সাহিত্য পাঠ • বিলাসী

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

আবিদ সাহেব দীর্ঘ দুই বছর ক্যানসারে ভুগছেন। তাঁর স্ত্রী সুমিতা এই সময় ঘুম, বিশ্রাম ও নিজের শরীরের কথা ভুলে স্বামীর সেবা করে যাচ্ছেন। আত্মীয়রা বলে, এটা তো স্ত্রীর কর্তব্য। কিন্তু প্রতিবেশী নাসিমা বুবু মাথা নেড়ে বলেন, “শুধু কর্তব্যের জোরে এত রাত জাগা যায় না, এর পেছনে আছে অন্য এক শক্তি।” সুমিতা অবশ্য এ নিয়ে কখনো কোনো কথা বলেননি।

  1. ক)

    সদ্যবিধবা স্ত্রী স্বেচ্ছায় কী করতে চেয়েছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    “ওরে বাপরে! আমি একা থাকতে পারব না”—উক্তিটি কেন করা হয়েছিল? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের নাসিমা বুবুর মন্তব্য ‘বিলাসী’ গল্পের কথকের কোন ধারণাকে সমর্থন করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “ইহা আর একটি শক্তি”—কথক যে শক্তির কথা বলেছেন, তার স্বরূপ উদ্দীপক ও ‘বিলাসী’ গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সদ্যবিধবা স্ত্রী স্বেচ্ছায় সহমরণে যেতে চেয়েছিলেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি কথকের আত্মীয়ের সদ্যবিধবা স্ত্রী করেছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি শোকে দাপাদাপি করছিলেন এবং সহমরণে যেতে চাইছিলেন। কিন্তু কথক খবর দিতে বাইরে যেতে চাইলে তিনি ভয়ে চিৎকার করে ওঠেন। অন্ধকার রাতে ঘরে স্বামীর মৃতদেহের সঙ্গে একা থাকার ভয়ই এর কারণ। কথক তখন বোঝেন যে এই নারী জীবিত স্বামীর সঙ্গে পঁচিশ বছর নির্ভয়ে ঘর করলেও তার মৃতদেহের কাছে পাঁচ মিনিটও একা থাকতে পারেন না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের নাসিমা বুবুর মন্তব্য ‘বিলাসী’ গল্পের কথকের এই ধারণাকে সমর্থন করে যে শুধু কর্তব্যজ্ঞান বা দীর্ঘদিন একসঙ্গে ঘর করার অধিকারেই কোনো নারী মৃত্যুভয়কে জয় করতে পারে না; এর জন্য আরেকটি বিশেষ শক্তির প্রয়োজন।

    গল্পে কথক সদ্যবিধবা এক নারীর উদাহরণ টেনে দেখিয়েছেন যে সে স্বামীর মৃতদেহের সামনে একা থাকতে ভয় পেয়েছিল। এ থেকে তিনি সিদ্ধান্তে পৌঁছান, কর্তব্যজ্ঞান বা বহুকাল ঘর করার অধিকারই সেই ভয়কে ঠেকাতে পারে না। অথচ বিলাসী ভয় না পেয়ে বনের মধ্যে মৃতকল্প মৃত্যুঞ্জয়কে একা আগলে রেখেছে। উদ্দীপকে সুমিতাও কর্তব্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে স্বামীর সেবা করে চলেছেন। নাসিমা বুবুর কথা, কর্তব্যের জোরে এ সম্ভব নয়—কথকের একই ধারণার প্রতিধ্বনি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর “ইহা আর একটি শক্তি” উক্তিতে কথক নারীর সেই অন্তরের শক্তির কথা বলেছেন, যা কর্তব্যজ্ঞান বা একত্রে ঘর করার অধিকারের ঊর্ধ্বে। গল্পের প্রেক্ষাপটে এই শক্তি হলো গভীর ভালোবাসা, যা প্রিয়জনের জন্য মানুষকে ভয়, ক্লান্তি ও বিপদের মুখে দাঁড় করায়।

    ‘বিলাসী’ গল্পে কথক এক সদ্যবিধবার দৃষ্টান্ত দিয়েছেন, যিনি পঁচিশ বছর স্বামীর সঙ্গে ঘর করার পরও স্বামীর মৃতদেহের কাছে একা থাকতে পারেননি। এর বিপরীতে বিলাসী কোনো সামাজিক বন্ধন ছাড়াই মৃত্যুঞ্জয়কে দেড় মাস ধরে বনের মধ্যে একা সেবা করেছে। রাত জেগে, ভয় ও ক্লান্তি ভুলে সে তাকে যমের মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছে। এমনকি পীড়িত মৃত্যুঞ্জয়কে ফেলে যেতে না পেরে সে কথককে পথ দেখিয়ে এগিয়ে দিতে পারেনি—এতে তার উদ্বেগ ও মমতাই প্রকাশ পায়। এই সাহস ও ত্যাগের উৎস কর্তব্য নয়, ভালোবাসা।

    উদ্দীপকের সুমিতার সেবা একই শক্তির সাক্ষ্য দেয়। আত্মীয়রা এটিকে কেবল কর্তব্য ভাবলেও নাসিমা বুবু এর পেছনের অন্য শক্তিকে চিনেছেন। কথকও এই শক্তির মর্যাদা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সমাজ চাইলে এই শক্তি যাদের আছে তাদের দণ্ড দিতে পারে, কিন্তু মানুষের হৃদয় তাদের দুঃখে গোপনে অশ্রু না ফেলে পারে না। সুতরাং এই শক্তি হলো সামাজিক নিয়মের ঊর্ধ্বে বিরাজমান নিঃস্বার্থ প্রেম ও মমতা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও