বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • জাতীয় সম্পদ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

জনাব হালিম একজন ব্যবসায়ী। তার কাছে এক বছর ধরে নির্ধারিত পরিমাণের বেশি সম্পদ জমা আছে। তিনি প্রতি বছর সেই সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ গরিব আত্মীয় ও এলাকার দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দেন। ব্যবসার মূলধনের জন্য তিনি একটি ইসলামি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। ব্যবসায় লাভ হলে সেই লাভ থেকে নির্ধারিত অংশ তিনি ব্যাংককে দেন, কোনো নির্দিষ্ট হারে সুদ দেন না।

  1. ক)

    নিসাব কী?

    (1)
  2. খ)

    ইসলামি অর্থব্যবস্থায় সুদ নিষিদ্ধ কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের জনাব হালিমের ঋণ গ্রহণের পদ্ধতিটি ইসলামি অর্থব্যবস্থার আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "জনাব হালিমের নিয়মিত কাজটি ইসলামি অর্থব্যবস্থায় সম্পদের ন্যায়ভিত্তিক বণ্টনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে"- মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ইসলামি পরিভাষায় ন্যূনতম যে পরিমাণ সম্পদ থাকলে জাকাত দিতে হয়, তাকে নিসাব বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ইসলামি অর্থব্যবস্থার ভিত্তি পবিত্র কুরআন ও হাদিস। এই বিধান অনুযায়ী সুদ লেনদেন হারাম বা নিষিদ্ধ। সুদের মাধ্যমে ঋণদাতা কোনো ঝুঁকি না নিয়েই নির্দিষ্ট আয় পায়, ফলে শোষণ সৃষ্টি হয়। তাই সুদের পরিবর্তে মুনাফার অংশীদারিত্বভিত্তিক উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর লক্ষ্য শোষণহীন ও সামাজিক কল্যাণমুখী অর্থব্যবস্থা গড়ে তোলা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জনাব হালিম ইসলামি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন এবং ব্যবসার লাভ থেকে নির্ধারিত অংশ ব্যাংককে দেন। এটি ইসলামি অর্থব্যবস্থার সুদমুক্ত ব্যাংক ব্যবস্থার প্রতিফলন।
    ইসলামি অর্থব্যবস্থায় সুদ হারাম। তাই ইসলামি ব্যাংকে সুদমুক্ত আমানত রাখা ও ঋণ গ্রহণের ব্যবস্থা আছে। উৎপাদক ও ব্যবসায়ী এই ঋণ নিতে পারেন এবং ব্যবসা থেকে প্রাপ্ত লাভ থেকে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানকে অর্থাৎ ব্যাংককে লভ্যাংশ পরিশোধ করেন। হালিমও তা-ই করছেন। এতে নির্দিষ্ট হারে সুদ না দিয়ে লাভের অংশ ভাগ করা হয়, যা শোষণহীন উৎপাদন প্রক্রিয়ার সহায়ক।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর হালিম প্রতি বছর নির্ধারিত পরিমাণ সম্পদের একটি অংশ দরিদ্রদের দিয়ে দেন। এটি ইসলামি অর্থব্যবস্থার জাকাত ব্যবস্থার প্রতিফলন।
    ইসলামি অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তির কাছে নির্দিষ্ট সময়ব্যাপী নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে তার একটি নির্ধারিত অংশ দরিদ্র জনগণের মধ্যে বণ্টন করতে হয়। সম্পদশালী ব্যক্তির জন্য জাকাত প্রদান বাধ্যতামূলক। জাকাত, সদকা, উশর ও অন্যান্য কল্যাণমূলক কার্যক্রম ন্যায়ভিত্তিক সম্পদ বণ্টনের মাধ্যম।
    এর ফলে ধনীর সম্পদ গরিবের কাছে পৌঁছায়, ধনী-গরিবের মধ্যে বৈষম্য কমে এবং সম্পদ কেবল কিছু মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হতে পারে না। এ ছাড়া দরিদ্র মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে।
    অতএব, হালিমের জাকাত প্রদান ইসলামি অর্থব্যবস্থায় আয় বৈষম্য কমিয়ে সম্পদের ন্যায়ভিত্তিক বণ্টনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, বক্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও