সাহিত্য পাঠ • ঋতু বর্ণন
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
একাদশ শ্রেণির ছাত্রী নন্দিনী শরতের এক সকালে নানার বাড়ি বেড়াতে গিয়ে দেখে, আকাশ মেঘমুক্ত ও নির্মল। নদীর পাড়ে ফুল বাতাসে দুলছে। একটি খঞ্জনা পাখি চঞ্চল পায়ে নেচে বেড়াচ্ছে। সন্ধ্যায় জোছনায় বারান্দায় বসে নানা-নানি পুরোনো দিনের গল্প করেন; সবার মন ভালো হয়ে যায়।
- ক)(1)
আলাওল কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
- খ)(2)
“দোলাএ চামর কেশ কুসুম বিকাশে।”— বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের নন্দিনীর দেখা শরৎ ও ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার শরতের মধ্যে সাদৃশ্য নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের চিত্র ও কবিতার শরৎ-বর্ণনা একে অপরের পরিপূরক।”— যুক্তিসহ মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আলাওল ফতেহাবাদ পরগনার (বর্তমান ফরিদপুর জেলা) জালালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর শরৎ ঋতুতে আকাশ নির্মল হয় এবং প্রকৃতিতে ফুল ফুটে ওঠে। ফুলগুলো বাতাসে দুলতে থাকে, যা দেখে মনে হয় প্রকৃতি যেন চামর বা পাখা দোলাচ্ছে। ‘চামর’ চমরী গরুর পুচ্ছ দিয়ে তৈরি পাখা বিশেষ। পঙক্তিটিতে কবি শরৎকালের কুসুম বিকাশ ও তার দোলার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের নন্দিনীর দেখা শরতের সঙ্গে ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার শরতের নির্মল আকাশ, ফুলের দোলা ও খঞ্জনার উপস্থিতির সাদৃশ্য রয়েছে। কবিতায় কবি বলেছেন, ‘আইল শারদ ঋতু নির্মল আকাশে। দোলাএ চামর কেশ কুসুম বিকাশে॥’ অর্থাৎ শরতে আকাশ মেঘমুক্ত ও পরিষ্কার থাকে এবং ফুল ফুটে বাতাসে দোলে। উদ্দীপকেও নন্দিনী দেখে, আকাশ মেঘমুক্ত ও নির্মল এবং নদীর পাড়ে ফুল বাতাসে দুলছে। কবিতায় ‘নবীন খঞ্জন দেখি বড়ই কৌতুক’ বলে খঞ্জনার কথা আছে, উদ্দীপকেও খঞ্জনা পাখি নেচে বেড়াচ্ছে। কবিতায় রাতে দম্পতির মনে সুখের উল্লেখ আছে, উদ্দীপকে জোছনা রাতে সবার মন ভালো হয়ে যায়। সুতরাং নির্মল আকাশ, ফুলের দোলা, খঞ্জনা ও মনের আনন্দের দিক থেকে উদ্দীপক ও কবিতা সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আমি মন্তব্যটির সঙ্গে একমত। ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় শরতের বর্ণনা সংক্ষিপ্ত হলেও এতে প্রকৃতি ও মানবমন দুই-ই আছে। কবি শরতের নির্মল আকাশ, ফুলের বিকাশ ও দোলা, নবীন খঞ্জনের উপস্থিতি এবং রাতে দম্পতির মনে সুখের কথা বলেছেন। উদ্দীপকে নন্দিনীর চোখে আমরা শরতের মেঘমুক্ত আকাশ, ফুলের দোলা ও চঞ্চল খঞ্জনার সুস্পষ্ট দৃশ্যপট পাই। এই দৃশ্যপট কবিতার সংক্ষিপ্ত বর্ণনাকে আরও জীবন্ত ও পরিচিত করে তোলে। আবার কবিতা প্রকৃতির বর্ণনার সঙ্গে মনের অনুভূতিকে যুক্ত করেছে, উদ্দীপকের জোছনা রাতে নানা-নানির গল্প ও সবার মন ভালো হয়ে যাওয়ার মধ্যে সেই অনুভূতিরই সম্প্রসারণ আছে। উদ্দীপকে খঞ্জনের সঙ্গে ‘নবীন’ বিশেষণ বা দম্পতির সুখের মতো বিশেষ দিক নেই, কবিতায় তা আছে। আবার উদ্দীপকে বর্ণিত নদীর পাড় ও পারিবারিক পরিবেশ কবিতায় নেই। এভাবে দুটি মিলে শরতের একটি পূর্ণাঙ্গ ছবি গড়ে ওঠে বলে এরা একে অপরের পরিপূরক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও