বাংলা ১ম পত্র • বাংলা শব্দ
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
নবম শ্রেণির ছাত্র ইমন বাংলা শব্দের উৎস নিয়ে কাজ করতে গিয়ে খাতায় নিচের তালিকাটি তৈরি করল।
| প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা | প্রাকৃত | বাংলা |
|---|---|---|
| দুগ্ধ | দুদ্ধ | দুধ |
| মৎস্য | মচ্ছ | মাছ |
| বংশী | বংসী | বাঁশি |
তার ছোট বোন নুসরাত তালিকা দেখে বলল, “ভাইয়া, ‘বংশী’ আর ‘চন্দ্র’ শব্দ দুটোও তো আমরা বাংলায় ব্যবহার করি।” ইমন বলল, “ওগুলো তো বাংলা শব্দ নয়, ওগুলো সংস্কৃত।”
- ক)(1)
‘তৎসম’ শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
“শব্দগুলো গা ভাসিয়ে দিয়েছিল পরিবর্তনের স্রোতে”— বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
ইমনের তালিকার বাংলা শব্দগুলো কোন শ্রেণির এবং কীভাবে বর্তমান রূপ পেয়েছে? ‘বাঙলা শব্দ’ প্রবন্ধ অনুসারে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“বংশী ও চন্দ্র বাংলা শব্দ নয়, এগুলো সংস্কৃত”— ইমনের এই বক্তব্য ‘বাঙলা শব্দ’ প্রবন্ধের আলোকে কতটুকু যথার্থ? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘তৎসম’ শব্দের অর্থ ‘সংস্কৃতের সমান’ অর্থাৎ সংস্কৃত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার বিপুল সংখ্যক শব্দ নিয়ম মেনে রূপ বদলে প্রাকৃতে পরিণত হয়েছিল। প্রাকৃত থেকেও আবার নিয়ম মেনে বদলে তারা বাংলা শব্দে রূপ নেয়। এই ক্রমাগত রূপ বদলকেই লেখক ‘পরিবর্তনের স্রোতে গা ভাসিয়ে দেওয়া’ বলেছেন। এভাবে বদলে আসা শব্দগুলোই তদ্ভব শব্দ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ইমনের তালিকার ‘দুধ’, ‘মাছ’, ‘বাঁশি’ শব্দগুলো তদ্ভব শব্দ। প্রবন্ধ অনুসারে প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার শব্দ নিয়ম মেনে বদলে প্রাকৃতে আসে, প্রাকৃত থেকে আবার বদলে বাংলায় আসে। তালিকায় দেখা যায়, সংস্কৃতের ‘দুগ্ধ’ প্রাকৃতে ‘দুদ্ধ’ হয়ে বাংলায় ‘দুধ’ হয়েছে। ‘মৎস্য’ প্রাকৃতে ‘মচ্ছ’ হয়ে বাংলায় ‘মাছ’ এবং ‘বংশী’ প্রাকৃতে ‘বংসী’ হয়ে বাংলায় ‘বাঁশি’ হয়েছে। অর্থাৎ সংস্কৃত থেকে প্রাকৃত এবং প্রাকৃত থেকে বাংলা— এই দুই ধাপের পরিবর্তনে শব্দগুলো তদ্ভব রূপ লাভ করেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ইমনের বক্তব্য আংশিক যথার্থ, পুরোপুরি নয়। প্রবন্ধ অনুসারে ‘বংশী’ ও ‘চন্দ্র’ তৎসম শব্দ, অর্থাৎ সংস্কৃত থেকে অপরিবর্তিত অবস্থায় আসা শব্দ। এদিক থেকে ইমন ঠিক বলেছে। তবে তৎসম শব্দও বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডারেরই অংশ। লেখকের মতে বাংলা শব্দের শতকরা চুয়াল্লিশটি তৎসম এবং ছিয়ানব্বইটিই মৌলিক বা বাংলা শব্দ। ফলে ‘বাংলা নয়’ বলা ঠিক হয়নি। আবার নুসরাতের কথাও সঠিক, কারণ এই দুটি শব্দের তদ্ভব রূপও বাংলায় আছে: ‘বংশী’ থেকে ‘বাঁশি’ এবং ‘চন্দ্র’ থেকে ‘চাঁদ’। অর্থাৎ একই মূল থেকে তৎসম ও তদ্ভব দুই রূপই বাংলায় চালু আছে। সুতরাং ইমন তৎসম শব্দের উৎস ঠিক চিনেছে, কিন্তু সেগুলোকে বাংলার বাইরে ভাবা প্রবন্ধের দৃষ্টিতে যথার্থ নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও