বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

সবুজ সংঘের ৩০০ সদস্যের সাধারণ পরিষদের নির্বাচনে ‘উন্নয়ন পরিষদ’ প্যানেল ১৬৯টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। প্যানেলটি আগেই ঘোষণা করেছিল, এ নির্বাচন তাদের গৃহীত দাবিনামার পক্ষে সদস্যদের গণভোট। কিন্তু বিদায়ী কমিটি নানা অজুহাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা করতে থাকে। সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে দৃঢ়ভাবে প্যানেলের পাশে দাঁড়ায়।

  1. ক)

    ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    আওয়ামী লীগ ১৯৭০ সালের নির্বাচনকে ৬ দফার পক্ষে গণভোট বলেছিল কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ‘উন্নয়ন পরিষদ’-এর বিজয় ১৯৭০ সালের নির্বাচনের কোন ফলাফলের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের বিদায়ী কমিটির আচরণের সাথে ১৯৭০ সালের নির্বাচন-পরবর্তী পাকিস্তানি শাসকদের আচরণ মিলিয়ে বিশ্লেষণ কর। এর ফলে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে কী প্রভাব পড়েছিল?

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ১৯৭০ সালের ৭ই ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ৬ দফা ছিল বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের দাবিনামা এবং আওয়ামী লীগ এই দাবির ভিত্তিতেই নির্বাচনে অংশ নেয়। আওয়ামী লীগ চেয়েছিল নির্বাচনে জনগণের রায়ের মাধ্যমে প্রমাণ করতে যে ৬ দফা ও ১১ দফার প্রতি জনগণের সমর্থন রয়েছে। তাই নির্বাচনকে তারা ৬ দফার পক্ষে গণভোট হিসেবে অভিহিত করে। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় সেই সমর্থনই স্পষ্ট করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ‘উন্নয়ন পরিষদ’-এর বিজয় ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের ৩০০ আসনের মধ্যে পূর্ববাংলার জন্য নির্ধারিত ১৬২টি আসনের ১৬০টি আসন আওয়ামী লীগ লাভ করে। সংরক্ষিত ৭টি মহিলা আসনসহ দলটির মোট আসন দাঁড়ায় ১৬৯টি, ফলে জাতীয় পরিষদে তারা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। প্রাদেশিক পরিষদেও ১০টি সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ মোট ৩১০টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৯৮টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

    উদ্দীপকে ৩০০ সদস্যের পরিষদে প্যানেলের ১৬৯টি আসনে জয়লাভ ঠিক জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগের ১৬৯টি আসনের মতো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতাকেই নির্দেশ করে। নির্বাচনকে দাবিনামার পক্ষে গণভোট বলাও ৬ দফার পক্ষে গণভোটের ঘোষণার সাথে মেলে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের বিদায়ী কমিটির আচরণ ১৯৭০ সালের নির্বাচন-পরবর্তী পাকিস্তানি শাসকদের আচরণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    আচরণের তুলনা: উদ্দীপকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পরও বিদায়ী কমিটি নানা অজুহাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা করে। তেমনি ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর পাকিস্তান সরকার ও স্বার্থান্বেষী মহলের কাছে এটি ছিল বিরাট পরাজয়। তারা বাঙালির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিরোধিতা ও ষড়যন্ত্র করতে থাকে।

    নির্বাচনের পটভূমি ও ফল: ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে আইয়ুব খান পদত্যাগ করলে ইয়াহিয়া খানের সরকার সাধারণ নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। ৭ই ডিসেম্বর এক ব্যক্তির এক ভোটের ভিত্তিতে এ নির্বাচনে ৬ দফা ও ১১ দফার প্রতি জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন স্পষ্ট হয়।

    প্রভাব: উদ্দীপকে সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্যানেলের পাশে দাঁড়ায়। তেমনি পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ পশ্চিম পাকিস্তানের কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেয়। নির্বাচন বাঙালি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রাকে মুক্তিযুদ্ধের চরিত্র দানে বিশাল ভূমিকা রাখে। ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জনগণকে স্বাধীনতার পথে ঠেলে দেয় এবং পরিণতিতে ১৯৭১ সালে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও