বাংলা ১ম পত্র • নিরীহ বাঙালি

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

জনাব আহসান একজন বিত্তবান ব্যবসায়ী। নিজের গ্রামে ছেলেমেয়েদের জন্য একটি স্কুল নেই, গ্রামের পাশের বস্তির মানুষ ঠান্ডায় কাঁপে। অথচ তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে ‘সমাজসেবক’ খেতাব কিনেছেন এবং নামের আগে তা বসিয়ে নিমন্ত্রণপত্র ছাপিয়েছেন। গত সপ্তাহে একজন বিদেশি ধনকুবেরের মৃত্যুতে তিনি শহরের শোকসভায় সভাপতি হয়েছিলেন, অথচ নিজের প্রতিবেশীর মৃত্যুতে খোঁজও নেননি।

  1. ক)

    বাঙালির কাছে দেশের দুর্ভিক্ষ নিবারণের চেয়ে কোনটি সহজ?

    (1)
  2. খ)

    “শিল্পকার্যে পারদর্শী হওয়া অপেক্ষা B.Sc ও D.Sc পাশ করা সহজ।”— কথাটি দ্বারা লেখিকা কী বুঝিয়েছেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের জনাব আহসানের কাজকর্ম ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে উল্লিখিত সহজ কাজের তালিকার কোন কোন ক্রমিকের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ? দেখাও।

    (3)
  4. ঘ)

    “ব্যঙ্গাত্মক এ প্রবন্ধের মাধ্যমে লেখিকা বাঙালিকে সত্যিকার সামাজিক ও জাতীয় কাজে প্রণোদিত করতে চেয়েছেন।”— উদ্দীপকের জনাব আহসানের আচরণের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাঙালির কাছে দেশের দুর্ভিক্ষ নিবারণের জন্য পরিশ্রম করার চেয়ে আমেরিকার কাছে ভিক্ষা গ্রহণ করা সহজ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর লেখিকা এখানে বাঙালির সহজ পথ বেছে নেওয়ার প্রবণতাকে ব্যঙ্গ করেছেন। শিল্পে দক্ষ হতে হলে হাতে-কলমে দীর্ঘ পরিশ্রম ও সাধনা দরকার। কিন্তু ডিগ্রি অর্জন তুলনামূলক সহজ বলে বাঙালি সেদিকেই ঝোঁকে। তারা প্রকৃত দক্ষতার চেয়ে ডিগ্রির তকমাকে বেশি গুরুত্ব দেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের জনাব আহসানের কাজকর্ম প্রবন্ধের তালিকার (৩) ও (৪) নম্বর ক্রমিকের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

    (৩) নম্বরে বলা হয়েছে, অল্প অর্থব্যয়ে দেশে মহৎ কাজ করে খ্যাতি লাভ করার চেয়ে ‘খাঁ বাহাদুর’ বা ‘রায় বাহাদুর’ উপাধির জন্য অর্থ ব্যয় করা সহজ। উদ্দীপকে আহসান গ্রামে স্কুল না করে লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে ‘সমাজসেবক’ খেতাব কিনেছেন। এটি (৩) নম্বরের সঙ্গে মিলে যায়।

    (৪) নম্বরে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দরিদ্রদের শোকে ব্যথিত হওয়ার চেয়ে বিদেশি বড়োলোকের মৃত্যুতে ‘শোকসভার’ সভ্য হওয়া সহজ। উদ্দীপকে আহসান বিদেশি ধনকুবেরের শোকসভায় সভাপতি হয়েছেন, অথচ প্রতিবেশীর মৃত্যুর খোঁজও নেননি। এটি (৪) নম্বরের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যথার্থ। ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালির দোষত্রুটি হাস্যরসের আড়ালে তুলে ধরে তাকে আত্মসমালোচনায় উদ্বুদ্ধ করতে চেয়েছেন।

    ১. ব্যঙ্গের মাধ্যমে দুর্বলতা উন্মোচন: লেখিকা নিজেকে ও সমাজকে প্রশংসার ছলে ব্যঙ্গ করেছেন। যেমন উপাধি কেনা, শোকসভার সভ্য হওয়া ইত্যাদি। উদ্দীপকে আহসানের ‘সমাজসেবক’ খেতাব কেনা এবং বিদেশির শোকসভায় সভাপতিত্ব সেই লোকদেখানো আচরণেরই উদাহরণ।

    ২. প্রকৃত কাজের প্রতি আহ্বান: লেখিকা বুঝিয়েছেন, আসল দেশসেবা হলো প্রতিবেশীর দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, মহৎ কাজ করে খ্যাতি অর্জন করা। আহসান যদি খেতাব কেনার টাকায় গ্রামে স্কুল করতেন বা বস্তির মানুষকে শীতবস্ত্র দিতেন, তবে তা প্রকৃত সামাজিক কাজ হতো। প্রবন্ধের এই নীরব আহ্বান তাতে পূর্ণ হতো।

    ৩. সংশোধনের প্রত্যাশা: আহসানের আচরণে সমাজের অবহেলা ও আত্মপ্রচারের প্রবণতা ফুটে ওঠে। লেখিকা ঠিক এই প্রবণতা ত্যাগ করে বাঙালিকে ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগী করতে চেয়েছেন।

    সুতরাং আহসানের আচরণ প্রবন্ধের ব্যঙ্গের উদ্দেশ্যকেই স্পষ্ট করে। উক্তিটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও