পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • জনসেবা ও আমলাতন্ত্র
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
একাদশ শ্রেণির ছাত্রী সুমির বড় ভাই রাফি বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন আয়োজিত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নেন। তিনি বাছাই পরীক্ষা ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে তিনি জেলা প্রশাসনে নিয়োগ পান। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি সাভারে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বনিয়াদি প্রশিক্ষণ নেন। এখন তিনি নির্ধারিত বেতন-ভাতা পান এবং নির্দিষ্ট বয়সে অবসর নিয়ে পেনশন পাবেন।
- ক)(1)
BPATC-এর পূর্ণরূপ কী?
- খ)(2)
আমলাদের নিয়োগ মেধার ভিত্তিতে হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে রাফির নিয়োগ প্রক্রিয়ার ধাপগুলো বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রশিক্ষণ ও চাকরির শর্তগুলো রাফির মতো আমলাদের দক্ষতা ও কর্মনিষ্ঠা বৃদ্ধিতে কীভাবে সহায়ক? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর BPATC-এর পূর্ণরূপ Bangladesh Public Administration Training Centre বা বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আমলারা রাষ্ট্রের নীতি বাস্তবায়ন ও প্রশাসন পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এজন্য দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তির প্রয়োজন। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিলে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা যায়। এতে স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্বের সুযোগ কমে এবং প্রশাসনের দক্ষতা বাড়ে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশে আমলাদের নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন নামক সাংবিধানিক সংস্থা। উদ্দীপকে রাফির নিয়োগ প্রক্রিয়ার ধাপগুলো নিম্নরূপ:
১. যোগ্যতার শর্ত পূরণ: পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আগে প্রার্থীকে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হয়; যেমন সাধারণত বয়স ৩০ বছরের (বিশেষ ক্ষেত্রে ৩২ বছর) বেশি না হওয়া এবং চারিত্রিক স্বচ্ছতা থাকা।
২. বাছাই পরীক্ষা: কর্মকমিশন প্রথমে বাছাই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী ছাঁটাই করে। রাফি এতে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
৩. লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা: বাছাই পরীক্ষার পর লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। রাফি দুটিতেই অংশ নিয়েছেন।
৪. নিয়োগ: লিখিত ও মৌখিক ফলাফলের ভিত্তিতে এবং পছন্দের ক্রম অনুসারে প্রার্থীদের বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাফিও এভাবে জেলা প্রশাসনে নিয়োগ পেয়েছেন। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে রাফির বনিয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ, নির্ধারিত বেতন-ভাতা প্রাপ্তি এবং অবসরে পেনশন পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ আছে। এগুলো আমলাদের দক্ষতা ও কর্মনিষ্ঠা বৃদ্ধিতে নিম্নভাবে সহায়ক:
১. প্রশিক্ষণ: নিয়োগের পর BPATC-এর মতো প্রতিষ্ঠানে বনিয়াদি প্রশিক্ষণ আমলাদের প্রশাসনিক জ্ঞান, আইনকানুন ও কাজের কৌশল সম্পর্কে দক্ষ করে তোলে। দেশে-বিদেশে চাকরিকালীন প্রশিক্ষণ তাঁদের বিশেষজ্ঞ করে গড়ে তোলে।
২. বেতন-ভাতা: সরকার নির্ধারিত হারে বেতন-ভাতা এবং পদোন্নতির সাথে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পায়। এতে আমলারা আর্থিক নিরাপত্তা পান এবং দুর্নীতির দিকে ঝোঁকার প্রয়োজন কমে।
৩. স্থায়িত্ব ও পদোন্নতি: স্থায়ী চাকরির নিশ্চয়তা থাকায় তাঁরা রাজনৈতিক চাপ ছাড়াই নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারেন। বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন ও বিভাগীয় পরীক্ষার ভিত্তিতে পদোন্নতি তাঁদের কাজের প্রতি আগ্রহী রাখে।
৪. অবসর ও পেনশন: অবসরের পর পেনশনের নিশ্চয়তা ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা কমায় এবং চাকরিজীবনে মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে উৎসাহ জোগায়।
সুতরাং, প্রশিক্ষণ ও চাকরির শর্তগুলো আমলাদের দক্ষ, নিরপেক্ষ ও কর্তব্যনিষ্ঠ করে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও