ভূগোল ২য় পত্র • পরিবহন ও যোগাযোগ
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
চাঁদপুরের একটি কারখানার মালিক সাদিয়া ঢাকা থেকে প্রতি মাসে ২০ টন কাঁচামাল আনেন। সড়কপথে প্রতি টনের পরিবহন খরচ ৩০০০ টাকা। তিনি জানেন, ঢাকা থেকে চাঁদপুরে সড়কপথের পরিবহন খরচ জলপথের খরচের প্রায় আড়াই গুণ। তাঁর এলাকায় একসময় ব্যাপক সড়ক নির্মাণের ফলে নদীর অনেক শাখা মৃতপ্রায় হয়ে যায়। পরের বর্ষায় এলাকায় বন্যার তীব্রতা বেড়ে যায়।
- ক)(1)
বাংলাদেশের স্বাভাবিক পরিবহন ও যাতায়াত ব্যবস্থা কোনটি?
- খ)(2)
জলপথে ভারী পণ্য পরিবহন সুবিধাজনক কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী সাদিয়া জলপথে কাঁচামাল আনলে মাসে কত টাকা সাশ্রয় করতে পারবেন, নির্ণয় করো এবং এর কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে বন্যার তীব্রতা হ্রাসে নৌপথের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশের স্বাভাবিক পরিবহন ও যাতায়াত ব্যবস্থা হলো নৌপথ বা জলপথ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর রেল বা সড়কপথে ভারী বস্তু স্থানান্তর করা অসুবিধাজনক ও ব্যয়বহুল। পক্ষান্তরে জলপথে নৌযান বিপুল ওজনের পণ্য একসাথে বহন করতে পারে। ফলে ভারী পণ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে খুব সহজে ও কম খরচে নেওয়া যায়। এ কারণেই নারায়ণগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামে শিল্পজাত পণ্য নদীপথে পরিবাহিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সড়কপথে মাসিক খরচ = ২০ × ৩০০০ = ৬০,০০০ টাকা।
সড়কপথের খরচ জলপথের খরচের আড়াই গুণ, অর্থাৎ জলপথে খরচ = ৬০,০০০ ÷ ২.৫ = ২৪,০০০ টাকা।
মাসিক সাশ্রয় = ৬০,০০০ - ২৪,০০০ = ৩৬,০০০ টাকা।
কারণ: অভ্যন্তরীণ জলপথ বাংলাদেশের স্বাভাবিক পথ, এখানে রাস্তা বা রেললাইন তৈরির ও রক্ষণাবেক্ষণের মতো বড় ব্যয় নেই। তা ছাড়া নৌযান একসাথে প্রচুর পণ্য বহন করতে পারে, ফলে একক পণ্যের পরিবহন খরচ কমে যায়। এ কারণে জলপথে খরচ সড়কপথের তুলনায় অনেক কম। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশ বন্যাপ্রবণ দেশ, তাই এখানে বন্যার তীব্রতা কমানোর ক্ষেত্রে নৌপথের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সাদিয়ার এলাকায় ব্যাপক সড়ক নির্মাণের ফলে নদীর অনেক শাখা মৃতপ্রায় হয়ে যায় এবং পরের বর্ষায় বন্যার তীব্রতা বাড়ে। রাস্তা ও রেলপথ নির্মাণ করলে অনেক সময় পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যায়। যেমন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও সোনারগাঁয়ে ব্যাপক সড়ক নির্মাণের ফলে মেঘনা ও শীতলক্ষ্যার অনেক শাখানদী আজ মৃতপ্রায়। ফলে বৃষ্টির বা উজানের পানি সহজে নামতে পারে না এবং বন্যা তীব্র হয়।
অপরদিকে দেশে জলপথের সংখ্যা বেশি থাকলে এবং নদী-খাল সচল থাকলে বাড়তি পানি অতি দ্রুত সরে যেতে পারে। এতে বন্যার ক্ষতি কমে। একই সাথে সচল নদীপথ পরিবহনকেও সচল রাখে, যেমন সাদিয়ার সাশ্রয়ী কাঁচামাল পরিবহন।
সুতরাং বন্যার তীব্রতা হ্রাসের জন্য নদীপথ সচল রাখা ও সড়ক নির্মাণে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা অত্যন্ত জরুরি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও