বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের নদ-নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদ
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
সাদিক ঢাকার সদরঘাট থেকে লঞ্চে চাঁদপুর যাচ্ছিল। চাঁদপুরে পৌঁছে সে দেখল, দুটি বিশাল নদীর পানি একসঙ্গে মিশে বিস্তৃত মোহনা সৃষ্টি করেছে এবং সেই মিলিত ধারা দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ছে। তার শিক্ষক বলেছিলেন, এর একটি নদীর উৎপত্তি হিমালয়ের গাঙ্গোত্রী হিমবাহে, অন্যটির উৎস আসামের বরাক নদী।
- ক)(1)
গঙ্গা নদী বাংলাদেশে কী নামে পরিচিত?
- খ)(2)
যমুনা নদীর সৃষ্টি কীভাবে হয়েছিল? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রথম নদীটির উৎপত্তিস্থল ও বাংলাদেশে প্রবাহপথ বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের দ্বিতীয় নদীটির গতিপথ ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশের কৃষি ও যোগাযোগে এর অবদান বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর গঙ্গা নদী বাংলাদেশে পদ্মা নামে পরিচিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর তিব্বতের মানস সরোবরে উৎপন্ন ব্রহ্মপুত্র নদের প্রধান ধারাটি এক সময় ময়মনসিংহের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হতো। ১৭৮৭ সালে সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উঁচু হয়ে গেলে নদটি পানি ধারণের ক্ষমতা হারায়। তখন নতুন স্রোতধারার একটি শাখা নদীর সৃষ্টি হয়। এই নতুন স্রোতধারাটিই যমুনা নামে পরিচিত। এটি গোয়ালন্দ পর্যন্ত যমুনা নামে প্রবাহিত হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের প্রথম নদীটি হলো পদ্মা, যার উৎপত্তি মধ্য হিমালয়ের গাঙ্গোত্রী হিমবাহে। ভারতে এটি গঙ্গা নামে পরিচিত।
প্রবাহপথ: গঙ্গা উত্তর ভারতের কয়েকটি রাজ্য অতিক্রম করে রাজশাহী অঞ্চলের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা দিয়ে পদ্মা নামে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এরপর গোয়ালন্দের কাছে ব্রহ্মপুত্রের প্রধান ধারা যমুনার সঙ্গে মিলিত হয়েছে। চাঁদপুরে এসে এটি মেঘনার সঙ্গে মিশেছে এবং বরিশাল ও নোয়াখালী অঞ্চল অতিক্রম করে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। পথে ভাগীরথী, হুগলি, মাথাভাঙ্গা, ইছামতী, কপোতাক্ষ, মধুমতী, আড়িয়াল খাঁ প্রভৃতি শাখা নদী এর সঙ্গে সংযুক্ত। গঙ্গা-পদ্মা বিধৌত অঞ্চলের আয়তন ৩৪,১৮৮ বর্গ কিলোমিটার।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের দ্বিতীয় নদীটি হলো মেঘনা।
গতিপথ: আসামের বরাক নদী নাগা-মণিপুর অঞ্চলে উৎপন্ন হয়ে সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এই মিলিত ধারা সুনামগঞ্জের আজমিরিগঞ্জের কাছে কালনী নামে দক্ষিণ-পশ্চিমে এগিয়ে মেঘনা নাম ধারণ করেছে। এরপর ভৈরব বাজার অতিক্রম করে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের কাছে বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যার মিলিত ধারা এতে যুক্ত হয়েছে। শেষে চাঁদপুরে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। মনু, তিতাস, গোমতী ও বাউলাই এর শাখা নদী।
কৃষিতে অবদান: বর্ষায় মেঘনার প্লাবন ও পলিমাটি দেশের জমির উর্বরতা বাড়ায়। মেঘনার পানি সেচে ব্যবহার করে বৃহত্তর কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম জেলায় চাষাবাদ উন্নত করা সম্ভব হচ্ছে। এতে কৃষি উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তা বাড়ছে।
যোগাযোগে অবদান: মেঘনা যাত্রী পরিবহণে বড়ো ভূমিকা পালনকারী নদীগুলোর একটি। এর মাধ্যমে লঞ্চ, স্টিমারসহ নৌযান চলাচল করে এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা হয়। নদীপথে পণ্য পরিবহনও সহজ হয়।
সুতরাং কৃষি ও যোগাযোগ উভয় ক্ষেত্রে মেঘনা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও