বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা ও প্রতিকার

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

শিউলির বাবা একজন দিনমজুর। অনেক কষ্টে মেয়েকে বিয়ে দিলেও বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন আরও টাকা ও মোটরসাইকেল দাবি করতে থাকে। দাবি পূরণ না হওয়ায় স্বামী ও শাশুড়ি তাকে খোঁটা দেয়, প্রায়ই মারধর করে এবং বাবার বাড়ি যেতে দেয় না। শিউলি লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে কিছু বলে না।

  1. ক)

    পারিবারিক সহিংসতা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    অর্থনৈতিক দুরবস্থা যৌতুক প্রথাকে কীভাবে উৎসাহিত করেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে শিউলির প্রতি নারীর প্রতি সহিংসতার কোন প্রকৃতি ফুটে উঠেছে? পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে শিউলির মতো ঘটনার পেছনে যেসব সামাজিক ও পারিবারিক দৃষ্টিভঙ্গি ও কারণ কাজ করে, তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর নারীরা বাড়িতে স্বামী, শাশুড়ি, ননদ বা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দ্বারা যেসব শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়, তাকে পারিবারিক সহিংসতা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আমাদের দেশে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল। এ দুরবস্থার কারণে পাত্রপক্ষ বিয়েকে অর্থ লাভের সুযোগ হিসেবে দেখে এবং কনের পরিবারের কাছে নগদ অর্থ ও দামি জিনিসপত্র দাবি করে। দরিদ্র কনের পিতা মেয়ের বিয়ে দিতে গিয়ে এ দাবি মেনে নিতে বাধ্য হন। এভাবে ক্রমে যৌতুক প্রথা প্রতিষ্ঠা পেয়েছে এবং নারীর প্রতি সহিংসতার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে শিউলির প্রতি পারিবারিক সহিংসতার প্রকৃতি ফুটে উঠেছে।

    নারীরা বাড়িতে শারীরিক ও মানসিক যেসব নির্যাতনের শিকার হয়, তাকে পারিবারিক সহিংসতা বলে। সাধারণত স্বামী, শাশুড়ি, ননদসহ পরিবারের সদস্যরা এ ধরনের নির্যাতন করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে খোঁটা দেওয়া, প্রহার, যৌতুক সম্পর্কিত নির্যাতন ইত্যাদি। উদ্দীপকে শিউলির স্বামী ও শাশুড়ি যৌতুকের জন্য তাকে খোঁটা দেয় ও মারধর করে। এগুলো পারিবারিক সহিংসতার অন্তর্ভুক্ত যৌতুক সম্পর্কিত নির্যাতন, খোঁটা দেওয়া ও প্রহারের উদাহরণ। অতএব শিউলি পারিবারিক সহিংসতার শিকার।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে শিউলি যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যা নারীর প্রতি সহিংসতার একটি প্রধান রূপ। এর পেছনে বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক কারণ রয়েছে।

    প্রথমত, অর্থনৈতিক দুরবস্থা যৌতুক প্রথাকে উৎসাহিত করেছে এবং যৌতুক পরিণত হয়েছে সহিংসতার হাতিয়ারে। শিউলির দরিদ্র বাবা দাবি পূরণ করতে না পারায় তাকে নির্যাতিত হতে হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, আমাদের সমাজে নারীকে দুর্বল, অবলা ও অদক্ষ মনে করা হয়। পুরুষ নারীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ, নারী স্বামীর সেবাদাসী, এ ধরনের পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন নারীর ওপর নির্যাতন চালানোকে অন্যায় মনে করে না। তৃতীয়ত, বাল্যবিবাহ, কন্যাসন্তানের চেয়ে পুত্রসন্তানকে প্রাধান্য দেওয়া এবং বিয়েতে কন্যার ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে উপেক্ষা করার মনোভাব সহিংসতাকে বাড়িয়ে দেয়। চতুর্থত, শৈশবে নিজ পরিবারে নারীর প্রতি সহিংসতা দেখে বড় হওয়া পুরুষ পরবর্তীকালে সহিংস হয়ে উঠতে পারে। পঞ্চমত, লোকলজ্জা ও সামাজিক মর্যাদার ভয়ে শিউলির মতো নারীরা নির্যাতনের কথা প্রকাশ করতে পারে না, ফলে অপরাধীরা উৎসাহিত হয়।

    এভাবে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিক নানা কারণ মিলিয়ে নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধি পায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও