রসায়ন • পদার্থের গঠন (Structure of Matter)
রসায়ন প্রশ্ন
ঢাকার একটি হাসপাতালে থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী জামাল সাহেবকে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ সমৃদ্ধ একটি দ্রবণ পান করানো হলো। অন্যদিকে, কৃষক করিম মিয়ার জমিতে কী পরিমাণ ফসফরাস আছে তা জানতে কৃষি কর্মকর্তা তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করলেন। করিম মিয়ার ছেলে রাকিব ডকুমেন্টারিতে দেখল, ১৯৮৬ সালে রাশিয়ার চেরনোবিলের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুর্ঘটনায় বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং পরিবেশ দূষিত হয়েছে।
- ক)(1)
তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ কাকে বলে?
- খ)(2)
রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত টেকনিশিয়াম-99 কে নিরাপদ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে জামাল সাহেবের চিকিৎসায় কোন আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়েছে বলে তুমি মনে করো? এটি কীভাবে রোগ নিরাময় করে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের তিনটি ঘটনার আলোকে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের উপকারিতা ও অপকারিতা মূল্যায়ন করো এবং এর ব্যবহার সম্পর্কে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর একটি মৌলের যে সকল আইসোটোপের নিউক্লিয়াস স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙে আলফা, বিটা ও গামা ইত্যাদি তেজস্ক্রিয় রশ্মি নিঃসরণ করে, তাদের তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর টেকনিশিয়াম-99 () ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করানো হলে তা নির্দিষ্ট স্থানে জমা হয় এবং গামা রশ্মি বিকিরণ করে। বাইরের ক্যামেরা দিয়ে সেই রশ্মি ধরে রোগাক্রান্ত স্থানের ছবি তোলা হয়। এই আইসোটোপের লাইফটাইম মাত্র 6 ঘণ্টা। তাই অল্প সময়ের মধ্যেই এর তেজস্ক্রিয়তা শেষ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ সময় শরীরের ক্ষতি করতে পারে না। এ কারণে এটি নিরাপদ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর থাইরয়েড ক্যান্সার নিরাময়ে ব্যবহৃত তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ হলো আয়োডিন-131 ()। তাই জামাল সাহেবের চিকিৎসায় এটিই ব্যবহৃত হয়েছে।
রোগীকে পরিমাণমতো সমৃদ্ধ দ্রবণ পান করানো হয়। এই আইসোটোপ রক্তের মাধ্যমে থাইরয়েড গ্রন্থিতে পৌঁছায়। সেখানে থেকে বিটা রশ্মি নির্গত হয়। এই বিটা রশ্মি থাইরয়েডের ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করে। ফলে রোগ নিরাময় হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উপকারিতা:
১) চিকিৎসায়: জামাল সাহেবের ক্ষেত্রে থেকে নির্গত বিটা রশ্মি থাইরয়েড ক্যান্সারের কোষ ধ্বংস করেছে। এর গামা রশ্মি টিউমারের চিকিৎসায় এবং রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।
২) কৃষিতে: করিম মিয়ার জমিতে তেজস্ক্রিয় ফসফরাস ও নাইট্রোজেন ব্যবহার করে মাটিতে এদের পরিমাণ জানা যায়। উদ্ভিদ এগুলো গ্রহণ করলে নির্গত রশ্মি গাইগার মুলার কাউন্টার দিয়ে মাপা হয়। এতে কতটুকু সার দিতে হবে তা হিসাব করা যায়, ফলে অপচয় ও আর্থিক ক্ষতি কমে এবং ফলন বাড়ে।
অপকারিতা:
রাকিবের দেখা চেরনোবিল দুর্ঘটনায় (১৯৮৬) তেজস্ক্রিয় রশ্মির ফলে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং পরিবেশ দূষিত হয়েছে। আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি কোষের জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে ক্যানসারের মতো রোগ সৃষ্টি করতে পারে। হিরোশিমা ও নাগাসাকির বোমা বিস্ফোরণে কয়েক লক্ষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
মূল্যায়ন ও মতামত:
নিয়ন্ত্রিত ও পরিমিত ব্যবহারে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ চিকিৎসা ও কৃষিতে বড় অবদান রাখে। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বা দুর্ঘটনায় এটি মানুষ ও পরিবেশের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হয়। তাই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সতর্কতা মেনে কেবল কল্যাণমুখী কাজে এর ব্যবহার করা উচিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও