সহপাঠ • টীকা ও চরিত্র-পরিচিতি

সহপাঠ প্রশ্ন

অনাথ জামিলকে ছোটবেলা থেকে নিজের ছেলের মতো আদর-যত্নে মানুষ করেছিলেন সৎ কর্মকর্তা কবির সাহেব। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সালেহ অর্থের লোভ দেখালে জামিল কবির সাহেবের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে নিঃস্ব করে দেয়। এসব ঘটনায় স্ত্রী রীনার কোনো ভূমিকা ছিল না, তবু তাঁকে সব হারাতে হয়। পরে সালেহ রীনাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তিনি ঘৃণাভরে তা ফিরিয়ে দেন। কবির সাহেবের কবরে সন্ধ্যায় বাতি জ্বালিয়ে তাঁর নিঃসঙ্গ জীবন কাটতে থাকে।

  1. ক)

    কত সালে সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে লুৎফুন্নেসার বিয়ে হয়?

    (1)
  2. খ)

    মোহাম্মদি বেগকে ‘নীচ প্রকৃতির ও অকৃতজ্ঞ মানুষ’ বলা হয়েছে কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের জামিল ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের কোন চরিত্রের প্রতিচ্ছবি? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “প্রাসাদ রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলেও লুৎফুন্নেসাকে সবকিছু হারাতে হয়েছে।”— উদ্দীপকের রীনার জীবনের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ১৭৪৬ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে লুৎফুন্নেসার বিয়ে হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সিরাজউদ্দৌলার পিতা মির্জা জয়নউদ্দিন অনাথ বালক মোহাম্মদি বেগকে আদর-যত্নে মানুষ করেছিলেন। অথচ সেই মোহাম্মদি বেগ মিরনের আহ্বানে অর্থের লোভে জয়নউদ্দিনের পুত্র সিরাজউদ্দৌলাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। উপকারীর পরিবারের প্রতি এই নিষ্ঠুরতা ও কৃতজ্ঞতাহীনতার কারণেই তাকে নীচ প্রকৃতির ও অকৃতজ্ঞ বলা হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের জামিল ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মোহাম্মদি বেগ চরিত্রের প্রতিচ্ছবি। মোহাম্মদি বেগ ছিল অনাথ বালক, যাকে সিরাজের পিতা মির্জা জয়নউদ্দিন আদর-যত্নে মানুষ করেছিলেন। অথচ সে অর্থের লোভে ও মিরনের আহ্বানে বন্দি সিরাজকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। উদ্দীপকের জামিলও অনাথ অবস্থায় কবির সাহেবের স্নেহে বড় হয়েও অর্থের লোভে সালেহর কথায় তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে। উপকারীর প্রতি অকৃতজ্ঞতা ও অর্থলোভের এই দিক থেকে জামিল মোহাম্মদি বেগের প্রতিচ্ছবি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর “প্রাসাদ রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলেও লুৎফুন্নেসাকে সবকিছু হারাতে হয়েছে”—উক্তিটি যথার্থ।

    লুৎফুন্নেসা ছিলেন নবাব সিরাজউদ্দৌলার স্ত্রী। প্রাসাদ রাজনীতির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক ছিল না। তবু পলাশির যুদ্ধে সিরাজের পরাজয়ের পর তিনি স্বামীর হাত ধরে অজানা গন্তব্যে পালাতে বাধ্য হন। পথে শত্রুর হাতে ধরা পড়লে সিরাজকে মুর্শিদাবাদে এবং তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি স্বামীকে হত্যার দৃশ্য দেখেননি, মৃতদেহের সৎকারেও থাকতে পারেননি। পরে মুর্শিদাবাদে ফিরে এসে তিনি নিঃস্ব ও আপনজনহীন অবস্থায় খোশবাগের গোরস্তানে স্বামীর সমাধিতে সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বালিয়ে নিঃসঙ্গ জীবন কাটান। মিরন তাঁকে বিয়ে করতে চাইলে তিনি ঘৃণাভরে তা প্রত্যাখ্যান করেন।

    উদ্দীপকের রীনারও কবির সাহেবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে কোনো ভূমিকা ছিল না। তবু স্বামীর পতনের সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে সবকিছু হারাতে হয়। সালেহর বিয়ের প্রস্তাব তিনি ঘৃণাভরে ফিরিয়ে দেন এবং স্বামীর কবরে বাতি জ্বালিয়ে নিঃসঙ্গ জীবন কাটান। এভাবে স্বামীর প্রতি বিশ্বস্ততা ও শত্রুর প্রতি ঘৃণার দিক থেকে রীনা ও লুৎফুন্নেসার জীবন একই সুতোয় বাঁধা।

    অতএব, রাজনীতি বা ষড়যন্ত্রে নিরপরাধ হয়েও স্বামীর পরিণতির কারণে উভয় নারীকেই সবকিছু হারাতে হয়েছে। উক্তিটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও