বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • জাতীয় সম্পদ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
জনাব আনোয়ার একজন শিল্পপতি। তিনি যে পোশাকের বাজারে সবচেয়ে বেশি মুনাফা পান, সেখানেই নিজের টাকা বিনিয়োগ করে পাঁচটি কারখানা চালু করেছেন। বাজারে একই পণ্যের অনেক বিক্রেতা থাকায় তারা পরস্পর প্রতিযোগিতা করে। উৎপাদন ব্যয় কমানোর জন্য তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির চেয়ে কম মজুরি দেন। এ কারণে তার সম্পদ বাড়লেও শ্রমিকরা বস্তিতে মানবেতর জীবন কাটায়। এ ব্যবস্থায় সরকারের হস্তক্ষেপ প্রায় নেই।
- ক)(1)
মুক্তবাজার অর্থনীতি কাকে বলে?
- খ)(2)
ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অবাধ প্রতিযোগিতা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে জনাব আনোয়ারের কর্মকাণ্ডে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার কোন কোন বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
‘উদ্দীপকের ব্যবস্থায় সমাজে সম্পদের বণ্টনে বৈষম্য সৃষ্টি হয়’—বক্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে অর্থনীতিতে দ্রব্যের উৎপাদন, বণ্টন ও ভোগ বাজারে চাহিদা ও যোগানের পারস্পরিক ক্রিয়া-বিক্রিয়া দ্বারা পরিচালিত হয় এবং সরকারের হস্তক্ষেপ প্রায় থাকে না, তাকে মুক্তবাজার অর্থনীতি বলে। ধনতান্ত্রিক অর্থনীতিকে মুক্তবাজার অর্থনীতি বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যে কেউ যে কোনো দ্রব্য বা সেবা উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে পারে। ফলে বাজারে একই দ্রব্যের অনেক উৎপাদক বা বিক্রেতা থাকে। তাদের মধ্যে ক্রেতা আকর্ষণের জন্য যে প্রতিযোগিতা চলে, তাতে কোনো বিধিনিষেধ থাকে না। বিক্রেতা ও ক্রেতাদের এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই দ্রব্যের দাম নির্ধারিত হয়। একে অবাধ প্রতিযোগিতা বলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার নিচের বৈশিষ্ট্যগুলো প্রতিফলিত হয়েছে:
সর্বাধিক মুনাফা অর্জন: আনোয়ার সাহেব যে দ্রব্যে মুনাফার সম্ভাবনা বেশি, সেই পোশাক শিল্পেই বিনিয়োগ করেছেন। ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উৎপাদনকারীরা বেশি মুনাফার দ্রব্যেই বেশি বিনিয়োগ করে।
উদ্যোগ গ্রহণের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিমালিকানা: তিনি নিজ উদ্যোগে পাঁচটি কারখানা চালু করেছেন; এগুলো তার ব্যক্তিগত মালিকানাধীন।
অবাধ প্রতিযোগিতা: বাজারে একই পণ্যের অনেক বিক্রেতা থাকায় তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে।
শ্রমিক বঞ্চনা: উৎপাদন ব্যয় কমাতে তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির চেয়ে কম মজুরি দেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রধান উদ্দেশ্য সর্বাধিক মুনাফা অর্জন। উদ্দীপকে আনোয়ার সাহেব উৎপাদন ব্যয় কম রাখতে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির চেয়ে কম মজুরি দেন।
শ্রমিকের প্রাপ্য মজুরির যে অংশ কম দেওয়া হয়, সেই উদ্বৃত্ত অংশ পুঁজিপতির কাছে মুনাফা হিসেবে জমা হয়। এভাবে শ্রমিক প্রাপ্যের চেয়ে কম পান এবং পুঁজিপতি প্রাপ্যের চেয়ে বেশি আয় করেন। উদ্দীপকে আনোয়ার সাহেবের কারখানার সংখ্যা ও সম্পদ বেড়েছে, কিন্তু শ্রমিকরা বস্তিতে মানবেতর জীবন কাটায়।
পুঁজিপতিরা সংখ্যায় কম, শ্রমিক অগণিত। ফলে সমাজের অধিকাংশ সম্পদ ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয় এবং বিশাল জনগোষ্ঠী মোট সম্পদের সামান্য অংশের সুবিধা পায়। সরকারের হস্তক্ষেপ না থাকায় এই বৈষম্য কমারও সুযোগ থাকে না।
অতএব, এ ব্যবস্থায় সম্পদ বণ্টনে অসমতা ও বৈষম্য সৃষ্টি হয়, যা সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। এই সমস্যা দূর করতে কল্যাণ অর্থনীতিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বক্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও