সাহিত্য পাঠ • কলিমদ্দি দফাদার
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
বিজয়পুর গ্রামের কিশোর রাহুল মাঠ থেকে গরু নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। পথে একদল হানাদার সেনা তাকে দেখে ‘মুক্তি’ সন্দেহে চিৎকার করে ওঠে। গ্রামের প্রবীণ চৌকিদার করিম সাহেব অনুনয় করে বলেন, ‘ও রাখাল, আমি ওকে চিনি।’ কিন্তু সেনারা তাঁর কথা না শুনে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ছেলেটিকে হত্যা করে। এরপর তারা গ্রামে ঢুকে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়, লুটপাট করে এবং গ্রামবাসীকে আতঙ্কিত করে তোলে।
- ক)(1)
পুলসেরাত কী?
- খ)(2)
“মাঠ পাড়ি দেয়ার আগেই সামনের গ্রাম সাফ হয়ে যায়।”—ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের রাহুলের সাথে ‘কলিমদ্দি দফাদার’ গল্পের কোন চরিত্রের পরিণতির মিল রয়েছে? বিশ্লেষণ করো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকে ‘কলিমদ্দি দফাদার’ গল্পের সামগ্রিক বিষয় প্রতিফলিত হয়নি।”—যুক্তিসহ বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ইসলামি ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী পরকালের বিপজ্জনক সাঁকোবিশেষকে পুলসেরাত বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর খান সেনাদের পশ্চিম দিকের অভিযানের খবর মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছিল। এছাড়া তাদের গুলির শব্দ শুনে আশেপাশের গ্রামের লোক ভীত হয়ে পড়ে। প্রাণের ভয়ে তারা ঘরবাড়ি ছেড়ে নৌকায়, ধানক্ষেতের আড়ালে বা বিলের জলে আত্মগোপন করে। তাই খান সেনারা গ্রামে পৌঁছে একজন মানুষেরও সন্ধান পায়নি। এখানে গ্রামের জনশূন্য হয়ে যাওয়ার কথাই বোঝানো হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রাহুলের সাথে ‘কলিমদ্দি দফাদার’ গল্পের সাজিদ্দি খলিফার ষোলো বছরের ছেলের নির্মম পরিণতির মিল রয়েছে। গল্পে একটি কিশোর গামছা পরে তিন-চারটি গরু খেদিয়ে এবং মাথায় ঘাসের বোঝা নিয়ে মাঠ থেকে বাড়ি ফিরছিল। হানাদার সেনারা তাকে ‘মুক্তি’ বলে চিৎকার করে ওঠে। কলিমদ্দি বলে ওঠে সে রাখাল ও তার চেনা, কিন্তু সেনারা কর্ণপাত না করে গুলি করে তাকে হত্যা করে। উদ্দীপকেও একই ঘটনা ঘটেছে। নিরীহ রাখাল রাহুলকে ‘মুক্তি’ সন্দেহে গুলি করে মারা হয় এবং চৌকিদারের অনুনয় উপেক্ষিত হয়। উভয় ক্ষেত্রেই নিরপরাধ কিশোর হানাদারদের অন্ধ বর্বরতার শিকার হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর “উদ্দীপকে ‘কলিমদ্দি দফাদার’ গল্পের সামগ্রিক বিষয় প্রতিফলিত হয়নি”—মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকে শুধু হানাদার বাহিনীর বর্বরতার চিত্র ফুটে উঠেছে। নিরীহ কিশোরকে হত্যা, ঘরবাড়ি জ্বালানো ও লুটপাটের মধ্য দিয়ে তাদের নিষ্ঠুরতা প্রকাশ পেয়েছে। ‘কলিমদ্দি দফাদার’ গল্পেও এই বর্বরতা আছে। হরিমতি ও সুমতির ওপর নির্যাতন এবং রাখাল কিশোরের হত্যা তার প্রমাণ। কিন্তু গল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সাধারণ মানুষের কৌশলী প্রতিরোধ। কলিমদ্দি দফাদার সরকারি লোক সেজে খান সেনাদের একটি নড়বড়ে পুলের ওপর নিয়ে যায়। নিজে তক্তাসহ নিচে পড়ে সংকেত দিলে অপর পারে লুকানো মুক্তিযোদ্ধারা গুলি চালায়। এতে অনেক হানাদার হতাহত হয় এবং ছাউনিতে সবাই অক্ষত ফেরে না। গল্পে গ্রামবাসীর আত্মগোপন ও মুক্তিযোদ্ধাদের অদৃশ্য আক্রমণের ছবিও আছে। উদ্দীপকে এ প্রতিরোধ, বুদ্ধিমত্তা ও দেশপ্রেমের দিকগুলো অনুপস্থিত। সুতরাং উদ্দীপকে গল্পের শুধু আংশিক দিক প্রতিফলিত হয়েছে এবং মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও