ভূগোল ১ম পত্র • জলবায়ু অঞ্চল ও জলবায়ু পরিবর্তন

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

ফারহান ভূগোল ক্লাসে একটি তথ্যচিত্র দেখল। তথ্যচিত্রে দেখানো অঞ্চলটিতে সারা বছর প্রায় সমান গরম থাকে এবং ঋতুর পরিবর্তন বোঝা যায় না। প্রতিদিন দুপুরের পর আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামে। সেখানকার বনের গাছগুলো খুব উঁচু ও ঘন, তাই বনের নিচে সূর্যের আলো পৌঁছায় না। বনে গরিলা, বানর ও গেছো সাপ দেখা গেলেও বাঘ বা সিংহ চোখে পড়ল না।

  1. ক)

    ক্যানপি কী?

    (1)
  2. খ)

    নিরক্ষীয় অঞ্চলে ঋতু পরিবর্তন তেমন বোঝা যায় না কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত অঞ্চলে প্রতিদিন দুপুরের পর বৃষ্টিপাত হওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত অঞ্চলের উদ্ভিদ ও জীবজন্তুর বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সেখানকার জলবায়ুর সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর নিরক্ষীয় অঞ্চলের বৃষ্টিবহুল অরণ্যে মাটি থেকে প্রায় ৩০ মিটার (১০০ ফুট) উচ্চতায় গাছের শাখা-প্রশাখা ও পাতা পরস্পর ঘন সন্নিবেশিত হয়ে যে সবুজ আচ্ছাদনের সৃষ্টি করে, তাকে ক্যানপি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্য সারা বছর লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য প্রায় সমান থাকে। ফলে সারা বছরই তাপমাত্রা অধিক থাকে। জানুয়ারি ও জুলাই মাসের তাপমাত্রার পার্থক্য নেই বললেই চলে। তাছাড়া সারা বছরই প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টিপাত হয়। এ কারণে সেখানে ঋতু পরিবর্তন তেমন লক্ষ করা যায় না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বর্ণিত অঞ্চলটি নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল। এখানে প্রতিদিন বিকেলে পরিচলন প্রক্রিয়ায় বৃষ্টিপাত হয়। প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ:
    ১. অত্যধিক উত্তাপ ও বাষ্পীভবন: এ অঞ্চলে সূর্য সারা বছর লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং জলভাগ বেশি থাকায় সারা দিন সূর্যের তাপে প্রচুর পানি বাষ্পীভূত হয়ে বায়ুতে জলীয় বাষ্প বৃদ্ধি পায়।
    ২. বায়ুর ঊর্ধ্বগমন: প্রবল উত্তাপে বায়ু উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে ঊর্ধ্বে উঠতে থাকে এবং ভূপৃষ্ঠে স্থায়ী নিম্নচাপ বিরাজ করে। ফলে উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু এখানে এসে ঊর্ধ্বগামী হয়।
    ৩. শীতল ও ঘনীভবন: ঊর্ধ্বগামী উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ওপরে গিয়ে প্রসারিত ও শীতল হয়। ফলে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মেঘ সৃষ্টি করে।
    ৪. বৃষ্টিপাত: দুপুরের পর অপরাহ্নে (বিকেলে) এ মেঘ থেকে প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটে।
    এভাবে প্রতিদিনই পরিচলন প্রক্রিয়ায় বৃষ্টি হয়, যার বার্ষিক গড় ১৫০ থেকে ২৫০ সেন্টিমিটার।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বর্ণিত নিরক্ষীয় অঞ্চলের উদ্ভিদ ও জীবজন্তুর বৈশিষ্ট্য সেখানকার জলবায়ু দ্বারা সরাসরি প্রভাবিত। এ সম্পর্ক নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য: সারা বছর অধিক তাপ ও প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে এখানে প্রশস্ত পত্রযুক্ত চিরহরিৎ গভীর বনের সৃষ্টি হয়েছে। গাছগুলো খুব উঁচু (কোথাও প্রায় ৪৯ মিটার) ও ঘন; সেগুন, মেহগনি, আবলুস, রাবার প্রভৃতি এখানকার উল্লেখযোগ্য বৃক্ষ।
    ২. বনের নিচে ঝোপঝাড় কম: গাছের ঘন শাখা-প্রশাখায় ক্যানপি তৈরি হয় বলে সূর্যের আলো বনের নিচে পৌঁছায় না। ফলে মাটির কাছাকাছি ঝোপঝাড় ও লতাগুল্ম কম জন্মে।
    ৩. বৃক্ষচারী প্রাণীর আধিক্য: নিবিড় অরণ্যে পদচারী পশুর চলাচল প্রায় অসম্ভব। তাই এখানে গরিলা, বানর, গেছো সাপ ও পাখির মতো বৃক্ষচারী প্রাণী বেশি দেখা যায়।
    ৪. হিংস্র মাংসাশী প্রাণীর অনুপস্থিতি: ঘন বনে পদচারী পশুর চলাচল কঠিন বলে বাঘ, সিংহ, হায়েনার মতো হিংস্র মাংসাশী প্রাণী এ অঞ্চলে দেখা যায় না।
    ৫. মাটির প্রকৃতি: প্রচুর বৃষ্টিতে মাটি সব সময় ভেজা থাকলেও বিশেষ উর্বর নয়।
    সুতরাং নিরক্ষীয় অঞ্চলের উচ্চ তাপমাত্রা ও অধিক বৃষ্টিপাত সেখানকার উদ্ভিদ ও প্রাণিজগতের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে দিয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও