ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • দিল্লি সালতানাত যুগ (১২০৬-১৫২৬ খ্রি.)

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব জলিল একটি বিশৃঙ্খল স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে দেখলেন শিক্ষকদের মধ্যে শৃঙ্খলা নেই এবং ছাত্ররাও কর্তৃপক্ষকে মান্য করে না। প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে তিনি নির্দেশ দিলেন, অফিসকক্ষে অপ্রয়োজনীয় হাসি-ঠাট্টা চলবে না, জ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠ কর্মচারীরা অবাধে মেলামেশা করতে পারবে না, সবাইকে নির্ধারিত পোশাকে আসতে হবে এবং প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ঢুকে সবাই মাথা নত করে সম্মান জানাবে। তিনি নিজে সব ধরনের নেশা থেকে দূরে থাকতেন এবং অন্যদেরও তা পরিহার করতে বাধ্য করেন।

  1. ক)

    গিয়াসউদ্দিন বলবনের প্রকৃত নাম কী ছিল?

    (1)
  2. খ)

    বলবন ‘জিল্লুল্লাহ’ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে জনাব জলিলের গৃহীত পদক্ষেপগুলো বলবনের কোন নীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের প্রধান শিক্ষক জলিলের নীতির সাথে বলবনের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার নীতির সাদৃশ্য ও পার্থক্য তুলনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর গিয়াসউদ্দিন বলবনের প্রকৃত নাম ছিল বাহাউদ্দিন। ‘বলবন’ ছিল তাঁর উপাধি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘জিল্লুল্লাহ’ অর্থ আল্লাহর ছায়া বা আল্লাহর প্রতিনিধি। বলবন বিশ্বাস করতেন, রাজার হৃদয় আল্লাহর অনুগ্রহের বিশেষ ভাণ্ডার এবং মানুষের মধ্যে রাজার সমকক্ষ মর্যাদা আর কারো নেই। ইলতুৎমিশের মৃত্যুর পর সুলতানের মর্যাদা অবক্ষয়িত হয়ে পড়েছিল এবং আমির-ওমরাহরা স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠেছিল। তাই সুলতানের মর্যাদা ও কর্তৃত্ব পুনরুদ্ধার এবং অভিজাতদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে তিনি এই উপাধি গ্রহণ করেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে জনাব জলিলের গৃহীত পদক্ষেপগুলো বলবনের সরকারের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার নীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকে দেখা যায়, বিশৃঙ্খল স্কুলে মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে জলিল সাহেব হাসি-ঠাট্টা বন্ধ করেন, উঁচু ও নিচু স্তরের কর্মচারীদের অবাধ মেলামেশা নিষিদ্ধ করেন, নির্ধারিত পোশাক বাধ্যতামূলক করেন এবং মাথা নত করে সম্মান জানানোর নিয়ম চালু করেন। বলবনও সিংহাসনে বসে রাজতন্ত্রের অবক্ষয়িত মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে পারসিক শাসকদের অনুকরণে জাঁকজমকপূর্ণ দরবার প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি দরবারের হাসি-ঠাট্টা বন্ধ করেন, নিম্নশ্রেণির কর্মচারীর সাথে উচ্চশ্রেণির কর্মচারীর মেলামেশা নিষিদ্ধ করেন, সর্বদা রাজকীয় পোশাকে সজ্জিত থাকতেন এবং দরবারে কুর্নিশ ও পদচুম্বন প্রথা চালু করেন। তিনি নিজে মদ পরিহার করেন এবং দরবার থেকে মদের প্রচলন তুলে দেন। অতএব, জলিল সাহেবের পদক্ষেপ বলবনের সরকারের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার নীতির অনুরূপ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের জনাব জলিলের নীতি এবং বলবনের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার নীতির মধ্যে মৌলিক সাদৃশ্যের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পার্থক্যও রয়েছে। সাদৃশ্য: দুজনেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়ে কর্তৃপক্ষের মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে চেয়েছেন। জলিল সাহেব যেমন হাসি-ঠাট্টা বন্ধ করেছেন ও অবাধ মেলামেশা নিষিদ্ধ করেছেন, বলবনও তেমনি দরবারের হাসি-ঠাট্টা বন্ধ করে উঁচু ও নিচু শ্রেণির কর্মচারীর মেলামেশা বন্ধ করেন। দুজনেই নির্ধারিত বা রাজকীয় পোশাকের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন, মাথা নত করে সম্মান জানানোর রীতি চালু করেছেন (বলবনের ক্ষেত্রে কুর্নিশ ও সুলতানের পদচুম্বন) এবং নিজে নেশা থেকে দূরে থেকে আদর্শ স্থাপন করেছেন; বলবন নিজে মদ পরিহার করেন ও দরবার থেকে মদের প্রচলন তুলে দেন। পার্থক্য: প্রথমত, বলবন পারসিক শাসকদের অনুকরণে জাঁকজমকপূর্ণ দরবার গড়ে তুলে উচ্চবংশের লোকদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিতেন, যা উদ্দীপকে নেই। দ্বিতীয়ত, বলবন নিজেকে ‘জিল্লুল্লাহ’ বা আল্লাহর ছায়া বলে ঘোষণা করে সুলতানের মর্যাদাকে ঐশী মর্যাদায় উন্নীত করেন; জলিল সাহেবের নীতিতে এমন কোনো দাবি নেই, তাঁর উদ্দেশ্য কেবল প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ফেরানো। তৃতীয়ত, বলবন বিদ্রোহী আমিরদের কঠোর হস্তে দমন করেন এবং শত্রুকে শাস্তি দিতে কুণ্ঠিত হননি, যেখানে উদ্দীপকের নীতি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলার মধ্যে সীমাবদ্ধ। মোটের ওপর, উভয়েই শৃঙ্খলা ও কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একই ধরনের বাহ্যিক পদ্ধতি নিলেও বলবনের নীতি ছিল বহুগুণ ব্যাপক, কঠোর এবং রাজতন্ত্রের ঐশী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও