গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • ড্রাফটিং

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন

সুমি তার তিন বছরের ছেলের জন্য ফতুয়া বানাতে চায়। বুক ২২ ইঞ্চি, হাতার লম্বা ৩.৫ ইঞ্চি ও মুড়ি ২.৫৪ সে.মি. ধরে সে হাতার ড্রাফটিং করল এবং কাপড় ছাঁটল। সেলাইয়ের সময় সে আগে নিচের হেম সেলাই করে ফেলল, তারপর সামনের ও পেছনের অংশের কাঁধ না জুড়েই হাতা দুটো বডির সাথে লাগাল। ফিটিং পরীক্ষা না করে সবশেষে সে কাঁধ জুড়ল। ফলে ফতুয়াটি উল্টোপাল্টা হলো এবং ছেলের গায়ে ঠিকমতো লাগল না।

  1. ক)

    তিন বছরের শিশুর ফতুয়ার জন্য হাতার লম্বা কত ইঞ্চি ধরা হয়?

    (1)
  2. খ)

    কাপড় ছাঁটার আগে কাপড় ভাঁজ করে তার ওপর ড্রাফটিংয়ের কাগজ পিন দিয়ে আটকানো হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    সুমির হাতার ড্রাফটিংয়ে ক-ঘ ও ক-খ রেখার দৈর্ঘ্য নির্ণয় করো। (১ ইঞ্চি = ২.৫৪ সে.মি.)

    (3)
  4. ঘ)

    সুমির ফতুয়া সেলাইয়ে কী কী ভুল হয়েছে? সঠিক ধাপ অনুসরণ করে সেগুলো বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর তিন বছরের শিশুর ফতুয়ার জন্য হাতার লম্বা ৩.৫ ইঞ্চি ধরা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কাপড় ভাঁজ করে ছাঁটলে একসাথে দুই স্তর কাপড় কাটা যায়, ফলে দুই অংশ সমান মাপের হয়। পিন দিয়ে ড্রাফটিংয়ের কাগজ আটকালে ছাঁটার সময় কাগজ নড়ে গিয়ে মাপ ও আকার নষ্ট হতে পারে না। এতে নকশা অনুযায়ী নির্ভুলভাবে কাপড় ছাঁটা যায় এবং সময়ও কম লাগে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর হাতার লম্বা ৩.৫ ইঞ্চি = ৩.৫ × ২.৫৪ = ৮.৮৯ সে.মি. এবং বুক ২২ ইঞ্চি = ৫৫.৮৮ সে.মি.।
    ক-ঘ = হাতার লম্বা + মুড়ি + সেলাই = ৮.৮৯ + ২.৫৪ + ১.২৭ = ১২.৭ সে.মি.।
    ক-খ = হাতার চওড়া = বুকের ১/৪ = ৫৫.৮৮ ÷ ৪ = ১৩.৯৭ সে.মি.।
    অতএব, ক-ঘ = ১২.৭ সে.মি. এবং ক-খ = ১৩.৯৭ সে.মি.।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সুমি ফতুয়া সেলাইয়ের নির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করেনি, তাই ভুল হয়েছে। সঠিক ধাপগুলো এরূপ: প্রথমে সামনের ও পেছনের অংশ একত্র করে দুই কাঁধের সেলাই, তারপর বোতামের পট্টি করে গলার পাইপিং লাগানো, এরপর দুই পাশ সেলাই করে ঝুল পরীক্ষা করে নিচ মুড়ে টাক সেলাই। এরপর হাতা দুটো আলাদাভাবে সেলাই করে বডির সাথে জোড়া, ফিটিং পরীক্ষা করে হেম সেলাই এবং সবশেষে বোতাম লাগিয়ে ইস্ত্রি।
    সুমির ভুলগুলো:
    ১. কাঁধ না জুড়ে হাতা লাগানো: আগে কাঁধ সেলাই করলে বডির কাঠামো তৈরি হয়, নইলে হাতা ঠিক জায়গায় বসে না।
    ২. আগে হেম সেলাই: ঝুল পরীক্ষা ও ফিটিং দেখার আগেই হেম করায় মাপ ঠিক করার সুযোগ থাকেনি। হেম সবার শেষে, ফিটিং পরীক্ষার পর করতে হয়।
    ৩. ফিটিং পরীক্ষা না করা: হাতা জোড়ার পর ফিটিং পরীক্ষা করলে ত্রুটি ধরা পড়ত এবং শোধরানো যেত। সুমি তা না করে সবশেষে কাঁধ জুড়েছে, ফলে আর সংশোধনের সুযোগ থাকেনি।
    এসব কারণে ফতুয়াটি উল্টোপাল্টা হয়েছে। সঠিক ধাপে সেলাই করলে পোশাক নির্ভুল ও গায়ের মাপমতো হতো।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও