জীববিজ্ঞান • জীবের বংশগতি ও জৈব অভিব্যক্তি
জীববিজ্ঞান প্রশ্ন
জীববিজ্ঞান ল্যাবে একটি জীবের DNA অণুর একটি খণ্ড বিশ্লেষণ করে দেখা গেল, খণ্ডটিতে দুই সূত্র মিলিয়ে মোট 200টি নিউক্লিওটাইড আছে। এর মধ্যে এডিনিন (A) বেসের সংখ্যা 40টি। শিক্ষক বললেন, এই খণ্ডটি একটি নিয়মিত ডাবল হেলিক্স গঠন করে।
- ক)(1)
নিউক্লিওটাইড কী?
- খ)(2)
DNA-কে বংশগতির রাসায়নিক ভিত্তি বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের DNA খণ্ডে থাইমিন, গুয়ানিন ও সাইটোসিনের সংখ্যা কত? হিসাব করে দেখাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের DNA খণ্ডটির হাইড্রোজেন বন্ডের মোট সংখ্যা ও দৈর্ঘ্য নির্ণয় করে বংশগতির তথ্য সংরক্ষণে এর গঠনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর DNA-এর পাঁচ কার্বনযুক্ত শর্করা (ডিঅক্সিরাইবোজ), নাইট্রোজেনঘটিত বেস (ক্ষার) এবং অজৈব ফসফেট—এই তিনটি উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত একককে নিউক্লিওটাইড বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর DNA ক্রোমোজোমের প্রধান ও স্থায়ী উপাদান। এটি জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের তথ্য ধারণ করে। কোষ বিভাজনের সময় DNA নিজের হুবহু প্রতিরূপ তৈরি করে এবং মাতাপিতা থেকে সন্তানে সঞ্চারিত হয়। এভাবে বৈশিষ্ট্যগুলো সরাসরি বংশধরে পৌঁছে দেয় বলে DNA-কে বংশগতির রাসায়নিক ভিত্তি (Chemical basis of heredity) বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর DNA-তে এডিনিন (A) সর্বদা থাইমিন (T)-এর সাথে এবং গুয়ানিন (G) সর্বদা সাইটোসিন (C)-এর সাথে যুক্ত থাকে। তাই A-এর সংখ্যা ও T-এর সংখ্যা সমান। এখানে A = 40টি, সুতরাং T = 40টি। A + T = 40 + 40 = 80টি। মোট নিউক্লিওটাইড 200টি হওয়ায় G + C = 200 − 80 = 120টি। যেহেতু G = C, তাই G = C = 120 ÷ 2 = 60টি। অতএব থাইমিন 40টি, গুয়ানিন 60টি এবং সাইটোসিন 60টি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর হাইড্রোজেন বন্ড: A=T জোড়ায় 2টি এবং G≡C জোড়ায় 3টি হাইড্রোজেন বন্ড থাকে। এখানে A=T জোড়া 40টি, তাই বন্ড = 40 × 2 = 80টি। G≡C জোড়া 60টি, তাই বন্ড = 60 × 3 = 180টি। মোট হাইড্রোজেন বন্ড = 80 + 180 = 260টি।
দৈর্ঘ্য: মোট নিউক্লিওটাইড 200টি, অর্থাৎ বেস জোড়া = 200 ÷ 2 = 100টি। হেলিক্সের প্রতি পূর্ণ ঘূর্ণনে 10টি নিউক্লিওটাইড (বেস জোড়া) থাকে এবং ঘূর্ণনের দৈর্ঘ্য 34 Å। ঘূর্ণন সংখ্যা = 100 ÷ 10 = 10টি। সুতরাং দৈর্ঘ্য = 10 × 34 = 340 Å (প্রতি বেস জোড়ায় 3.4 Å × 100 = 340 Å)।
গুরুত্ব বিশ্লেষণ: (১) দুই সূত্রের মধ্যে 260টি হাইড্রোজেন বন্ড থাকায় সূত্র দুটি দৃঢ়ভাবে যুক্ত থাকে এবং গঠন স্থিতিশীল হয়। এখানে G≡C জোড়ার সংখ্যা বেশি হওয়ায় তিনটি বন্ডের কারণে স্থায়িত্ব আরও বাড়ে। (২) A সর্বদা T-এর সাথে এবং G সর্বদা C-এর সাথে যুক্ত হওয়ায় সূত্র দুটি পরিপূরক। ফলে একটি সূত্র থেকে অন্যটি তৈরি করা যায় এবং প্রতিরূপ সৃষ্টির সময় তথ্য অবিকল থাকে। (৩) বেসগুলো ভিতরের দিকে সুরক্ষিত থাকে এবং সুগার-ফসফেটের দণ্ড বাইরে থাকে, ফলে তথ্য ধারণকারী বেসগুলো নিরাপদ থাকে। এসব কারণে DNA বংশগতির তথ্য নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ ও পরবর্তী প্রজন্মে স্থানান্তর করতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও