রসায়ন • রাসায়নিক বন্ধন (Chemical Bond)

রসায়ন প্রশ্ন

কামাল সাহেবের দোকানে একটি অ্যালুমিনিয়ামের দণ্ডের এক প্রান্ত আগুনে ধরলে কিছুক্ষণের মধ্যে অপর প্রান্তও গরম হয়ে ওঠে। তিনি হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে একই ধাতুর টুকরো থেকে পাত তৈরি করেন, যা ভেঙে যায় না। অন্যদিকে ধাতু M এর ইলেকট্রন বিন্যাস 2, 8, 1।

  1. ক)

    সঞ্চরণশীল ইলেকট্রন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ধাতু বিদ্যুতের সুপরিবাহী কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ধাতু M এর পরমাণুগুলোর মধ্যে ধাতব বন্ধন কীভাবে গঠিত হয় ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ধাতব দণ্ডের এক প্রান্ত গরম করলে অপর প্রান্ত গরম হয় এবং ধাতুটি পিটিয়ে পাত তৈরি করা যায়- সঞ্চরণশীল ইলেকট্রনের ভূমিকা উল্লেখপূর্বক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ধাতব স্ফটিকে পারমাণবিক শাঁসগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে কোনো নির্দিষ্ট পরমাণুর অধীনে না থেকে মুক্তভাবে ঘোরাফেরা করা ইলেকট্রনকে সঞ্চরণশীল ইলেকট্রন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ধাতব স্ফটিকে ধাতব পরমাণু সর্বশেষ শক্তিস্তরের ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়ন বা পারমাণবিক শাঁসে পরিণত হয়। ত্যাগকৃত ইলেকট্রনগুলো শাঁসের মধ্যবর্তী স্থানে মুক্তভাবে ঘোরাফেরা করে। ধাতুর দুই প্রান্তে বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করলে এই সঞ্চরণশীল ইলেকট্রনগুলো ঋণাত্মক প্রান্ত থেকে ধনাত্মক প্রান্তের দিকে প্রবাহিত হয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ সৃষ্টি করে। তাই ধাতু বিদ্যুতের সুপরিবাহী।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর M এর সর্বশেষ শক্তিস্তরে (তৃতীয় স্তরে) ১টি ইলেকট্রন আছে। পরমাণুর আকার বড় হওয়ায় ঐ ইলেকট্রনের প্রতি নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ কম। তাই প্রতিটি M পরমাণু সহজেই ১টি ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়ন M⁺ (পারমাণবিক শাঁস) গঠন করে।
    M →\rightarrow M⁺ + e⁻
    স্ফটিকে এই M⁺ আয়নগুলো ত্রিমাত্রিকভাবে সুনির্দিষ্ট বিন্যাসে সজ্জিত থাকে। ত্যাগকৃত ইলেকট্রনগুলো কোনো নির্দিষ্ট পরমাণুর অধীনে না থেকে আয়নগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে সঞ্চরণশীল ইলেকট্রন হিসেবে ঘুরে বেড়ায়। দুটি M⁺ আয়নের মধ্যবর্তী ইলেকট্রনের প্রতি উভয় আয়ন স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণে আকৃষ্ট হয়, ফলে আয়নগুলো বিচ্ছিন্ন হতে পারে না। এই আকর্ষণই ধাতব বন্ধন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর তাপ পরিবহন: দণ্ডের এক প্রান্ত উত্তপ্ত করলে সেখানকার সঞ্চরণশীল ইলেকট্রনগুলো তাপশক্তি গ্রহণ করে এবং তাদের গতিবেগ বেড়ে যায়। এই ইলেকট্রনগুলো অধিক তাপমাত্রার প্রান্ত থেকে কম তাপমাত্রার প্রান্তের দিকে ছুটে যায় এবং শক্তি স্থানান্তর করে। এভাবে খুব অল্প সময়ে অপর প্রান্ত গরম হয়ে ওঠে।
    নমনীয়তা ও ঘাতসহতা: ধাতব স্ফটিকে পারমাণবিক শাঁসগুলো মুক্ত ইলেকট্রনের সাগরে অবস্থান করে। আঘাত করলে শাঁসগুলোর স্তর স্থান পরিবর্তন করে, কিন্তু সর্বত্র ছড়ানো সঞ্চরণশীল ইলেকট্রনগুলো শাঁসগুলোকে স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণে ধরে রাখে। ফলে ধাতব বন্ধন ছিঁড়ে যায় না এবং ধাতু ভেঙে না গিয়ে পাতে পরিণত হয় বা তারে টানা যায়।
    অতএব তাপ পরিবাহিতা, নমনীয়তা ও ঘাতসহতা- এ সবই ধাতুর সঞ্চরণশীল ইলেকট্রনের কারণে ঘটে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও