বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের পরিবার কাঠামো ও সামাজিকীকরণ
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
শিমুলের বাবা ও মা দুজনেই চাকরি করেন। বাবা-মায়ের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হয় এবং বাবা মাঝে মাঝে মায়ের সাথে খারাপ আচরণ করেন। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিমুল এসব দেখে ইদানীং চুপচাপ থাকে এবং সহপাঠীদের সাথে রূঢ় আচরণ করে। অন্যদিকে তার বন্ধু অনিকের বাবা-মা পরস্পরকে সম্মান করেন এবং সংসারে সবাই মিলেমিশে চলেন। অনিক সবার সাথে বিনয়ী ও আত্মবিশ্বাসী।
- ক)(1)
সামাজিক মূল্যবোধ কী?
- খ)(2)
শিশুর সামাজিকীকরণ মায়ের মাধ্যমেই সূচিত হয় — ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে শিমুলের আচরণে পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
‘শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠনে পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম’ — শিমুল ও অনিকের তুলনামূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে উক্তিটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সামাজিক মূল্যবোধ হলো সাধারণ সাংস্কৃতিক আদর্শ, যার দ্বারা সমাজের মানুষের মনোভাব, প্রয়োজন ও ভালো-মন্দের নীতিগত দিক যাচাই করা যায়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর পরিবারে শিশুর সবচেয়ে কাছের মানুষ মা-বাবা, আর তাদের মধ্যে মা আরও বেশি কাছের। মা শিশুর খাদ্যাভ্যাস গঠন ও ভাষা শিক্ষার প্রথম মাধ্যম। মায়ের ঘুমপাড়ানি গান, ছড়া ও বর্ণ শিক্ষার কৌশল শিশুর প্রাথমিক শিখনে ভূমিকা রাখে। মায়ের আচরণ ও মূল্যবোধও শিশু অনুকরণ করে। তাই শিশুর সামাজিকীকরণ মায়ের মাধ্যমেই সূচিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর শিমুলের আচরণে পরিবর্তনের মূল কারণ তার বাবা-মায়ের মধ্যকার দ্বন্দ্ব ও পারিবারিক পরিবেশ।
পাঠ্যবই অনুযায়ী পরিবারের মধ্যে শিশুর সামাজিকীকরণে প্রধান ভূমিকা রাখে মা-বাবার মধ্যকার সম্পর্ক। উদ্দীপকে শিমুলের বাবা-মায়ের মধ্যে ঝগড়া হয় এবং বাবা মায়ের সাথে খারাপ আচরণ করেন। পারিবারিক গৃহস্থালিতে নারীর নিপীড়ন শিশুর মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিশু বাবা-মায়ের আচরণ অনুকরণ করে। ফলে শিমুল মানসিকভাবে অশান্ত হয়ে চুপচাপ থাকছে এবং সহপাঠীদের সাথে রূঢ় আচরণ করছে।
অতএব, মা-বাবার দ্বন্দ্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং পরিবারে নারীর প্রতি অসম্মানজনক আচরণই শিমুলের আচরণ পরিবর্তনের কারণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে শিমুল ও অনিকের পারিবারিক পরিবেশ ভিন্ন এবং তাদের ব্যক্তিত্বেও এর স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায়।
শিমুলের ক্ষেত্রে: বাবা-মায়ের ঝগড়া ও মায়ের প্রতি বাবার খারাপ আচরণ শিমুলের ব্যক্তিত্বের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করেছে। সে চুপচাপ ও রূঢ় হয়ে উঠছে। এতে বোঝা যায়, পারিবারিক জীবনের মন্দ দিক শিশুর আচরণকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।
অনিকের ক্ষেত্রে: অনিকের বাবা-মা পরস্পরকে সম্মান করেন এবং সবাই মিলেমিশে চলেন। এ পরিবেশে অনিক সহযোগিতা, সহিষ্ণুতা, বিনয় ও ভালোবাসার মতো গুণ অর্জন করেছে। বাবা-মায়ের আত্মপ্রত্যয়ী ব্যক্তিত্বের কারণে সে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে।
তুলনা: দুজনের পরিবেশের পার্থক্যই তাদের আচরণের পার্থক্যের প্রধান কারণ। পাঠ্যবইয়ের আলোকে মা-বাবার সুসম্পর্ক শিশুর ব্যক্তিত্বের সুষ্ঠু বিকাশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। পরিবারেই সামাজিক নীতিবোধ ও নাগরিক চেতনার সূচনা হয়।
তবে বিদ্যালয়, বন্ধুদল ও শিক্ষকও শিশুর সামাজিকীকরণে ভূমিকা রাখে। তারা সহায়ক হলে শিমুলের নেতিবাচক প্রভাব কিছুটা কাটানো সম্ভব। তা সত্ত্বেও শৈশবে পরিবারের প্রভাব সবচেয়ে গভীর। সুতরাং উক্তিটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও