবে, এটাই তার মূল ভরসা। তার বাংলা শিক্ষক বললেন, “আগে লেখাটাকে ভালো করো, পাঠক আর সুনাম দুটোই নিজে থেকে আসবে।”
- ক)(1)
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে সাহিত্যের উদ্দেশ্য কী?
- খ)(2)
“লেখা ভালো হইলে যশ আপনি আসিবে”— কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
তানভীরের লেখালেখির উদ্দেশ্যের সঙ্গে ‘বাংলার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে নির্দেশিত উদ্দেশ্যের পার্থক্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“শিক্ষকের পরামর্শটি ‘বাংলার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের মূল বক্তব্যের পূর্ণ প্রতিফলন নয়”— মন্তব্যটি বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে সত্য ও ধর্মই সাহিত্যের উদ্দেশ্য।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর যশ বা সুনামের আশায় লিখলে মন লেখার গুণের দিকে না থেকে খ্যাতির দিকে চলে যায়। এতে লেখাও ভালো হয় না, যশও জোটে না। বঙ্কিমচন্দ্র বলেছেন, লেখক যদি নিষ্ঠার সঙ্গে ভালো লেখায় মন দেন, তবে পাঠকের স্বীকৃতি স্বাভাবিকভাবেই আসে। অর্থাৎ যশ লেখার লক্ষ্য নয়, ভালো লেখার ফল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের তানভীর লাইক, শেয়ার ও বিজ্ঞাপনের আয়ের আশায় লেখে। অর্থাৎ তার উদ্দেশ্য খ্যাতি ও অর্থলাভ। অন্যদিকে ‘বাংলার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে বঙ্কিমচন্দ্র যশ ও টাকার জন্য লিখতে নিষেধ করেছেন। তাঁর মতে অর্থের উদ্দেশ্যে লিখতে গেলে লোকরঞ্জন-প্রবৃত্তি প্রবল হয় এবং রচনা বিকৃত ও অনিষ্টকর হয়ে ওঠে। তিনি বলেছেন, লেখার উদ্দেশ্য হবে দেশ ও মানুষের মঙ্গলসাধন অথবা সৌন্দর্যসৃষ্টি। তানভীর পাঠকের মনোরঞ্জনকেই মুখ্য করেছে, কিন্তু প্রাবন্ধিক কল্যাণ ও সৌন্দর্যকে মুখ্য করেছেন। এখানেই দুটির মূল পার্থক্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। শিক্ষক বলেছেন, লেখা ভালো হলে পাঠক ও সুনাম আপনি আসবে। এটি প্রবন্ধের প্রথম নিয়মের সঙ্গে মেলে, যেখানে বঙ্কিমচন্দ্র বলেছেন যশের জন্য লিখলে যশও হবে না, লেখাও ভালো হবে না; লেখা ভালো হলে যশ আপনি আসবে। কিন্তু প্রবন্ধের বক্তব্য এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রাবন্ধিক টাকার জন্য লিখতে নিষেধ করেছেন এবং লেখার উদ্দেশ্য হিসেবে মনুষ্যজাতির মঙ্গল ও সৌন্দর্যসৃষ্টির কথা বলেছেন। তিনি অসত্য, পরনিন্দা ও স্বার্থসাধনের লেখা পরিহার করতে, লেখা সংশোধন করে ছাপাতে এবং সরলতাকে শ্রেষ্ঠ অলংকার ভাবতে বলেছেন। শিক্ষকের কথায় এসব দিকের উল্লেখ নেই। তাই পরামর্শটি প্রবন্ধের একটি নিয়মকে ধারণ করে, কিন্তু সামগ্রিক বক্তব্যকে নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও