ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমী খিলাফত (৯০৯-১১৭১ খ্রি.)

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

একটি রাজনৈতিক দলের সংগঠক জনাব মোতাহের নিজের পরিচয় গোপন রেখে শিক্ষকের বেশে দূরবর্তী এক অঞ্চলে যান। সেখানে তিনি একটি বড় জনগোষ্ঠীর আস্থা অর্জন করেন এবং প্রচার করেন যে, শীঘ্রই এক মহান নেতা আসবেন, জনগোষ্ঠী তাঁকে সাহায্য করবে। অবশেষে সেই জনগোষ্ঠীর সহায়তায় মোতাহের তাঁর দলের নেতা জনাব সোহেলকে ক্ষমতায় বসান। কিন্তু ক্ষমতা পেয়ে সোহেল মোতাহেরকে প্রাণে মেরে ফেলেন।

  1. ক)

    আবু আব্দুল্লাহ আল-শিয়ী আব্বাসীয় খিলাফতের আমলে কোন পদে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    মাহদী আবু আব্দুল্লাহ আল-শিয়ীকে হত্যা করেন কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের জনাব মোতাহেরের কার্যক্রমে ইফ্রিকিয়ায় আল-শিয়ীর প্রচারকৌশলের যে দিকগুলো ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'Though Mahdi was the king, Abu Abdullah As-Shii was the king maker.' - উদ্দীপক ও পাঠ্যবইয়ের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আবু আব্দুল্লাহ আল-শিয়ী আব্বাসীয় খিলাফতের আমলে 'মুহতাসিব' (বাজার ও নৈতিকতা তদারককারী কর্মকর্তা) পদে ছিলেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আল-শিয়ী ওবায়দুল্লাহকে মাহদী বলে ঘোষণা করেছিলেন এবং প্রচার করেছিলেন যে, ইমাম মাহদীর অলৌকিক ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু ক্ষমতায় বসার পর ওবায়দুল্লাহর মধ্যে সেই অলৌকিক ক্ষমতার কিছুই কাতামা গোত্রের প্রধানগণ ও আল-শিয়ী দেখতে পেলেন না। বিষয়টি জানতে পেরে মাহদী আল-শিয়ীকে দরবারে ডেকে পাঠান এবং ঘাতক নিযুক্ত করে তাঁর প্রাণনাশ করেন। নিজের ক্ষমতা নিষ্কণ্টক করা এবং আল-শিয়ীর প্রভাব ও জনপ্রিয়তা দমন করাই ছিল এর মূল কারণ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের জনাব মোতাহেরের কার্যক্রমে আবু আব্দুল্লাহ আল-শিয়ীর গোপন ও কৌশলী প্রচারকাজের প্রতিফলন ঘটেছে।

    আল-শিয়ী ইবনে হাওসাবের নির্দেশে ইসমাইলীয় মতবাদ প্রচারের জন্য ৯০০ সালের দিকে ইফ্রিকিয়ায় আসেন। তিনি হজ মৌসুমে মক্কা গিয়ে কাতামা গোত্রের হজযাত্রীদের সাথে শিক্ষকের বেশে ইফ্রিকিয়ায় পৌঁছান এবং নিজের আসল পরিচয় গোপন রাখেন। এভাবে তিনি সহজেই কাতামা গোত্রের আস্থা অর্জন করেন এবং তাদের 'আহলুল বায়তের' ইমামে বিশ্বাসী করে তোলেন। তিনি প্রচার করেন যে, অতি শীঘ্রই ইমাম মাহদীর আগমন ঘটবে এবং কাতামা গোত্র তাঁকে সাহায্য করবে। কাতামারা তাঁকে সাধু-দরবেশ বলে গ্রহণ করে এবং মাহদীকে সাহায্যের আশ্বাস দেয়।

    উদ্দীপকে মোতাহেরও শিক্ষকের বেশে পরিচয় গোপন রেখে একটি জনগোষ্ঠীর আস্থা অর্জন করেন এবং এক মহান নেতার আগমনের কথা প্রচার করে তাদের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি আদায় করেন। এ কারণে উদ্দীপকের মোতাহেরের কার্যক্রম আল-শিয়ীর পরিচয় গোপন করে প্রচার এবং মাহদীর আগমনের প্রতিশ্রুতিদানের কৌশলের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটির অর্থ হলো, ওবায়দুল্লাহ আল-মাহদী ফাতেমীয় খিলাফতের প্রথম শাসক হলেও সেই খিলাফতের সিংহাসন নির্মাণ করেছিলেন আবু আব্দুল্লাহ আল-শিয়ী। উদ্দীপকেও সোহেল ক্ষমতায় বসলেও তাঁকে ক্ষমতায় বসানোর কারিগর ছিলেন মোতাহের। উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ, যা নিচের আলোচনায় স্পষ্ট হয়।

    ১. প্রচারের মাধ্যমে ক্ষেত্র প্রস্তুত: আল-শিয়ী ইফ্রিকিয়ায় এসে কাতামা গোত্র ও বারবারদের মধ্যে ইসমাইলীয় মতবাদ ও মাহদীর আগমনের কথা প্রচার করে একটি অনুগত জনগোষ্ঠী তৈরি করেন।

    ২. সামরিক বিজয়: তিনি কাতামাদের সাহায্যে মাজানা, সাস, মেরিনদা প্রভৃতি অঞ্চল জয় করেন এবং আগলাবী শাসক জিয়াদাতুল্লাহকে পরাজিত করে ৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে রাক্কাদায় প্রবেশ করে শাসনভার গ্রহণ করেন।

    ৩. মাহদীর মুক্তি ও অভিষেক: তিনি সিজিলমাসায় বন্দী ওবায়দুল্লাহকে মুক্ত করেন, জনতার সামনে তাঁকেই 'প্রভু (ইমাম)' বলে ঘোষণা দেন এবং কায়রোয়ানের মসজিদে 'মাহদী' বলে প্রতিষ্ঠিত করেন।

    ৪. অবদান অস্বীকার: ঐতিহাসিকদের মতে আল-শিয়ী ছাড়া ফাতেমীয় শাসন প্রতিষ্ঠিত হতো কি না, তাতেই সন্দেহ ছিল। অথচ মাহদী ক্ষমতা পেয়ে তাঁকেই হত্যা করেন, যেমন উদ্দীপকে সোহেল মোতাহেরকে হত্যা করেন।

    সুতরাং শাসক হিসেবে মাহদীর নাম সামনে থাকলেও ফাতেমীয় খিলাফতের ভিত্তি গড়ার প্রকৃত কারিগর ছিলেন আল-শিয়ী, তাই তাঁকে 'কিং মেকার' বলা সম্পূর্ণ যুক্তিসঙ্গত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও